তাপস-নাজমুলের যোগ্য উত্তরসূরি হবেন রাহি!

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

  তাপস বৈশ্যের কথা মনে আছে? বাংলাদেশ দলের সাবেক পেসার। একটা সময় বাংলাদেশ দলের পেস বোলিংয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২১ টেস্টে ৩৬ আর ৫৬ ওয়ানডেতে ৫৯ উইকেট নেওয়া সাবেক এই পেস বোলার উঠে এসেছিলেন বিভাগীয় শহর সিলেট থেকে। শুধু তাপস বৈশ্য না, বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক রাজিন সালেহ, অলরাউন্ডার অলক কপালী, পেসার নাজমুল হোসেন আর স্পিনার এনামুল হক জুনিয়র এরা সবাই সিলেটের। কালের পরিক্রমায় এরা সবাই জাতীয় দল থেকে হারিয়ে গেছেন। বর্তমানে এরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বেশ দূরে। অলক কপালী, নাজুমল হোসেম আর এনামুল হক জুনিয়রকে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত দেখা গেলেও তাপস বৈশ্য আর রাজিন সালেহকে খুব একটা দেখা যায় না মাঠের ক্রিকেটে। এরা দুজনই ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রিকেট কোচিংয়ে।
রাজিন-কপালীদের পরে সিলেটের কেউ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন এমন ক্রিকেটারের নাম আবু জায়েদ চৌধুরী রাহি। যদিও তার দেখানো পথে পরে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন সিলেটের আরো দুই পেসার খালেদ আহমেদ ও এবাদত হোসেন।
রাহির জন্ম সিলেটে। ঘরোয়া ক্রিকেটেও খেলেন সিলেট বিভাগের হয়ে। ২০১৬-১৭ জাতীয় ক্রিকেট লীগে সর্বোচ্চ ২৯ উইকেট শিকারি তিনি। বিপিএলে খেলেছেন চিটাগাং ভাইকিংস আর খুলনা টাইটান্সের হয়ে। আর এরই পুরস্কার স্বরূপ এর পরের বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ান এই পেসার। একই বছর জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হয় টেস্ট অভিষেক। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার ছিলো কোন ওয়ানডে না খেলেই ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের স্কোয়াডে তার জায়গা পাওয়া। যদিও বিশ্বকাপে কোন ম্যাচ খেলার সুযোগ পান নি তবে আয়ারল্যান্ডে ট্রাইনেশন সিরিজে দুটো ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়েছিলো। অভিষেক ম্যাচে কোন উইকেট না পেলেও নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই জ্বলে উঠেন তিনি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ঐ ম্যাচে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। রাহির বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া নিয়ে মিডিয়ার সামনে কথা বলেছিলেন বাংলাদেশ দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “রাহিকে পঞ্চম পেসার হিসেবে দলে নেয়ার কারণ হলো তার কন্ডিশন অনুযায়ী সুইং করার ক্ষমতা। তার বোলিংয়ে যথেষ্ট সুইং রয়েছে।”
আবু জায়েদ চৌধুরী রাহি তার লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারেও বেশ উজ্জ্বল। ৫৪ ম্যাচ খেলে তার উইকেট সংখ্যা ৬৫। ফার্স্টক্লাস ক্রিকেটে ৭৬ ম্যাচে ২২৭ উইকেট নিয়েছেন রাহি। তার যোগ্যতা দিয়েই বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছেন এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।
রাহির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এখন পর্যন্ত মোটেও খারাপ না। অন্তত রেকর্ড এটাই বলে। ৫ টেস্টে সুযোগ পেয়ে উইকেট নিয়েছেন ১১টি। আর ২ ওয়ানডেতে তার উইকেট সংখ্যা ৫। রাহি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রেখেছিলেন টি-টোয়েন্টি দিয়ে। ৩ টি টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে উইকেট পেয়েছেন ৪ টি।
আমাদের দেশের ক্রিকেটে তাপস-মাশরাফি একটা জুটি গড়ে উঠেছিলো ২০০২-৩ সালের দিকটায়। অনেকদিনই এই জুটি পেস বোলিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ম্যাশ এখনো যদিও দলের নেতৃত্বে আছেন কিন্তু তাপস নেই। সিলেটের আরেক পেসার নাজুমল হোসেনও ছিলেন জাতীয় দলে আসা যাওয়ার মিছিলে। তার ক্যারিয়ারে ইনজুরি খুব খারাপ একটা প্রভাব ফেলে। নাজুমল মিতব্যয়ী বোলিং আর উইকেট টেকিং বোলার হিসেবে ছিলেন বেশ কার্যকর। তবে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারটাও খুব একটা লম্বা হয় নি। সেই দিক থেকে চিন্তা করলে তাপস-নাজমুলের পরে রাহিই এখন এগিয়ে। নিজের বোলিং দক্ষতা দিয়ে ইতিমধ্যেই সবার মন জয় করে যেমন নিয়েছেন তেমনি তার পারফরম্যান্সে আছে ধারাবাহিকতা আর নিজস্বতা। টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিতই একাদশে জায়গা পাচ্ছেন রাহি। দ্যা ফিজের সাথে দ্বিতীয় পেসার হিসেবে তাকেই দেখা যায় এখন লাল বলের ক্রিকেটে। আস্থার প্রতিদান দিতে থাকলে সামনে আরো ভালো দিন অপেক্ষা করছে রাহির জন্য এটা নিশ্চিত।
অন্যদিকে রাহিকে নিয়ে বেশ আশাবাদী সিলেটের ক্রিকেট প্রেমীরা। সিলেটের ক্রিকেটের নিয়মিত একটি মুখ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন এটা গর্বের ব্যাপার বলে মনে করেন তারা। তাপস বৈশ্যের মত দলের জন্য কার্যকরী একজন বোলার হয়ে উঠবেন রাহি এমনটাই আশা করছেন ভক্তরা। এছাড়া ক্রিকেটকে ভালোবেসে বিলেত ফেরত এই ক্রিকেটারকে নিয়ে অনেক স্বপ্নও তাদের। কেউ কেউ মনে করেন রাহি তার পারফরম্যান্স দিয়ে দলের নিয়মিত সদস্য হয়ে উঠবেন এবং তার বোলিংয়ে প্রতিনিয়ত ঘায়েল করবেন প্রতিপক্ষের বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানদের।

 

————–দুর্জয় দাশ গুপ্ত
নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »