স্বপ্ন পূরনের পথে শরিফুল-

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

তরুণ  পেসার শরিফুল ইসলাম যুব দল  থেকেই বেশ আলোচিত একটি নাম। ২০২০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বাকাপ চ্যাম্পিয়নস দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য শরিফুল ইসলাম।  বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতাতে বড় অবদান ছিল তরুন এই পেসারের। যুব বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চে অসাধারন বোলিং করে ভারতকে চেপে রেখেছিলেন শরিফুল। পুরো টূর্নামেন্টে ১৫.৭৭ এ্যাভারেজে ৩.৬৪ ইকোনোমি রেটে ৯ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলার ছিলেন তিনি। পাওয়ার-প্লেতেও নতুন বলে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ডেথ ওভারে ছিলেন কার্যকর। শরিফুলকে নিয়ে প্রত্যাশা বাড়তে থাকে তখন থেকেই।

সবকিছু পিছনে ফেলে সামনে চোখ রেখেছিলেন শরিফুল।  বড়দের সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটেও বেশ ভালো করছেন উঠতি পেসার। করোনার বিসিবি প্রেসিডেন্ট’স  কাপে তামিম একাদশের হয়ে খেলেছিলেন শরিফুল। সেখানে ৩ ম্যাচ খেলে পেয়েছিলেন ৪ উইকেট। নাজমুল একাদশের বিপক্ষে ১০ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে পেয়েছিলেন ৪ উইকেট। সেখানে সঙ্গী হিসাবে পেয়েছিলেন বাংলাদেশ ইতিহাসের সেরা আবিষ্কার মোস্তাফিজুর রহমানকে। শরিফুল ইসলাম এর নতুন শুরু এখান থেকেই।

কাটার মাস্টারকে সতীর্থ হিসাবে পেয়ে উচ্ছ্বাসিত ছিলেন শরিফুল। তার কাছ থেকে পেতেন পরামর্শ ও সঠিক দিক নির্দেশনা। মোস্তাফিজুর রহমানও জুনিয়রকে শেখালেন নিজ ভান্ডারে থাকা রশদটুকু। কাকতালীয় হলেও সত্যি এই যে বঙ্গবন্ধু বিপিএলেও একই দলে সুযোগ পেলেন দুজনই। গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের হয়ে খেলেছেন দুজন। চট্টগ্রামকে শিরোপা জেতাতে না পারলেও শরিফুল ছিলেন সেরা ৫ বোলারের একজন।

সদ্য শেষ হওয়া বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে ১০ ম্যাচে ৩৮ ওভার  হাত ঘুরিয়ে ওভার প্রতি ৮ রান খরচ করে পেয়েছিলেন ১৬ উইকেট। ১৯.০০ এ্যাভারেজ এবং ১৪.২ স্টাইক রেট ছিল চোখে পরার মতো। ২৭ রানে ৩ উইকেট ছিল তার সেরা বোলিং ফিগার। চট্টগ্রাম এর স্টাইক বোলার ছিলেন শরিফুল। গতি, সুইং, নিখুঁত ইয়র্কার, বাড়তি বাউন্স আর আগ্রসনে আলাদাভাবে নজর কাড়ছেন শরিফুল। এত উন্নতির কারন জানতে চাইলে শরিফুল জানিয়েছিলেন মোস্তাফিজের কাছ থেকে শিখছেন তিনি।

কীভাবে বোলিং করতে হবে, প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের ঘায়েল করতে হবে তরুণ পেসারকে মাঠে তার তালিম দিচ্ছেন মোস্তাফিজ। প্রায় প্রতিবারই বোলিংয়ের আগে শরিফুলের সঙ্গে কথা বলছেন মোস্তাফিজ। শরিফুল বললেন, বিষয়টি ইনজয় করছেন তিনি।

গত টি টোয়েন্টি টূর্নামেন্ট চলাকালে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে শরিফুল বলেন, ‘মুস্তাফিজ ভাইয়ের সঙ্গে বল করে খুবই ইনজয় করছি। সবসময়ই প্রতি ওভারে যাওয়ার আগে, বলের আগে ভালো পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ম্যাচের পরে ম্যাচ সিচুয়েশন অনুযায়ী কীভাবে বল করতে পারি তা বলেন। দুইজনের মধ্যেই ভালো একটা কম্পিটিশন চলছে। ওনার সাথে সব কিছু শেয়ার করা যায়। উনি সবকিছু বলে সিচুয়েশন অনুযায়ী কীভাবে বল করতে হবে। খুব ভালো লাগে খুব মজা লাগে ওনার সাথে বল করতে।’

স্বীকৃত ক্রিকেটে  এখন পর্যন্ত সব ফর্মেটে অভিষেক হয়েছে তার। ঘরোয়া ক্রিকেটে ইতিমধ্যে নিজেকে প্রমান করেছেন শরিফুল। ৮ টি প্রথম শ্রেনির ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ২২ উইকেট। ২৭ টি লিস্ট এ ম্যাচ খেলে পেয়েছেন ৪৭ উইকেট। টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২২ ম্যাচে পেয়েছেন ২৩ উইকেট।

বয়স মাত্র ১৯ বছর ২২২ দিন চলছে। এই বয়সেই শরিফুল  যেভাবে এগিয়ে চলছে, তাতে বলা যায় স্বপ্ন পুরনের দিনটি হয়তো খুব নিকটে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ২৪ সদস্যের স্কোয়াডে রয়েছেন তরুন পেসার। মুল স্কোয়াড থেকে প্লেয়িং একদশে সুযোগ পেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। নিজের ধারাবিকতা বজায় রাখলে লম্বা ক্যারিয়ারে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে দেওয়ার মতো রশদ রয়েছে তার। অপেক্ষা কেবল একটা সুযোগের। তারপর নিজেকো প্রমানের পালা।

নিউজক্রিকেট / রাসেল

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »