আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫ বছর পূর্ণ হলো মুশফিকুর রহিমের

রীম রহিম »

আজ ২৬ই মে ২০২০। আজকের এই দিনে ২০০৬ সালে ক্রিকেটের মক্কা লর্ডসে অভিষেক হয়েছিলো ১৬ বছরের এক তরুণের। তখনকার উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান খালেদ মাসুদ পাইলটের পাশাপাশি স্পেশালিষ্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে সুযোগ পেয়েছিলেন মুশফিক। সেই থেকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি মুশফিককে। দেশের হয়ে খেলেছেন ১৫টি বছর। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যা অনেক কঠিন এক কাজ বটেই।

১৫ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এমনি এমনি খেলতে পারেননি। শুরুতে নিয়মিত না হলেও ধীরে ধীরে নিজেকে পরিণত করেছেন। মুশফিক এমন একটা খেলোয়াড় যে নিজের সফলতার গ্রাফটা শুধু উপরে দিকেই নিয়ে গেছেন। আজ ১৫ বছর পরে সেই ১৬ বছরের তরুণ ছেলেটি দেশের একজন নির্ভরযোগ্য এক ব্যাটসম্যান৷

টেষ্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিটি করেছিলেন শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে। ২০১০ সালে চট্টগ্রামে ভারতের বিপক্ষে এই সেঞ্চুরিটি আসে তার। দেশের হয়ে টেষ্ট ক্রিকেটে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটি তিনিই করেছিলেন। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার মাঠিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দেশের এই প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটি আসে। দেশের হয়ে একে একে করেছেন ৩টি ডাবল সেঞ্চুরি৷ টেষ্টে এখন বাংলাদেশের সব চেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিক। ২০১১ সালে বাংলাদেশের ৩ ফরমেটের অধিনায়ক ঘোষণা করা হয় মুশফিককে। সে থেকে মুশফিক টেষ্টে অধিনায়কত্ব করেছেন ৩৪ টেষ্টে জিতেছেন ৭ টেষ্টে। টেষ্ট অধিনায়ক হিসেবে নিসন্দেহে সেরা অর্জন ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়। আর সিরিজ ড্র।

একদিনের ক্রিকেট কিংবা ওয়ানডে ক্রিকেটে মুশফিকের অভিষেক হয়েছিলো ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তার ভালো খেলায় ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের খালেদ মাসুদ পাইলটের বিপরিতে মুশফিককে প্রথম চোয়েস উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে নেয়া হয়। বিশ্বকাপে মুটামুটি পারফর্ম করেন। এরপর ৫ ইনিংসে মুশফিক রান করেছিলেন মাত্র ৪। যার ফলে মুশফিককে দল থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে নির্বাচক। এর পর মুশফিক ঘুরে দাঁড়ায়। ২০০৮ সালে পুনরায় দলে ডাক পায় মুশফিক। ভারত আর পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ জাতীয় সিরিজ ও ২০০৮ সালের এশিয়া কাপের জন্য। তখন থেকে আর ফিরে থাকাতে হয়নি মুশফিককে। ২০০৯ সালে মুশফিককে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে নেয়া হয়৷


২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশ টেষ্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে আসে। সে সিরিজে মুশফিক অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ম্যাচ খেলেন। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ম্যাচেই জয় পান মুশফিক৷ খেলেন ২৬ বলে ৪১ রানের অনবদ্য এক ইনিংস, হয়েছিলেন ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ৷

২০১২ সালে মুশফিকের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ ঘরের মাঠে এশিয়া কাপ খেলে। সেবার ভারত, শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বাংলাদেশ এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলে। আর হয় রানার্স আপ। ২০১৩ সালে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডেকে হোয়াইট ওয়াশ করা নিসন্দেহে মুশফিকের অধিনায়ক হিসেবে অন্যতম সেরা একটি অর্জন।

মুশফিক ওয়ানডে ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব করেছেন ৩৭ ম্যাচে। আর জয় পেয়েছেন ১১ ম্যাচে। ২০১৪ সালে মুশফিককে অধিনায়ক থেকে অব্যহতি দেয়া হয়।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মুশফিকের অবস্থান ভালো না হলেও দলের অন্যতম সেরা সদস্য তিনি। বাংলাদেশের সব কটি জয়ী টি-টোয়েন্টি ম্যাচে খেলেছেন মুশফিক। টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়কত্ব করেছেন ২৩ ম্যাচে, জয় পেয়েছেন ৮ ম্যাচে।

টেষ্টে মুশফিক ব্যাট করেছেন ১৩০ ইনিংসে। ৩৬ গড়ে রান করেছেন ৪৪১৩। ওয়ানডে ক্রিকেটে ২০৪ ইনিংসে মুশফকের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ গড়ে ৬১৭৪ রান। আর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মুশফিকের ১১৯ স্ট্রাইক রেটে রান আসে ১২৮২ রান,খেলেছেন ৭৭ ইনিংস৷

সময়ের সাথে সাথে মুশফিক অনেক পরিণত হয়েছেন। আজ তিনি বাংলাদেশের পঞ্চপাণ্ডবের একজন। বুক চিতিয়ে লড়াই করেন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে৷ দলের বিপদে হাল ধরেন সবসময়৷ দর্শক আর সমর্থকদের চাওয়া মুশফিক আরো অনেকদিন খেলবেন জাতীয় দলের হয়ে৷ দেশের হয়ে ইতিমধ্যে খেলেছেন ৪টি বিশ্বকাপ। মুশফিকের এই ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য তাকে শুভেচ্ছা জানায় নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডট কম পরিবার।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »