“প্রস্তুতির যথেষ্ট সময় পেলে ভালো পারফরম্যান্স করা সম্ভব” – ডোমিঙ্গো

সাজিদা জেসমিন »

বর্তমানে বল হাতে উইকেট আসলেও ব্যাট হাতে আসছেনা রান। প্রধান কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর সময়কালও প্রায় ৫মাস হয়ে গেলো। কিন্তু আসছেনা সফলতা। টেস্ট ফরম্যাটের অবস্থা বলতে গেলে, টেস্টে বর্তমানে খুবই বাজে সময় কাটছে বাংলাদেশের। বিদেশের মাটিতে পেস পরাশক্তির কাছে পরাজিত হচ্ছে বারংবার। শক্তিশালী পেস এট্যাক প্রত্যেকবার যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ব্যাপারে ডোমিঙ্গোর ব্যাখ্যা পেস এট্যাকে বরাবরই দুর্বলতা আছে বাংলাদেশের। আর এটা কাটিয়ে উঠতে হলে আরো কাজ করা প্রয়োজন। ডোমিঙ্গো সম্প্রতি ক্রিকবাজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন –

‘আমি যখন অন্য দলের কোচ ছিলাম তখন মনে করতাম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের আটকানোর অন্যতম উপায় হলো ভালো পেস এট্যাক। এটি একটি মানসিক ব্যাপার যে এই ছেলেরা পেস সহায়ক উইকেটে ভালো পেসেরদের মোকাবিলা করতে হিমশিম খায়। এটি মানসিক এবং কৌশলগত ব্যাপার। আমাদের বাংলাদেশের বাইরে ভালো পেসারদের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করা উচিত। বাংলাদেশের উইকেট পেস সহায়ক নয় বিধায় আমরা এখানে ভালো করি, কিন্তু বাইরের কন্ডিশনে ভালো করতে হলে আমাদের এটা নিয়ে প্রচুর কাজ করতে হবে।’

পেস এট্যাক সামলানোয় পারদর্শী হওয়ার জন্য পেস সহায়ক উইকেট জরুরি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে পেস সহায়ক উইকেট তৈরি জরুরি কিনা জানতে চাইলে ডোমিঙ্গোর মন্তব্য এখানে সেটা একপ্রকার অসম্ভব। ডোমিঙ্গো বলেন – ‘মিরপুরের উইকেটে কোন ঘাস নেই৷ এখানে বিপিএলের ম্যাচ হয়, ঘরোয়া লিগের ম্যাচ হয় এবং নারী দলেরও কিছু ম্যাচ হয়। তাই এখানে ঘাস দিয়ে উইকেট বানানো সম্ভব নয় যেহেতু এটি বেশি ব্যবহৃত হয়।

আমাদের উন্নত উপায়ে ভাবতে হবে এবং আমি মনে করি আমাদের বাইরে যাওয়া উচিত এবং তৈরি হওয়া উচিত৷ আমরা কঠিন কন্ডিশন কিভাবে মোকাবিলা করবো আমাদের সেদিকে লক্ষ্য রেখে এগুতে হবে। ভাগ্যক্রমে, আমরা আমাদের সমস্ত টেস্ট ম্যাচগুলি উপমহাদেশে খেলছি তবে প্রতিটি সম্ভাব্য বিকল্পের দিকে নজর দেওয়া দরকার।’

টেস্টের ব্যাটিং বর্তমানে এতোটাই খারাপ যে অনেকেই বাংলাদেশ টেস্ট খেলা ভুলে গেছে এমনটা মনে করেন। টেস্টে ব্যাটিংয়ের এমন দুরাবস্থার কারণ জানতে চাইলে বলেন – ‘দেখুন সাইফ মাত্র ১টি টেস্ট খেলেছে, আর শান্ত ২টি, তারা এখনো তরুণ৷ অপরদিকে তামিম বহুদিন পর টেস্ট ফরম্যাটে ফিরেছে, আমি জানিনা সে শেষ কবে এই ফরম্যাটে খেলেছিলো। কিন্তু আমাদের টেস্টের প্রস্তুতি ভালোভাবে হচ্ছে না।’

‘বর্তমানে কোচ এই ছেলেদের সাথে প্রচুর সময় ব্যয় করছেন। পাকিস্তান ট্যুরটি খুব সংক্ষিপ্ত ছিলো। আমি দুঃখিত যে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ টেস্ট টির পূর্বে আমরা মাত্র একদিন সময় পেয়েছিলাম প্রস্তুতির জন্য। আমি ইতিপূর্বে এমন কোন দলের সাথে কাজ করিনি যেখানে টেস্ট ম্যাচের পূর্বে প্রস্তুতির জন্য একদিন মাত্র সময় দেওয়া হয়। তাই আমরা পরবর্তী ম্যাচগুলোতে সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি, যাতে আমরা প্রস্তুতির জন্য আরো বেশি সময় পাই৷ আমরা আমাদের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনে খেলোয়াড়দেরকে ভালোভাবে পারফর্ম করার জন্য সুযোগ দিতে চাই৷’

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »