শোয়েব আক্তার »
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ বা বিসিএলের দ্বিতীয় রাউন্ডে আজ দুটি ম্যাচ শুরু হয়েছে। বিসিএলের তৃতীয় ম্যাচে কক্সবাজারের শেখ কামাল স্টেডিয়ামে দাপট দেখিয়েছেন ব্যাটসম্যান’রা অন্যদিকে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বোলিং তোপে পড়ে ক্রিজে এক প্রকার দাঁড়াতেই পারেন নি ব্যাটসম্যান’রা।
সাউথজোন ও ইস্টজোনের মধ্যকার তৃতীয় ম্যাচে শেখ কামাল স্টেডিয়ামে টসে জিতে ফিল্ডিং এর সিদ্ধান্ত নেন ইস্ট জোনের অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। সাউথজোনের পক্ষে তিনজন ব্যাটসম্যান তিন অঙ্কের দেখা পেয়েছেন। এরমধ্যে নুরুল হাসান সোহান দেড়’শ রান করে অপরাজিত আছেন।
ওপেনার শাহরিয়ার নাফিস(১), ফজলে মাহমুদ(১২), শামসুর রহমান(০) ও আল-আমিন(১৮) একে একে আউট হয়ে গেলেও এনামুল হক বিজয় ফার্স্ট ক্লাস ক্যারিয়ারের ২১তম সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১৫৫ বলে ১২৯ রান করার পথে ৪ টি ছয় ও ১৪ টি চার হাঁকান তিনি। দলীয় ২৫০ রানের মাথায় রান আউটে কাটা পড়ে আউট হোন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
বিজয় আউট হওয়ার পর সেঞ্চুরি তুলে নেন উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান ও শেখ মাহেদি হাসান। ২২০ বল থেকে ১৫৫ রান করে অপরাজিত আছেন সোহান। ৩টি ছয় ও ১৯টি চারে সাজানো ছিল সোহানের ইনিংসটি। এছাড়া শেখ মাহেদি হাসান ৮৫ বলে ১১২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। মাহেদির ইনিংসটি ৮টি ছয় ও ১০ টি চারে সাজানো ছিল।
এই তিন জনের শতকের উপর ভর করে ৬ উইকেট হারিয়ে ৪৪৩ রান সংগ্রহ করে দিনের খেলা শেষ করেছে সাউথজোন। ইস্টজোনের পক্ষে রেজাউর রহমান ৭৯ রানের বিনিময়ে ৩টি এবং হাসান মাহমুদ ও সাকলাইন সজিব যথাক্রমে ৭৩ ও ১১৯ রানের বিনিময়ে ১টি করে উইকেট লাভ করেন।
অন্যদিকে নর্থজোন ও সেন্ট্রালজোনের মধ্যকার বিসিএলের চতুর্থ ম্যাচে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন নর্থজোনের অধিনায়ক নাইম ইসলাম। অধিনায়কের সিদ্ধান্তের যর্থাতথা প্রমান করে শুরু থেকেই উইকেট তুলে নিতে থাকেন নর্থজোনের বোলার’রা।
বিশেষ করে তাসকিন আহমেদের বোলিং তোপে পড়ে একে একে আউট হয়ে যান আব্দুল মজিদ(৫), মার্শাল আয়ূব(১), তাইয়্যূবুর রহমান(০) ও শহিদুল ইসলাম(৫)। এছাড়া মোহাম্মদ নাইম(০) ও শুভাগত হোম কে আউট করেন সালাউদ্দিন শাকিল।
সেন্ট্রালজোনের একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে অর্ধ-শতরান করেন রকিবুল হাসান। একপ্রান্ত আগলে রেখে ১২৭ বল থেকে ১০ টি চারের সাহায্যে ৭০ রান করে আরিফুল হকের বলে তানভীর হায়দারের হাতে ত্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
হাফ-সেঞ্চুরি করার পথে শুভাগত হোম(২১),জাকির আলি(১৯), ও আরাফাত সানি’র(২৫)* সাথে ছোট ছোট জুটি গড়ে তুলেন। শেষ পর্যন্ত ৪৮.৫ ওভার থেকে ১৭০ রানে অল-আউট হয়ে যায় সেন্ট্রাল জোন।
১৭০ রানে পিছিয়ে থেকে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ভালো শুরু পায় নর্থজোন। দুই উদ্ভোধনী ব্যাটসম্যান রণি তালুকদার ও জুনায়েদ সিদ্দিকি ৬৯ রানের জুটি গড়ে তুলেন। শুভাগত হোমের করা ২২তম ওভারের তৃতীয় বলে ব্যক্তিগত ১৯ রানে রনি তালুকদার বোল্ড হয়ে গেলে এ জুটি ভাঙ্গে।
শুধু তাই নয় এর পরের ১০ ওভারে আরও দুটি উইকেট হারায় নর্থজোন। ২৫তম ওভারের প্রথম বলে মুকিদুল ইসলাম অংকন কে তাইয়্যূবুর রহমানের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে পাঠান আরাফাত সানি। ৩১তম ওভারের পঞ্চম বলে জুনায়েদ সিদ্দিকিকে আবারও তাইয়্যূবুর রহমানের তালুবন্দি করান মুস্তাফিজুর রহমান।
অবশ্য দিনের বাকি ৫.১ ওভার নিরাপদেই কাটিয়ে দেন দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও নাইম ইসলাম। নাইম ১৮(৩৬) ও মুশফিক ১(১৫) রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। ৮১ রানে পিছিয়ে থেকে আগামীকাল আবারও নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নামবে নর্থজোন। হাতে আছে সাত উইকেট।
