পাকিস্তান সিরিজে অধিকাংশ ক্রিকেটারই অনাগ্রহী 

জহির ভূইয়া »

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

২০১১ বিশ্বকাপ ক্রিকেট আসর শেষ হবার পর থেকে টাইগার ক্রিকেটের পাকিস্তান সফর নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত। সে সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে কথা দিয়েছিলেন বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ সফর করবে পাকিস্তান। কিন্তু পুরো দেশের চাপে সরকার অনুমতি না দেবার ফলে ২০১১ সালে পাকিস্তান সফর হয়নি। তবে এরপর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড নিজেদের ধীরে ধীরে গুছিয়ে নেয়।

পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে সহ অনেক মহিলা ক্রিকেট দল পাকিস্তান সফর করেছে। বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট দলও একাধিক বার পাকিস্তান সফরে গিয়েছে। কিন্তু ২০০৯ সালে পাকিস্তানের মাটিতে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দলের ওপর হামলার পর বড় কোন ক্রিকেট দল পাকিস্তানে যায়নি।
কিন্তু ২০১৯ সালের শেষ ভাগে এসে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দল আবারো পাকিস্তানের মাটিতে সিরিজ খেলে নিরাপদে দেশে ফিরে গেলে পাকিস্তানের কণ্ঠস্বর পাল্টে যায়।

পরিস্থিতি এখন আর আগের মতো নেই। বাংলাদেশ থেকে ৪ সদস্যের টিম সরকারীভাবে পাকিস্তান সফরে গিয়েছে। সে টিমের রিপোর্ট ইতিবাচক ছিল বলেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পাকিস্তানের মাটিতে টি-২০ সিরিজ খেলতে সম্মতি দিয়েছে। কিন্তু সঙ্গে বিসিবি শর্ত জুড়ে দিয়ে টেস্ট সিরিজ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজন করতে হবে। ফলে পুরো বিষয়টি ভেস্তে যাবার উপক্রম হয়েছে।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশকে প্রমাণ করতে হবে পাকিস্তান ক্রিকেট খেলার জন্য নিরাপদ নয়। অন্যদিকে বিসিবি সিইও নিজাম উদ্দিন সুজন যুক্তি দেখালেন, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রায় সকল কোচিং স্টাফই বিদেশী। তাই বিদেশী নাগরিকরা পাকিস্তানে লম্বা সময় ধরে টেস্ট সিরিজের জন্য অবস্থান করতে রাজী নয়। পাশাপাশি বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপনও নেতিবাচক বক্তব্য প্রদান করলেন।

এমন পরিস্থিতিতে সিরিজ সত্যি হবে কিনা সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। কিন্তু মূল সমস্যা নিয়ে কেউ কোন কথা বলছে না। যারা ক্রিকেট খেলবে সেই ক্রিকেটাররা কি পাকিস্তান যেতে সম্মতি দিয়েছে বিসিবিকে? এটাই এখন বড় প্রশ্ন। বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন বলে দিয়েছেন বিসিবি কোন ক্রিকেটারকে চাপ প্রয়োগ করবে না। কেউ পাকিস্তান যেতে না চাইলে বিসিবি তাঁকে চাপ দেবে না।

সত্যিই কি তাই? বিসিবির অন্দর মহলে ভিন্ন বাতাস বইছে। বিসিবি চাপ দিচ্ছে না সত্য, তবে আবার সিরিজে অংশ গ্রহনের প্রসঙ্গটিও বিসিবি আলোচনা করছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেটাররা কি ভাবছে? খুবই গোপনীয় এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোন ক্রিকেটার কথা বলতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। কেউ কিছু না বললেও ভেতরে ভেতরে নিজেদের মধ্যে আলোচনা চলছে পাকিস্তান সিরিজ নিয়ে। বাতাসে তো কিছু ভেসে বেড়ায়, যা মাঝে মধ্যে কানে বেঁজে ওঠে।

জাতীয় দলের এক ক্রিকেটার নাম না প্রকাশের শর্তে নিউজক্রিকেট২৪-কে বলেন, ‘আসলে বিষয়টি নিয়ে খুবই চিন্তিত। পরিবারের কেউ তো পাকিস্তান যেতে সম্মতি দিচ্ছে না।আমার মতো প্রায় সকলেই পাকিস্তান সিরিজ নিয়ে চিন্তিত। কেউ ইতিবাচক বলে মনে হয়নি। তবে এটা ঠিক কারও পরিবার পাকিস্তানে সিরিজ খেলতে যেতে রাজী নয়, এটা সত্য। এই বাস্তবতার মধ্যে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আসলে বিষয়টি এখন আর বিসিবি আর ক্রিকেটারদের মধ্যে নেই। এখানে যুক্ত হয়ে গেছে ক্রিকেটারদের পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের অনুমতি ছাড়া কেউ পাকিস্তান খেলতে যাবে বলে মনে হয় না।’

নাম না প্রকাশের শর্তে বিসিবির এক পরিচালক বলেন, ‘পরিস্থিতি আমাদের হাতে নেই। বিসিবি চাইলেই সিরিজ হবে আর না চাইলে হবে না- এটা সঠিক তথ্য না। বিসিবি শুধু চাইছে টেস্ট সিরিজ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হউক। কিন্তু ক্রিকেটারদের পরিবারের সদস্যরা না চাইলে তো কেউ পাকিস্তান সফরে যেতে চাইবে না। তখন তো সিরিজ আয়োজন নিয়ে শংকা তৈরি হবে। ক্রিকেটার ছাড়া ক্রিকেট সম্ভব না। এই বাস্তবতা সামনে রেখেই বিসিবি সিরিজের দিকে তাকিয়ে আছে।’

তবে বিসিবির অভ্যন্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ ক্রিকেটারই পাকিস্তান যেতে আগ্রহী নয়। তবে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজী নয়। বিসিবি ভেতর থেকে জানা গেছে, বিষয়টি আন্তর্জাতিক ইস্যু হওয়াতে কেউ কথা বলছে না। ক্রিকেটারদের চুপ থাকাটাই বলে দিচ্ছে কেউ এই সিরিজ নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব ধারণ করেন না। এখন শুধু অপেক্ষার পালা ‘কি হয়’ সেটা দেখার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »