সাদমান-মিঠুনদের ব্যর্থতার দিনে সাইফের লড়াকু ফিফটি

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

 

বৃষ্টিবাধার আরও একটি দিন এবং আরও একবার ব্যাটিং ব্যর্থতা। বাংলাদেশ এ’ দলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের নিয়মিত দৃশ্য মঞ্চস্থ হলো আবারও। সাদমান ইসলাম, ফজলে মাহমুদ রাব্বি ও জাকির হাসান ব্যর্থ হলেন আরেক দফায়। আগের ম্যাচে ফিফটি করা মোহাম্মদ মিঠুনও এবার টিকলেন না বেশিক্ষণ। তাদের ব্যর্থতার দিনে চোয়ালবদ্ধ লড়াইয়ে ফিফটি উপহার দিলেন সাইফ হাসান।

সেন্ট লুসিয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় আনঅফিসিয়াল টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের রান ৫ উইকেটে ১৫৭।

বৃষ্টির কারণে ম্যাচের প্রথম দিনে খেলা হয়েছিল ৩৪ ওভার। দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার খেলা হয় ৫০ ওভার। বাংলাদেশ ‘এ’ দল এ দিন ৪ উইকেট হারিয়ে করতে পারে কেবল ৮৮ রান!

দুই দিনে ৮৪ ওভার খেলে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের রান রেট কেবল ১.৮৬।

ফজলে মাহমুদ, মিঠুন, জাকির, সবাই আউট হয়েছেন বাজে শটে। স্রোতের বিপরীতে দলের হাল ধরে আছেন সাইফ হাসান। বাংলাদেশ টেস্ট দল থেকে বাদ পড়া ব্যাটসম্যান ৬ ঘণ্টার বেশি উইকেটে কাটিয়ে অপরাজিত ২১৭ বলে ৬৩ রান করে।

২২ রান নিয়ে সাদমান ইসলাম ও ২৩ রান নিয়ে সাইফ হাসান শুরু করেন দ্বিতীয় দিনের খেলা। বেশিদূর এগোতে পারেনি এই জুটি। দিনের ষষ্ঠ ওভারে সাদমান ইসলামকে ফেরান ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট দলের পেসার অ্যান্ডারসন ফিলিপ।

রাউন্ড দা উইকেটে করা ডেলিভারিতে শক্ত হাতে ডিফেন্স করেন সাদমান। ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় দ্বিতীয় স্লিপে। ১১৮ বল খেলে ২৫ রান করে ফেরেন এই বাঁহাতি। সাইফের সঙ্গে তার জুটি থামে ৪৬ রানে।

আরেক বাঁহাতি ফজলে মাহমুদ রাব্বির সঙ্গে সাইফের জুটিও জমে উঠতে শুরু করেছিল। কিন্তু ফজলে মাহমুদের আলগা শটে থামে সেই জুটি। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি (৪৭ বলে ১৪) বাঁহাতি পেসার কলিন আর্চিবল্ডের বেশ বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে।

অধিনায়ক মিঠুন ক্রিজে যাওয়ার পরপরই রক্ষা পান দারুণ এক ডেলিভারি থেকে। অ্যান্ডারসন ফিলিপের বাড়তি লাফানো বল তার ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় বাউন্ডারিতে। পরের বলে পুল করে সহজ ক্যাচ দিয়েও তিনি জীবন পান, স্কয়ার লেগে ক্যাচ ছাড়েন ইয়ানিক কারাইয়াহ।

পরের ওভারে মার্কিনো মিন্ডলিকে অবশ্য আত্মবিশ্বাসী দুটি শটে চার মারেন মিঠুন। প্রথমটি পুল শটে, পরের কাট করে।

এরপরই শেষ তার ইনিংস। নিজের পতন ডেকে আনেন তিনি নিজেই। আর্চিবল্ডের লেগ স্টাম্পের বাইরের লেংথ বল পুল করতে গিয়ে ধরা পড়েন কিপারের হাতে (১৪ বলে ১৪)।

আরেকপ্রান্তে উইকেট আঁকড়ে রাখেন সাইফ। বেশ কয়েকবার অস্বস্তিতে পড়েন তিনিও। ক্যারিবিয়ান পেসারদের বোলিংয়ে খুব সাবলিল ছিল না তার ব্যাটিংও। তবে লড়াই করে টিকে থাকেন তিনি। মিঠুন আউট হওয়ার আগের বলেই ফিফটি পূর্ণ করেন ১৪৮ বলে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের জোয়ার বইয়ে দিয়ে ‘এ’ দলে জায়গা পাওয়া জাকির হাসান পারেননি সুযোগ কাজে লাগাতে। সাইফের সঙ্গে তার প্রায় ১৭ ওভারের জুটিতে রান আসে স্রেফ ২০। এত সাবধানী ব্যাটিংয়ের পর আউট হন আলগা শটেই। স্টাম্পের বেশ বাইরের শর্ট বল কাট করতে গিয়ে ক্যাচ দেন তিনি কিপারকে (৫৬ বলে ১৫)।

দিনের বাকি সময়টায় আর উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ ‘এ।’ লেগ স্পিনার ইয়ানিক কারাইয়াহর একটি শর্ট বল পুল করে ছক্কাও মারেন সাইফ। কিপার জাকের আলি ব্যাটিংয়ে নেমে অপরাজিত থাকেন ১৬ বলে কোনো রান না করে।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »