রাওয়ালপিন্ডিতে টাইগারদের হতাশায় মোড়ানো ১ম দিন!

সানিউজ্জামান সরল »

‘কলকাতা থেকে পাঞ্জাব’ গল্পটা যেন একই গতিতে আগালো। হতাশার চরম এক ধারাবাহিকতা বজায় রাখলো বাংলাদেশ। রাওয়ালপিন্ডিতে টাইগারদের এমন ছন্নছাড়া ব্যাটিং, বিষণ্ণ করেছে দেশের হাজারো ক্রিকেট প্রেমীদের। ২২ গজে ব্যর্থ হয়েছে ওরা ১১ জন। সেটা দেখছে পুরো ক্রিকেটবিশ্বই। তবে আড়ালে, হয়তোবা কোন এক ঘরের কোনে আলো নিভিয়ে চোখের জল ফেলছে হাজারো ক্রিকেট প্রেমী। সেটা বা কয়জনই দেখছে? সে যাই হোক! সবার মত আমিও বিষন্ন মন ও কাঁপা কাঁপা হাতে কি-বোর্ড চাপছি। ব্যর্থতার গল্প লিখতে কার’ই বা ভালো লাগে? তবুও যে লিখতে হয়!

টেস্ট খেলতে পাকিস্তান যাওয়ার সময় ভেবেছিলাম, অনেকগুলো বর্ষা শেষে শরতের উষ্ণতা মিশিয়ে এবার আসবে বুঝি বসন্ত! তবে দরজা খুলে দেখি, সবাইকে হতাশ করে এসেছে চরম এক ব্যর্থতা। হ্যাঁ, ওরা ১১ জনের ব্যর্থতায় হতাশ হয়েছি আমরা। হতাশা মাখানো চরম ব্যর্থতাময় এই দিনের সন্ধ্যাটাও হয়েছে বড্ড অখণ্ড। যেন নক্ষত্রবীথি কাঁপছে সন্ধ্যার মলিন হাওয়ার করুণ সুরে। বাংলাদেশের আকাশে এসে ভর করেছে চরম দুঃসময়। হতাশার গল্পে যেন মৌ মৌ করছে পদ্মা পাড়ের সন্ধ্যা।

পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বেলা ১১ টায় শুরু হয় স্বাগতিক পাকিস্তান ও সফরকারী বাংলাদেশের মধ্যকার ১ম টেস্ট। টস ভাগ্যে ভাগ্যদেবী যেন সমর্থন জোগালো পাকি অধিনায়ক আজহারেই। টস জিতে আগে বল করার সিদ্ধান্ত নিলেন পাকিস্তান। পেসবান্ধব উইকেটে পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্ত যৌক্তিক’ই ছিল বটে। ইনিংস উদ্বোধন করতে নামলেন দীর্ঘ ৯ মাস পর জাতীয় দলের হয়ে সাদা পোশাকে ফেরা ও সম্প্রতি বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের (৩৩৪*) রেকর্ড করা তামিম ইকবাল এবং বাংলাদেশের হয়ে ৯৬ তম টেস্ট ক্যাপ পাওয়া সাইফ হাসান।

শুরুতেই বিধ্বস্ত হলো বাংলাদেশ। ইনিংসের ২য় বলেই পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদির দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে আরেক আব্বাসের হাতে ক্যাচ তুলে শূন্য হাতে ফিরে গেলেন অভিষিক্ত হওয়া সাইফ হাসান। কয়েক বলের ব্যবধানে বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান তামিমকেও ফিরে যেতে হলো। এবার বোলার আব্বাস। ইনিংসের ২য় ওভারের ৪র্থ বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে তামিমকে ফেরান পেসার আব্বাস। ফেরার সময় তামিমের ঝুলিতে ছিল মোটে ৩ রান। শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপাকে বাংলাদেশ দল।

১৬ মাস পর সাদা পোশাকে ফেরা নাজমুল হাসান শান্তকে নিয়ে বিপদ সামাল দিতে থাকেন কাপ্তান মুমিনুল হক। বিপদের এই সময়ে পঞ্চাশোর্ধ রানের এক জুটিও গড়েন মুমিনুল-শান্ত। তবে ব্যক্তিগত ৩০ রান করে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে অপ্রয়োজনীয় শট খেলতে গিয়ে উইকেট রক্ষক রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরে যান তিনি। মুমিনুলের ফিরে যাওয়ার পর উইকেটে আসেন মাহমুদউল্লাহ। শান্তকে নিয়ে এগিয়ে নিতে থাকেন ইনিংস। তবে মধ্যাহ্ন বিরতি শেষে ইনিংসের ৩৩.৫ বলে ব্যক্তিগত ৪৪ রানে মোহাম্মদ আব্বাসের বলে উইকেট রক্ষক রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ তুলে ফিরে যায় শান্ত। কিছুক্ষণের ব্যবধানে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে শফিকের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ব্যক্তিগত ২৫ রানে রিয়াদও ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন।

ফলে বাংলাদেশ শিবিরে পুনরায় ভর করে বসে বিপর্যয়। কিন্তু এবারো বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান লিটন-মিঠুন। বিপর্যয়ের মাঝেও ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে থাকেন লিটন। এগিয়ে নিতে থাকেন দলের রান। তবে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারলেন কই? ব্যক্তিগত ৩৩ রান করে হ্যারিস সোহাইলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান লিটন। লিটনের ফিরে যাওয়ার পর উইকেটে আসেন স্পিনার তাইজুল। তাইজুলকে সঙ্গে নিয়ে গুটিগুটি পায়ে এগুতে থাকেন মোহাম্মদ মিঠুন। দেখেশুনে ব্যাট চালিয়ে ইনিংসের ১ম অর্ধশতক তুলে নেন মিঠুন। মিঠুনের অর্ধশত রানের পর ব্যক্তিগত ২৪ রান করে ফিরে যেতে হয় তাইজুলকেও।

তাইজুল ফিরে যাওয়ার পর বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি ৫০ হাঁকানো মিঠুন। ব্যক্তিগত ৬৩ রান করে নাসিম শাহর বলে উইকেট রক্ষক রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ তুলে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন এই হাফসেঞ্চুরিয়ান। তারপর একে একে রুবেল-জায়েদরা ফিরে গেলে, বাংলাদেশের ১ম ইনিংস থামে মাত্র ২৩৩ রানে। ফলে ১ম দিনেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে হতাশার আরেকটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করলো টাইগারররা। এবার দেখার পালা, বাংলাদেশী বোলররা কোন কাব্যগ্রন্থ রচনা করে! ব্যাটসম্যানদের ন্যায় ব্যর্থতার নাকি সফলতার।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ- ২৩৩/১০ (৮২.৫)
মিঠুন ৬৩ (১৪০), শান্ত ৪৪ (১১০)
শাহিন আফ্রিদি ৫৩/৪, আব্বাস ১৯/২

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »