fbpx

ফিরে দেখা ১৯৯৬ এর বিশ্বকাপ

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আইসিসি পরিচালিত বিশ্বকাপ ক্রিকেটের এটি ৬ষ্ঠ আসর। ওই বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ তারিখ পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তানে দ্বিতীয়বার এবং শ্রীলঙ্কায় প্রথমবারের মতো যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হয়। ব্যবসায়িক অংশীদারীত্বের কারণে এ প্রতিযোগিতাটি আইটিসি’র উইলস ব্র্যান্ডের সৌজন্যে উইলস বিশ্বকাপ নামে পরিচিতি পায়। এই বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় শ্রীলঙ্কা। জেনে নেয়া যাক শ্রীলঙ্কার সেই জয়ের কথা।

প্রথম বারের মতো ১২টি দেশকে নিয়ে আয়োজন করা হয় ১৯৯৬-এর আইসিসি’র বিশ্বকাপ। সে আসরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ মেলে আইসিসি’র সহযোগী তিন দেশ নেদারল্যান্ডস, আরব আমিরাত ও কেনিয়া। গত ৫টি আসরের তুলনায় রের্কড করে তিন দেশে মোট ৩৯টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ৩৬টি ভেন্যুতে। অনিল কুম্বলে সর্ব্বোচ্চ ১৫ উইকেট আর দুই সেঞ্চুরির সাথে শচীন টেন্ডুলকার করেন ৫২৩ রান। তবে, দলকে বিশ্বকাপ জেতানোর সঙ্গে প্রতি ম্যাচে জয়ের ভূমিকা রাখায় জয়সুরিয়া হন টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটার।

আরও বিশেষ কিছু কারণে ৯৬-এর বিশ্বকাপ ক্রিকেট পিয়াসীদের কাছে বেশ স্বরণীয় এক অধ্যায়। কেননা, এক রকম গৃহ যুদ্ধের মাঝেও বিশ্বকাপ আয়োজনের সঙ্গে ছোট দেশ হয়ে বিশ্ব মুকুট জয়ের অনন্য কৃতিত্ব দেখায় লঙ্কানরা। শুধু তাই না। আধুনিক ক্রিকেটে নতুন এক ধারাও উদ্ভব করে লঙ্কানদের দুই খেপাটে ওপেনার কালুভিতারানা ও জয়সুরিয়ার ব্যাটিং। ১৫ ওভারে তখন ক্রিকেটীয় সংস্কৃতি ছিলো, নতুন বলে ধৈর্যের সাথে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানরা বলকে পুরোনো করবে। কিন্তু, এই ধারনাকে পাল্টে দেয় কালুভিতারানা ও সনাত জয়সুরিয়ার আগ্রাসী ব্যাটিং। তখনও পর্যন্ত প্রথম ১৫ ওভারে ৫০ থেকে ৬০ রান হওয়াটাকেই যথেষ্ট বলে মনে করা হত। সেটাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভারত, কেনিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লঙ্কান দলটি প্রথম ১৫ ওভারে তোলে যথাক্রমে ১১৭, ১২৩ ও ১২১ রান।

কিভাবে বিশ্বকাপ জয় করলো লঙ্কানরা এই প্রশ্ন এখনো রয়েছে অনেকের মনে। ফেভারিট না হয়েও বিশ্ব আসরের মুকুট পরে তারা।

দেশটিতে তখন চলছিলো তামিল বিদ্রোহীদের সাথে সরকারের যুদ্ধ আর হানাহানিত। আর তখন দেশটির মানুষদের সুখের খোঁজে সংকল্পবদ্ধ হন অজুর্না রানাতুঙ্গা, ডি সিলভারা।

নিরাপত্তার কারণে, ‘এ’ গ্রুপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দু’টি ম্যাচে ওয়ার্ক ওভার পায় শ্রীলঙ্কা। তাই ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে স্বাগতিকরা।

যেখানে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের পর ভারতকে চমক দেখিয়ে ফাইনালের মঞ্চে জায়গা করে নেয় লঙ্কানরা।

টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালের মঞ্চে উঠা। ফেভারিট মার্ক টেইলরের অস্ট্রেলিয়াকে কান্নার সাগরে ভাসায় অরবিন্দ ডি সিলভার অলরাউন্ড পারফরমেন্স। বল হাতে তিন উইকেট নেয়ার সাথে ব্যাট হাতে হাঁকান সেঞ্চুরি। আর তাতেই ফাইনালে অজিদের ২৪১ রানে থামিয়ে ৭ উইকেটের হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে নোঙ্গর ভিড়ায় লঙ্কানরা। সেই সাথে বুনো উল্লাসে মেতে উঠে পুরো দ্বীপ রাষ্ট্রটি।

এরপর থেকে মূলত রানাতুঙ্গা, গুরুসিংহা, ডি সিলভা, মুরালিধন, জয়াসুরিয়াদের হাত ধরেই ক্রিকেট বিশ্বে শ্রীলঙ্কার বীরদের আবির্ভাব ঘটে।

এক নজরে ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ

আয়োজক দেশ : ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা
অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা : ১২টি
মোট ম্যাচ : ৩৭টি
টুর্নামেন্টের ধরণ : রাউন্ড রবিন ও নক আউট পর্ব

চ্যাম্পিয়ন : শ্রীলঙ্কা
রানার আপ : অস্ট্রেলিয়া
সর্বোচ্চ রান : ভারতের শচীন টেন্ডুলকার (৫২৩)
সর্বোচ্চ উইকেট : ভারতের অনীল কুম্বলে (১৫)
ফাইনালে ম্যাচ সেরা : শ্রীলঙ্কার অরবিন্দ ডি সিলভা
টুর্নামেন্ট সেরা : শ্রীলঙ্কার সনাৎ জয়সুরিয়া।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »