মমিনুল ইসলাম »
গতকাল শ্রীলঙ্কার কাছে হোঁচট খাওয়া বাংলাদেশটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় দল কিংবা বয়সভিত্তিক দল সব খানেই শুধু ফাইনাল হারের গল্প কথা। এই তো কদিন আগেও ইমার্জিং এশিয়া কাপে দুর্দান্ত খেলতে থাকা বাংলাদেশটা ধুঁকছিলো ফাইনালো পাকিস্তানের সাথে। হয়তো গতকাল হারের পর আবারও অনেকেই ভেবেই নিয়েছিলো আবারও হয়তো একটা ফাইনাল হারের গল্পকথা লেখা হবে। তবে গতকাল অধিনায়ক নাজমুল শান্ত আশ্বাস দিয়েছিলেন আমরা সোনা জিতবো। আমরা সবাই সোনা জিততে মুখিয়ে আছি। তাই তো এবার আর সেই দুঃখ মাখা স্মৃতির পুনরাবৃত্তি করতে দেননি সৌম্য-সাইফ-শান্তরা। শ্রীলঙ্কাকে বীরের বেশেই ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে স্বর্ণ জিতে নিলো লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।
সাউথ এশিয়ান গেমসের ১৩ তম আসরের পুরুষ ক্রিকেট ইভেন্টের ফাইনালে নেপালের কীর্তিপুরে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। হাসান-তানভীরের দারুণ বোলিংয়ে মাত্র ১২২ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। আর সাইফ-সৌম্য-শান্ত-রাব্বিদের ব্যাটে শ্রীলঙ্কাকে ৭ উইকেটে হারিয়ে স্বর্ণ জিতে নিলো বাংলাদেশ। মেয়েদের পর ছেলেদের ক্রিকেটেও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে স্বর্ণ জিতে নিলো লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।
১২৩ রানের ছোট লক্ষ তাড়া করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু করে বাংলাদেশি দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসান। দেখেশুনে দারুন খেলতে সৌম্য সরকার ফেরান মেন্ডিস। সৌম্যের বিদায়ে ভাঙ্গে সৌম্য-সাইফের ৪৪ রানের উদ্বোধনী জুটি। ৪ চারের সাহায্যে ২৮ বলে ২৭ রান করে সাজঘরে ফিরেন সৌম্য। সৌম্যের বিদায়ের পর জয়ের বন্দরে পৌঁছতে অধিনায়ক শান্তকে সাথে নিয়ে জুটি গড়ে সাইফ হাসান।
তবে সৌম্য-সাইফ জুটির মতো বেশ বড় হয়নি সাইফ-শান্তর জুটি। ২ ছক্কা ও ৩ চারের সাহায্যে ৩০ বলে ৩৩ রান করে সাইফ রানআউটে কাটা পড়লে ভাঙ্গে সাইফ-শান্তর ৩৯ রানের জুটি।
শেষ দিকে অধিনায়ক নাজমুল শান্ত ও ইয়াসির রাব্বির দারুন ব্যাটিংয়ে জয়ের কাছে যায় বাংলাদেশ। দারুন খেলতে থাকা ইয়াসির আলি ১৬ বলে ১৯ রান করে আউট হয়ে যান জয়ের খুব কাছাকাছি রেখে। তবে অধিনায়ক নাজমুল শান্ত -আফিফকে সাথে নিয়ে স্বর্ণজয়ের শেষ কাজটা করে যান। নাজমুল শান্ত অপরাজিত থাকেন ২৮ বলে ৩৫ রান করে। লঙ্কানদের হয়ে একটি করে উইকেট নেন মেন্ডিস ও কলোম্বোস।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করে লঙ্কান দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মাদুশানকা ও ফার্নান্দো। দুই জনের দারুণ শুরুতে ৩৬ রানের উদ্বোধনী জুটি পায় লঙ্কানরা। তবে দারুণ খেলতে থাকা মাদুশানকা স্বীকার হন রানআউটের। ২ চারের সাহায্যে ২৪ বলে ২২ রান করে আউট হন নিশানকা। মাদুশানকার বিদায়ের পরের ওভারেই হাসান মাহমুদের বলে ১ রান করে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান। হাসান মাহমুদের ঐ ওভারেই সুমন খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৪ রান করে সাজঘরে ফিরে যান কামিন্দু মেন্ডিস।
মেন্ডিসের বিদায়ের পর দলীয় অধিনায়কও সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি মাত্র ১২ রান করে মেহেদী হাসানের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান। এরপরও অবশ্য আসান একটু বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখিয়েছিলো তবে সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে দেন দুর্দান্ত বল করতে থাকা হাসান মাহমুদ। ৩ চারের সাহায্যে ২০ বলে ২৫ রান করেন আসান। আসানের বিদায়ের পর আর কেউ সেভাবে দাঁড়াতেই পারেনি। তবে ছোট ছোট প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ১২২ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা।
বাংলাদেশের হয়ে তিনটি উইকেট নেন হাসান মাহমুদ, দুটি উইকেট নেন তানভীর ইসলাম আর একটি করে উইকেট নেন মেহেদী ও সুমন খান।
স্কোরকার্ড:
বাংলাদেশ : ১২৫/৩ ( ওভার) শান্ত ৩৫*, সাইফ ৩৩, সৌম্য ২৭, মেন্ডিস ১/৯
শ্রীলঙ্কা : ১২২/১০ ( ওভার ২০) আসান ২৫, মাদুশানকা ২২, হাসান ৩/২০, তানভীর ২/২৮
ফলাফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী।