fbpx

মধুর স্মৃতিতে কার্ডিফের সুফিয়া গার্ডেন

https://scontent.fdac4-1.fna.fbcdn.net/v/t1.0-9/36386236_2027432020601594_1928619179817041920_n.jpg?_nc_cat=104&_nc_eui2=AeFY40879vpUlXD3TvLuwunYiYPt9keMWugjnmsYPL9A2_cQ-azY1GmWWQy36LFNFzNLAU2kdDYB9vV9Qwdjt7cfxuFbw0DGkcoiJ24B4pOm6Q&_nc_ht=scontent.fdac4-1.fna&oh=926e9b4229d9f6e3ffd66fe5510e3767&oe=5D672D33 »

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আফজাল হোসেন: কার্ডিফে বাংলাদেশের দুই জয় ও তিন সেঞ্চুরির গল্প কার্ডিফই একমাত্র শহর, যেখানে বাংলাদেশ খেলেছে দুই ম্যাচ জয়ও পেয়েছে তারা দুই ম্যাচে। এই শহরে সুফিয়া গার্ডেন মাঠে বাংলাদেশ হারিয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে। ২০০৫ সালে মোহাম্মেদ আশরাফুলের সেঞ্চুরিতে পাঁচ উইকেট বাংলাদেশ হারায় রিকি পন্টিং এর অস্ট্রেলিয়াকে।

এই মাঠে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচ খেলে ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, এই ম্যাচেও সাকিব আল হাসান এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের জোড়া সেঞ্চুরিতে পাঁচ উইকেট জয় পায় বাংলাদেশ। ২০০৫ সালের ১৮ই জুন ন্যাটয়েস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে টসে জিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাট করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের শুরুতেই অজি ওপেনার অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে সাজঘরে ফেরান মাশরাফি বিন মর্তুজা। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে গিলক্রিস্টকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মাশরাফি। ওয়ানডাউনে খেলতে নামা রিকি পন্টিংও সেদিন বেশি দূর যেতে পারেননি, রানের খাতা খুলতে না খুলতেই তাপস বৈশ্যের বলে ১ রানে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেন সাজঘরে। শুরুর এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে হাল ধরেন অজি ওপেনার ম্যাথু হেইডেন, যদি তিনি বেশি সময় ক্রিজে ঠিকে থাকতে পারেননি, ব্যক্তিগত ৩৭ রান নাজমুল হোসাইনের বলে বোল্ড হন তিনি। সেদিন অজিরা মাইকেল ক্লার্ক আর মার্টিনের অর্ধশতকে নির্ধারিত ওভার শেষে পাঁচ উইকেট ২৪৯ রান করতে সক্ষম হয়।

সেই ক্রিকেট পরাশক্তি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে এই অল্প রানে আটকাতে মূল ভূমিকা পালন করেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, তাঁকে সঙ্গ দেন তাপস, নাজমুল হোসাইন। মাশরাফি সেদিন মিতব্যয়ী থাকলেও খরুচে ছিলেন তাপস ও নাজমুল। তাপস ১০ ওভারে ৬৯ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট পান আর নাজমুল ১০ ওভারে দুই মেইডেন সহ ৬৫ রান খরচে ১ উইকেট লাভ করেন। কিন্তু মাশরাফি ছিলেন ব্যতিক্রম ১০ ওভারে দুই মেইডেন সহ ৩৩ রানে ১ উইকেট পান। সেদিন মোহাম্মদ রফিক কোনো উইকেট না পেলেও তার কিপ্টে বোলিং অজিদের অল্পতে বাঁধতে সাহায্য করে। তিনি ১০ ওভারে দেন মাত্র ৩১ রান। মাইকেল ক্লার্ক ৫৪ আর মার্টিন ৭৭ রান করেন। এছাড়া মাইক হাসি ও সাইমন ক্যাটিস শেষ দিকে ৩৯ বলে ৬৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি অজিদের নিয়ে যায় ২৪৯ রানে।

অজিদের দেওয়া ২৫০ রান তাড়া করতে নেমে দলীয় ১৭ রানে নাফিস ইকবালের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ২৫০ রানের লক্ষ্য তেমন কঠিন না হলেও বাংলাদেশের জন্য ছিল কঠিন। কিন্তু সেদিন সেই কঠিন কাজটাই সহজ হয়েছিল মোহাম্মদ আশরাফুলের মহাকাব্যিক ১০১ বলে ১০০ রানের উপর ভর করে। বিশ্বের সেরা বোলিং লাইনআপ তুলোধুনো করেছিলেন ব্যাটকে তলোয়ার বানিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিভাবান এই ব্যাটসম্যান। ম্যাগ্রা, গিলেস্পি আর ব্র্যাড হজ কে কোনো সুযোগ না দিয়ে নিজের প্রথম ওয়ানডে শতক তুলে নেন মোহাম্মদ আশরাফুল। পঞ্চম উইকেট জুটিতে অধিনায়ক হাবিবুল বাশারকে নিয়ে ১৩২ রানের জুটি গড়েন মোহাম্মদ আশরাফুল। সেদিন মোহাম্মদ আশরাফুল ১০১ বলে ১১ বাউন্ডারির সাহায্যে ১০০ রান করে আউট হন। তিনি যখন আউট হন বাংলাদেশ তখন জয় থেকে মাত্র ২৩ রান দূরে। সেদিন সেই বাকী কাজটা সারেন বাংলাদেশ ভয়ডরহীন ব্যাটসম্যান আফতাব আহমেদ। আফতাব আহমেদের ১৩ বলে দুই চার এবং এক ছক্কার ২১ রানের ইনিংসের উপর ভর করে ৪ বল বাকি থাকতেই পাঁচ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ।

কার্ডিফে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামে বাংলাদেশ ২০১৭ সালের আইসিসি’র চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে, সেদিন প্রতিপক্ষ ছিল নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের সামনে তখন আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন উকি দিচ্ছে। আর সেই স্বপ্ন সত্যি হতে শুধু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টা প্রয়োজন ছিল। ২০১৭ সালের ৯ই জুন সুফিয়া গার্ডেনে সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে মাঠে নামে মাশরাফী বাহিনী। সেই সাথে নিউজিল্যান্ডকে বেঁধে ফেলে মাত্র ২৬৫ রানে। ব্ল্যাক ক্যাপসদের এই অল্পতে আটকে রাখার মূল কারিগর পার্ট টাইম অফস্পিনার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, তার অফস্পিন ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে যায় কিউই ব্যাটসম্যান। মোসাদ্দেক মাত্র ৩ ওভার বল করে ১৩ রানের বিনিময়ে সাজঘরে ফিরান ব্রুম, নিশাম ও এন্ডারসনকে ফলে নিউজিল্যান্ডের মিডল অর্ডার ভেঙ্গে পড়ে। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উলিয়ামসন ৫৭ এবং অভিজ্ঞ রস টেলরের ব্যাট থেকে আসে ৬৩ রান। বাংলদেশের বোলারদের মধ্যে সৈকত ছাড়াও তাসকিন দুটি এবং রুবেল হোসাইন ও মুস্তাফিজ নেন ১টি করে উইকেট। ফলে নিউজিল্যান্ড থামে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রানে।

বাংলাদেশ সামনে সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন পূরণ করতে দরকার মাত্র ২৬৬ রান। লক্ষটা তাড়া খুব সহজ নয় কারণ প্রতিপক্ষ যে নিউজিল্যান্ড বলে কথা। আর বিদেশের মাটিতে তাদের বিপক্ষে যে জয় শূন্য বাংলাদেশ। তবে আশার কথা ছিল যে, এই মাঠে বাংলাদেশ হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে তাও এক যুগ আগে। সেই হিসেবে জয়টা আশা করা কোনো অপ্রত্যাশিত ছিল না। ২৬৬ রান তাড়া করতে নেমে দলীয় ৩৩ রানে হারায় ৪ উইকেট। একে একে সাজঘরে ফিরেন তামিম ইকবাল, সাব্বির রাহমান, সৌম্য সরকার ও মুশফিকুর রহিম। এমন পরিস্থিতে জয় কথা ম্যাচ জয়ের কথা তো দূরে থাক শতক পার হতে পারবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছিল সংশয়। এমন অবস্থা থেকে দল টেনে নিয়ে যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও সাকিব আল হাসান, তাঁদের জোড়া শতকে পাঁচ উইকেটে নিউজিল্যান্ড হারিয়ে সেমিফাইনালে খেলে বাংলাদেশ। পঞ্চম উইকেট জুটিতে রিয়াদ ও সাকিব মিলে গড়েন ২২৪ রানের জুটি। সাকিব আল হাসান ১১৫ বলে ১১ চার এবং ১ ছক্কার সাহায্যে করেন ১১৪ রান। সাকিব যখন আউট হন বাংলাদেশ তখন জয় থেকে মাত্র ৯ রান দূরে। মোসাদ্দেককে নিয়ে বাকি কাজটা সারেন ম্যাচের আরেক সেঞ্চুরিয়ান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। সেদিন রিয়াদ ৮ বাউন্ডারির সাথে দুই ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ১০৮ বলে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংসটি সাজান। সাকিব – রিয়াদের সেঞ্চুরির দিনে ১৬ বল হাতে রেখে পাঁচ উইকেটে নিউজিল্যান্ড হারায় বাংলাদেশ।

কিবোর্ড হাতে যখন এসব লিখছি, এই মাঠে আবার খেলতে নামছে বাংলাদেশ। আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯ এর নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে শনিবার ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। কার্ডিফের সুফিয়া গার্ডেন, সেই জুন মাস এবার শুধু ভিন্ন প্রতিপক্ষ। অতীত পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলছে, বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচের পারফর্মেন্সও তাদের পক্ষে কথা বলছে। তাই বলা যায় এবার ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কার্ডিফের সুফিয়া গার্ডেনে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »