১২ হাজার পূর্ণ করেই অবসরে যেতে চাই: তুষার ইমরান

সাজিদা জেসমিন »

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তুষার ইমরান, বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক আক্ষেপের নাম। ৫টি টেস্ট এবং ৪১টি ওয়ানডে খেলেই থেমেছে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। যদিও বা ঘরোয়া লিগে এখনো দাম্ভিক চিত্তে পারফর্ম করে চলেছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ইতিমধ্যেিই বেশ কিছু রেকর্ড নিজের দখলে করে নিয়েছেন। পার করেছেন ২ দশক সময়।

ঘরোয়া লিগে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ১১ হাজারের ক্লাবেও লিখিয়েছেন নিজের নাম। সর্বোচ্চ ৩১টি সেঞ্চুরি নিয়েও সবার উপরে তিনি। আর মাত্র ২৯৬ রান হলেই পূর্ণ করবেন ১২ হাজার রানের মাইলফলক। এ-ই মাইলফলক স্পর্শ করেই অবসর নিবেন এমন পরিকল্পনাই করেছি কেন এ-ই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

প্রথমবারের মতো বিসিএলে কোন দল না পেয়ে আক্ষেপ ঝড়লো তুষারের মুখে। তিনি বলেন, ‘চেয়েছিলাম আমার ক্যারিয়ার আরো লম্বা করবো। আমার সেই সামর্থ্যও ছিল। তরুণদের সাথে লড়াই করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রান করেছি। এক বছরে ১৯০০ রানও করেছি। কিন্তু নির্বাচকরা আমার পারফরমেন্স বিবেচনায় নেননি । তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আর ৩০০ রান করেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে অবসর নিব।’

১২ হাজার রানের মাইলফলকের দিকে লক্ষ্য তুষার ইমরানের। লক্ষ্য পূরণের জন্য টার্গেট করেছিলেন বিসিএলকে। তবে বিপ টেস্টে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রয়োজন ১০ পয়েন্ট, আর সেই পরীক্ষায় ৯ এবং ৮ পেয়েছেন তুষার ইমরান। ফলে স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ার পথে তুষার ইমরানের। বিসিএলে দল না পেয়ে হতাশ হয়ে বলেন, ‘এই প্রথমবার বিসিএলে টিম পাইনি। কতোটা কস্ট লাগছে ভাষায় বোঝাতে পারব না।’

তবে অবসরের জন্য বেড়েছে তার প্রতীক্ষা। তার কারণটাও জানিয়েছেন তিনি, ‘আমি আমার সিদ্ধান্তের কথা জালাল ভাই,সুজন ভাইকে বলেছি। ৩০০ রান হলেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১২ হাজার রান পূর্ণ হবে। সেটা করতে পারলেই আমি অবসরে যাব। উনারা বিষয়টি নান্নু ভাইকে বলেছেন। কিন্তু নান্নু ভাই উনাদের অনুরোধ শোনেননি। বলেছেন, ও যদি অবসর নিতে চায়, তবে ওকে এক ম্যাচে সুযোগ দেয়া যেতে পারে। এ কথা শোনার পর আরো বেশি কস্ট পেয়েছি। কারো দয়ায় ক্রিকেট খেলিনি। গত ক’বছরের রেকর্ড দেখুন। এনসিএল,বিসিএলের সর্বশেষ আসরেও আমি সেরাদের কাতারে ছিলাম। এরপরও কেন এমন কথা শুনবো?’

২০১৭ সালে বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে এক ক্যালেন্ডার ইয়ারে রয়েছে ১২০০+রানের রেকর্ড, ২০১৮ সালে ফর্মের তুঙ্গে ছিলেন। ২০১৯ এ করেছেন ১৫০০+ রান । ৩৬ বছর বয়সেও লড়াই করে যাচ্ছেন তরুণদের সাথে তাল মিলিয়ে। গত আসরের করেছেন ৩০৩ রান।

এমন ধারাবাহিকতার পরেও কেন এতো অবহেলা এটাই প্রশ্ন তুষারের। তিনি বলেন, ‘অফ ফর্মে থাকলে আমি সব বিষয় মেনে নিতাম। কিন্তু ফর্মে থেকেও কেন বাদ পড়ব?’

বিপ টেস্ট দিয়ে ম্যাচ ফিটনেস বিবেচনা করা উচিত নেয় এমনটা মন্তব্য করে বলেন, ‘ বিপ টেস্টে পাস করে মাঠে ক’জনই বা ধারাবাহিক পারফর্ম করছে। মাঠে ধারাবাহিক পারফর্ম করতে না পারলে ফিটনেস দিয়ে কি পানি খাবেন? ক্যারিয়ারে টানা ৬ বছর ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এক,দুই,তিন-এ ছিলাম। তখন তো আমার কোন খবর রাখেননি নির্বাচকেরা ! তখন উল্টো আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন তাঁরা – কোন লেভেলের ক্রিকেট খেলছো?’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »