দুর্জয় দাশ গুপ্ত »
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ইতিমধ্যে পেয়ে গেছে দুই ফাইনালিস্ট। এ আসরের ফাইনালে মুশফিকুর রহীমের খুলনা টাইগার্সের প্রতিপক্ষ আন্দ্রে রাসেলের রাজশাহী রয়্যালস।
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে দেশী কোচ হিসেবে এই আসরের শুরু থেকেই ছিলেন ঢাকা প্লাটুনের কোচ মোঃ সালাহউদ্দিন। কিন্তু সালাহউদ্দিন ছাড়াও আরো একজন দেশী কোচ আছেন যার সামনে সুযোগ রয়েছে প্রথমবারের মত বিপিএলে কোচিংয়ের দায়িত্ব পেয়ে শিরোপা জয়ের। বলছিলাম বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার রাজিন সালেহ’র কথা।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রাজিন সালেহ আহমেদ প্রথমবারের মত কোচিংয়ে আসেন জাতীয় ক্রিকেট লিগ দিয়ে। এ বছর জাতীয় ক্রিকেট লিগে সিলেট বিভাগীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পান তিনি। আর দায়িত্ব পেয়ে বাজিমাত করেছেন রীতিমত। জাতীয় ক্রিকেট লিগের টায়ার ২ – এ সিলেট বিভাগীয় দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিগত আসরগুলোতে সিলেট বিভাগীয় দল যেখানে পয়েন্ট টেবিলের শেষের দিকে থেকে লিগ শেষ করতো সেখানে রাজিন সালেহ’র হাত ধরে প্রথম আসরেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি টায়ার ২ থেকে টায়ার ১ এ উত্তীর্ণ হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে শুরুতে রাজশাহী রয়্যালসের সহকারী কোচের দায়িত্ব পান রাজিন সালেহ। আর প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার ওয়াইস শাহকে। দুজনের মিল বন্ধনে আসরের শুরু থেকেই ফেভারিট তকমা পায় রাজশাহী রয়্যালস। কোচিং স্টাফে ওয়াইস শাহ, রাজিন সালেহ ছাড়াও দলের মেন্টর হিসেবে দলটি পায় আরেক সাবেক ক্রিকেটার হান্নান সরকারকে। নিয়মিত বিশ্বের বড় বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট মাতানো আন্দ্রে রাসেল, শোয়েব মালিক, রবি বোপারার মত বড় বড় নামগুলোকে দলে নেয় রাজশাহী। এছাড়া দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার অলক কাপালি, জাতীয় দলের ওপেনার লিটন দাস, তরুণ তুর্কি আফিফ হোসেন ধ্রুব, পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বিরা আছেন পদ্মা পাড়ের দলটিতে।
বঙ্গবন্ধু বিপিএলের রাউন্ড রবিন লিগ যখন শেষ পর্যায়ে তখনই রাজশাহী রয়্যালকে গুডবাই জানান ইংলিশ কোচ ওয়াইস শাহ। কিন্তু ওয়াইস শাহ চলে গেলেও দলের উপর এর কোন প্রভাব পড়তে দেননি অভিজ্ঞ রাজিন সালেহ। ওয়াইস শাহ’র বিদায়ে রাজশাহী রয়্যালসের প্রধান কোচের দায়িত্ব আসে রাজিন সালেহ’র কাঁধে। পয়েন্ট টেবিলের ২য় স্থানে থেকে প্লে-অফ নিশ্চিত করা দলটি আরো একটি ধাক্কা খায় অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রবি বোপারা অসুস্থতায় পড়লে। তবে আশার কথা হলো টুর্নামেন্টের মহা-গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এত বড় ধাক্কাও সামলে উঠেছে রাজশাহী রাজিন সালেহ আহমেদের হাত ধরে। আরেক অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নাওয়াজ যেখানে শুরুর দিকটায় নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন তার উপরই আস্থা রেখেছেন তিনি। আর কোচের আস্থার প্রতিদানও দিয়েছেন মোহাম্মদ নাওয়াজ। কোয়ালিফায়ার ২ ম্যাচে টুর্নামেন্টের আরেক ফেভারিট দল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে ব্যাটে-বলে পারফর্ম করেছেন তিনি। এছাড়াও রাজশাহী রয়্যালসের অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেলের ব্যাট পুরো টুর্নামেন্টে একবারও জ্বলে উঠতে পারে নি। কিন্তু তার উপরেও আস্থা ছিলো রাজশাহী কোচ রাজিন সালেহ আহমেদের। অভিজ্ঞ এই কোচ জানতেন দলের কঠিন সময়ে ঠিকই জ্বলে উঠবে রাসেলের ব্যাট। ঠিক হলোও তাই। রাসেলের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ফাইনালে জায়গা করে নেয় রাজশাহী রয়্যালস।

সম্প্রতি কোচিংয়ে এসে বাজিমাত করা সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক রাজিন সালেহ আহমেদ মুখোমুখি হয়েছেন নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডট কমের। চলুন দেখে নেওয়া যাক সাক্ষাৎকার পর্বটি।
নিউজ ক্রিকেট ২৪ঃ আমরা সবাই জানি বঙ্গবন্ধু বিপিএলে রাজশাহী রয়্যালসের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আপনি। কিন্তু টুর্নামেন্টের শেষ দিকে এসে রাজশাহীর প্রধান কোচ ওয়াইস শাহ চলে গেলে প্রধান কোচের দায়িত্ব পান আপনি। এখন আপনার অধীনেই পদ্মা পাড়ের দল রাজশাহী রয়্যালস বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ফাইনালে। আপনি পুরো ব্যাপারটা কতটা উপভোগ করছেন?
রাজিন সালেহঃ অবশ্যই আমার জন্য এটি বড় একটি পাওয়া। বর্তমানে রাজশাহী রয়্যালসের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছি। এছাড়া বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ফাইনালিস্ট একটি দলের প্রধান কোচ হওয়া গর্বের বিষয়। এছাড়া আমাদের দলের ম্যানেজার হিসেবে আছেন সাবেক ক্রিকেটার হান্নান সরকার৷ তিনি অনেক ক্ষেত্রে আমার কাজগুলোকে আরো সহজ করে দিয়েছেন। আমরা একসাথে বাংলাদেশ জাতীয় দলেও খেলেছি। এর বাইরে ক্রিকেটাররাও আমাকে বেশ সাহায্য করছেন৷ বিশেষ করে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার শোয়েব মালিকের কথা বলতেই হয়।
নিউজ ক্রিকেট ২৪ঃ সম্প্রতি জাতীয় ক্রিকেট লিগে সিলেট বিভাগীয় দলের হেড কোচের দায়িত্বে ছিলেন আপনি। আর আপনার হাত ধরেই জাতীয় ক্রিকেট লিগের টায়ার -২ এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সিলেট বিভাগীয় দল। কোচ হিসেবে আপনার এই অর্জনটাকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
রাজিন সালেহঃ জাতীয় লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে মূল কাজটা করেছে ছেলেরা। তারা নিজেদের জায়গা থেকে পারফর্ম করেছে। আল্লাহর শুকরিয়া ছিলো বলেই আমরা ভালো করতে পেরেছি। আমি পুরো ক্রেডিটটাই ক্রিকেটারদের দিতে চাই৷ আমি তাদের নিয়ে যে কাজগুলো করেছি মাঠে তারা খুব ভালো ভাবেই সেগুলো প্রতিফলিত করতে পেরেছে। আমি গর্ব করি যে কোচ হিসেবে আমার প্রথম কাজেই সফলতা পেয়েছি বলে। ধন্যবাদ দিতে চাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে আমাকে এমন সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। আর বিশেষ করে ধন্যবাদ দিতে চাই খালেদ মাহমুদ সুজন ভাইকে। তিনি আমার উপর আস্থা রেখেছেন।
নিউজ ক্রিকেট ২৪ঃ আপনি একজন পরীক্ষিত কোচ এটা বলার আর অপেক্ষা থাকে না। আপনি কোচিংয়ে এসে নিজেকে প্রমাণিত করেছেন ইতিমধ্যে৷ ভবিষ্যতে যদি দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে, নিজের দেশের কোচিং স্টাফ হিসেবে কাজ করার সুযোগ আসে তাহলে কি সুযোগ কাজে লাগাবেন?
রাজিন সালেহঃ দেশের হয়ে কাজ করা অনেক গর্বের ব্যাপার। যদি এমন সুযোগ আসে তবে আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করবো। দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ আসলে অবশ্যই এমন সুযোগ হাতছাড়া করবো না৷ এই দেশ, বোর্ড আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে, যথেষ্ট সম্মান দিয়েছে এখন সুযোগ পেলে আমি তার প্রতিদান দিতে চাই।
