নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) গত অধিবেশনে জিম্বাবুয়েকে নিজেদের আওতা থেকে বহিষ্কার করেছিলো আইসিসি। মূলত জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডের সংস্পর্শে দেশটির রাজনীতির অপ্রত্যাশিত প্রভাব পড়ার কারণেই আইসিসি এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলো। ফলে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট বোর্ডে নেমে আসে অজানা এক অন্ধকার, জন্ম হয় হাহাকার ভরা শতশত নিঃশ্বাসের। আইসিসির এমন সিদ্ধান্তে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটাররাও এক প্রকার হতাশ হয়ে পড়েন। কতিপয় ক্রিকেটার তো এটা মেনে নিতে না পেরে কিছু না ভেবেই অবসরের ঘোষণা দিয়ে বসে। কেউ আবার ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আইসিসির উপর বিভিন্ন প্রশ্নও ছুঁড়ে দিয়েছিলো।
আইসিসির সদস্যপদ হারানো এই দলটাকে তিন জাতির টুর্নামেন্টে আমন্ত্রণ জানিয়ে এক অসামান্য বন্ধুত্বের পরিচয় দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বাঁচাতে যেনো ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভাব ঘটে বাংলাদেশের। এতে করে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটে নতুন করে ঘটে প্রাণের সঞ্চার। ক্রিকেটাররা যেনো ফিরে পায় স্বস্তি ভরা এক আকাশের সহস্রাধিক উজ্জ্বল নক্ষত্র। মোটকথা, নিভে যাওয়া এক প্রদীপে আলো সঞ্চালনকারী হিসেবে রূপ নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
গত ১৪ অক্টোবর দুবাইতে অনুষ্ঠিত হয় আইসিসির বোর্ড সভা। যেখানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাথে সাথে জিম্বাবুয়ের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি। জিম্বাবুয়েকে আবারো নিজেদের সদস্য ভুক্ত দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি।
এতে করে একটি দেশ ফিরে পেলো তাদের হারানো সম্মান, ফিরে পেলো আবারো আন্তর্জাতিক দল হিসেবে মাঠ মাতানোর মর্যাদা, দেশটির ক্রিকেট পাগল সমর্থকরা ফিরে পেলো তাদের ক্রিকেটারদের নিয়ে পাগলামি করার মাধ্যম এবং দিন-রাত এক করে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর থাকা সেই ছোট্ট ছেলেটি ফিরে পেলো তার স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তর করার প্রজ্জ্বলিত ইচ্ছাশক্তি।
১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া আইসিসির বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সভা শেষ করে গতকালই (১৫ নভেম্বর) ফিরেছেন দেশে। দেশে এসেই গণমাধ্যম কর্মীদের মুখোমুখি হতে হয় তাকে।
জিম্বাবুয়ের নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে বিসিবি বসের সরল জবাব, ‘পরের সভায় (১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সভা) জিম্বাবুয়ের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ব্যাপারে আগেই জানতাম। এর ফলেই আমরা ঘরের মাঠে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদেরকে সিরিজ খেলিয়েছি। আর তাছাড়া জিম্বাবুয়ে আমাদের দুঃসময়ের বন্ধুর মতো। মনে রাখতে হবে, আমরা যখন দুর্বল ছিলাম তখন তারা আমাদের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো।’
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পদার্পণটা যেনো হয় সুখকর। ভালো হোক আমাদের দুঃসময়ের এই বন্ধু দেশটার আগামী দিনের পথচলা। নিউজক্রিকেট২৪ এর পক্ষ থেকে রইলো শত-সহস্রাধিক শুভকামনা।
