শুভ জন্মদিন ডি ভিলিয়ার্স

সাজিদা জেসমিন »

পুরো নাম আব্রাহাম বেঞ্জামিন ডি ভিলিয়ার্স। সংক্ষেপে এবি নামে ডাকা হয়। ক্রিকেট বিশ্বে নিঃ ৩৬০° নামে সমাদৃত। ১৯৮৪ সালের আজকের দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রান্সভাল প্রদেশের প্রিটোরিয়ার মিলি এবং আব্রাহাম পি ডি ভিলিয়ার্স দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন এবি। জান এবং ওয়েসেলস নামে তার দুই ভাই রয়েছে।

শিক্ষাজীবন কেটেছে প্রিটোরিয়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় স্কুল আফ্রিকান্স হোয়ের সিয়ানস্কুলে। প্রিয় তিন সহপাঠী জ্যাকুয়েস রুডল্ফ , হিনো কান এবং
ফ্রাঙ্কোইজ ডু প্লেসিস। যারা পরবর্তীতে টাইটান্স ও দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষ হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ক্রিকেট সমর্থকদের কাছে সুপরিচিত নিজের আগ্রাসী ইনিংসের কারণে। মারকুটে এই ব্যাটসম্যান ব্যাট হাতে দেখিয়েছেন নানান ঝলক। স্বল্প সময়ে দুর্দান্ত ইনিংস খেলতে অভ্যস্ত। টেস্ট ক্রিকেটে রয়েছে ২১টি সেঞ্চুরি এব) ৩৬টি অর্ধ-শতক। শূন্য রান ব্যতীত সবচেয়ে বেশি ইনিংস(৭৮টি) খেলার রেকর্ড রয়েছে তার ঝুলিতে।

২০১১-১২ সালে অজি ও লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরিজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন ক্রিকেট বিশ্বে। জায়গা করে নেন কোটি সমর্থকের মনে। সেই সিরিজে ১৬৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন এবি। ১১৭.৬৬ গড়ে ৩৫৩ রান সংগ্রহ করে হয়েছিলেন সিরিজ সেরা। এরপর আসে দলকে নেতৃত্ব দানের ভার৷

নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম ম্যাচে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে (২৫৮রানে) শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করে এবি-র দল। এরপর জয় করেন ওয়ানডে সিরিজ ও। ১০৯.৬৬ গড়ে ৩২৯ রান সংগ্রহ করে সিরিজ সেরা হন। যাতে ১২৫ রানের অপরাজিত একটি ইনিংস ছিলো। ২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপে ১৬২ রানের অপরাজিত ইনিংস সহ ৩টি ৫০+ ইনিংস খেলেন।

 

একই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত পারফর্মেন্সের দরুন তার দল, নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪০৮/৫ রান সংগ্রহ করে। সিডনিতে মাত্র ৬৪ বল খরচায় ওয়ানডে ইতিহাসে দ্রুততম ১৫০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও এটি ছিলো বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২য় দ্রুততম সেঞ্চুরি। শেষ ৫ ওভারে আসে ৭৩ রান, এটিও নতুনভাবে ক্রিড়াবিশ্বে আলোড়িত করে। সেই ম্যাচে ২৫৭ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় প্রোটিয়ারা৷

এছাড়াও এবি-র ২০০৭ সালে বারমুডা বিপক্ষে মাত্র ৬৬ বল খরচায় ১৬২ রানের অপরাজিত একটি ইনিংস রয়েছে। ২০১৫ সালের ১২ই মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৮২বলে ৯৯ রানের ইনিংস খেলেন। সর্বাধিক ২০টি ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড নিজের নামে করে নেন। এছাড়াও তার ঝুলিতে রয়েছে বিশ্বকাপ আসরে সর্বোচ্চ ৩৬টি ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড। ৪৮২ রান সংগ্রহ করে টুর্নামেন্টে ৩য় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০১৫ সালে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি (১৬বলে) এবং দ্রুততম সেঞ্চুরির (৩১বলে) রেকর্ড তার ঝুলিতে রয়েছে। ২০১৮ সালের ২৩শে মে প্রোটিয়া এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান সব ধরণের আন্তর্জাতিক ম্যাচ হতে অবসরের ঘোষণা দেন। যদিও বা আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে আবারো পুনরায় ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

১১৪ ম্যাচে তার রান সংখ্যা ৮৭৬৫। যাতে রয়েছে ২২টি সেঞ্চুরি এবং ৪৬টি পঞ্চাশ রানের ইনিংস। ওয়ানডেতে ২২৮ ম্যাচে করেছেন ৯৫৭৭ রান। যাতে রয়েছে ২৫টি শতক এবং ৫৩ টি পঞ্চাশ রানের ইনিংস। টি-২০তে ৭৮ ম্যাচে নিয়েছেন ১৬৭২ রান। যাতে ১০টি পঞ্চাশ রানের ইনিংস রয়েছে।

ক্রিকেট বিশ্ব আবারো মুখিয়ে আছে এবি-র আগ্রাসী ভঙ্গির ম্যাচ দেখার অপেক্ষায়। জন্মদিনে অনেক অনেক শুভ কামনা রইলো এবি।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »