শোয়েব আক্তার »
সফরত ভারতের বিপক্ষে না জেতার পণ করে মাঠে নেমেছিল নিউজিল্যান্ড। পাঁচ ম্যাচ টি-২০ সিরিজে অন্তত তিনটি ম্যাচ জয়ের খুব কাছে ছিল কিইউই’রা। তবুও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হারতে হয়েছে তাদের। এর মধ্যে দুটি ছিল সুপার ওভারে হার। প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা দিয়েছিল ভারত।
অবশেষে রেকর্ড গড়ে পরাজয়ের বৃত্ত ভাঙ্গতে পেরেছে নিউজিল্যান্ড। রস টেইলরের সেঞ্চুরি এবং হেনরি নিকলস ও টম লাথামের জোড়া অর্ধ-শতকে এগারো বল ও চার উইকেট হাতে রেখেই ভারতের দেওয়া ৩৪৮ রানের বিশাল লক্ষ্য টপকে যায় নিউজিল্যান্ড।
নিয়মিত অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের অনুপস্থিতিতে টস জিতে ফিল্ডিং এর সিদ্ধান্ত নেন টম লাথাম। শ্রেয়াস আইয়ারের প্রথম ওডিআই শতক এবং লোকেশ রাহুল ও বিরাট কোহলির অর্ধ-শতকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৪৭ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় ভারত।
১ ছয় ও ১১ চারের সাহায্যে ১০৭ বলে ১০৩ রান করে টিম সাউদির বলে মিচেল স্যাটনারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হোন শ্রেয়াস আইয়ার। সেঞ্চুরি গড়ার পথে বিরাট কোহলির সাথে ১০২ ও লোকেশ রাহুলের সাথে ১৩৬ রানের জুটি গড়ে তোলেন।
এছাড়া ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি ৫১ রান করে ইশ সোদী’র বলে বোল্ড হয়ে যান। শেষ দিকে লোকেশ রাহুল ৬৪ বল থেকে ৮৮ রানের অপরাজিত এক ইনিংস খেলেন। রাহুলের ইনিংসটি ৬ টি ছয় ও ৩ টি চারে সাজানো ছিল। এছাড়া কেদার যাদব ও ১৫ বল থেকে ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন।
রোহিত শর্মা’র অনুপস্থিতিতে দুই অভিষিক্ত ওপেনার পৃথিবী সাহা ও মায়ঙ্কা আগারওয়াল ৫০ রানের উদ্ভোধনী জুটি গড়ে তুলেন। পৃথিবী ২০ ও আগারওয়াল ৩২ রান করে আউট হয়ে যান। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টিম সাউদি ২টি, কলিন ডি গ্রান্ডহোম ও ইশ সোদী ১টি করে উইকেট লাভ করেন।
জিততে হলে রেকর্ড গড়তে হতো নিউজিল্যান্ডকে। কেননা প্রায় ১৩ বছর আগে অর্থাৎ ২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৪৭ রান তাড়া করে জেতার সর্বশেষ রেকর্ড ছিল নিউজিল্যান্ডের।
ইতিহাস গড়ার পথে উদ্ভোধনী জুটিতে দারুন শুরু করেন দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও হেনরি নিকলস। শারদুল ঠাকুরের করা ১৬তম ওভারের চতুর্থ বলে ব্যক্তিগত ৩২ রানে মার্টিন গাপটিল আউট হয়ে গেলে দুজনের ৮৫ রানের জুটি ভেঙ্গে যায়। ২০তম ওভারের প্রথম বলে টম বাউন্ডেল কুলদীপের বলে আউট হয়ে গেল ক্রিজে আসেন রস টেইলর।
২৯তম ওভারের তৃতীয় বলে ব্যক্তিগত ৭৮(৮২) রানে বিরাট কোহলির হাতে রান আউটে কাটা পড়েন হেনরি নিকলস। নিকলসের ইনিংসটি ১১ টি চারে সাজানো ছিল। পঞ্চম উইকেট জুটিতে রস টেইলর ও অধিনায়ক টম লাথাম ১৩৮ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তুলেন। টম লাথাম ব্যক্তিগত ৬৯ রানে আউট হয়ে গেলেও ক্যারিয়ারের ২১তম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন রস টেইলর।
টেইলর ৮৪ বল থেকে ১০৯ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলেন। ৪ টি ছয় ও ১০ টি চারের সাহায্যে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। শেষ ৪৮.১ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে জয়সূচক ৩৪৮ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড এখন এটি। গেল বছর ৩৫৯ রান করে অস্ট্রেলিয়া ভারতের বিপক্ষে জয় লাভ করেছিল। তিন ম্যাচ ওডিআই সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল নিউজিল্যান্ড।
ভারতের পক্ষে কুলদীপ যাদব ৮৪ রানের বিনিময়ে ২ টি উইকেট লাভ করেন। এছাড়া মোহাম্মদ সামি ও শারদুল ঠাকুর ১ টি করে উইকেট লাভ করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত:৩৪৭/৪(৫০)
শ্রেয়াস আইয়ার:১০৩(১০৭), লোকেশ রাহুল:৪৪(৬৪)*
টিম সাউদি:২/৮৫(১০), ইশ সোদী:১/২৭(৪)নিউজিল্যান্ড:৩৪৮/৬(৪৮.১)
রস টেইলর:১০৯(৮৪)*, হেনরি নিকলস:৭৮(৮২)
কুলদিপ যাদব:২/৮৪(১০), মোহাম্মদ সামি:১/৬৩(৯.১)ফলাফল: নিউজিল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্যা ম্যাচ: রস টেইলর, নিউজিল্যান্ড।
