পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার দশ পয়েন্ট

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

 

সাড়ে তিন বছর পর ওয়ানডে খেলার সুযোগটা দুই হাতে কাজে লাগালেন ট্রাভিস হেড। প্রথমে ব্যাট হাতে উপহার দিলেন ঝড়ো সেঞ্চুরি। পরে বোলিংয়েও ছড়ালেন আলো। ইমাম-উল-হক দারুণ সেঞ্চুরিতে জবাব দিলেন বটে, কিন্তু যথেষ্ট হলো না তার লড়াই। পাকিস্তানকে উড়িয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া।

দুই যুগ পর পাকিস্তান সফরে এসে টেস্ট সিরিজ জয়ের পর ওয়ানডে সিরিজের শুরুটাও অস্ট্রেলিয়ার হলো দুর্দান্ত। লাহোরে মঙ্গলবার তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে অ্যারন ফিঞ্চের দল জিতল ৮৮ রানে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে এই নিয়ে টানা ১০টি ওয়ানডে জিতল অস্ট্রেলিয়া। এই সংস্করণে ২০১২ সালের মাঝামাঝি থেকে দুই দলের সবশেষ ১৭ বারের দেখায় অস্ট্রেলিয়ার জয় ১৬টি! মাঝে ২০১৭ সালে মেলবোর্নে একটি ম্যাচ জিতেছিল পাকিস্তান।

অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নায়ক ট্রাভিস হেড ৭২ বলে ১২ চার ও ৩ ছক্কায় খেলেন ১০১ রানের ঝকঝকে ইনিংস। সঙ্গে বেন ম্যাকডারমটের ফিফটি ও ক্যামেরন গ্রিনের ক্যামিওতে সফরকারীরা করে ৩১৩ রান।

জবাবে ইমামের সেঞ্চুরি ও বাবর আজমের ফিফটির পরও পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ২২৫ রানে। দলের আর কেউ স্পর্শ করতে পারেননি ২০ রানও। ৯৬ বলে ১০৩ রান করেন ইমাম।

৩৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সেরা বোলার লেগ স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পা। অভিষিক্ত লেগ স্পিনার মিচেল সোয়েপসন ও অফ স্পিনার হেড নেন ২টি করে উইকেট।

টেস্ট সিরিজে খেলা প্যাট কামিন্স, জশ হেইজেলউড, মিচেল স্টার্ক ও ডেভিড ওয়ার্নারকে সীমিত ওভারের সিরিজে আগেই বিশ্রাম দেয় অস্ট্রেলিয়া। চোটের কারণে নেই কেন রিচার্ডসন, স্টিভেন স্মিথ, মিচেল মার্শ। কোভিডে আক্রান্ত হয়ে ছিটকে যান জশ ইংলিস ও অ্যাশটন অ্যাগার।

১৩ জন ফিট খেলোয়াড়ের মধ্যে থেকে প্রথম ওয়ানডের একাদশ বাছাই করতে হয় অস্ট্রেলিয়াকে। সোয়েপসনের সঙ্গে অভিষেক হয় পেসার ন্যাথান এলিসের। পাকিস্তান দলেও অভিষিক্ত দুই জনের। আগের দিন ব্যাটিংয়ের সময় আঘাত পাওয়া পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদিকে পায়নি তারা।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে হেডের ব্যাটে অস্ট্রেলিয়া পায় উড়ন্ত সূচনা। ২০১৮ সালের নভেম্বরের পর ওয়ানডে খেলতে নামা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান দারুণ সব শটের পসরা মেলে ধরেন শুরু থেকে।

তৃতীয় ওভারে তিনি দুটি চার মারেন হাসান আলিকে। এই পেসারের পরের ওভারে চার বলের মধ্যে মারেন তিনটি চার। অভিষিক্ত তরুণ পেসার মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়রের পরপর দুই বলে হাঁকান চার-ছক্কা। মাত্র ৩২ বলে ফিফটি তুলে নেন হেড।

পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল বিনা উইকেটে ৭২। হেডের রানই তখন ৫২।

অন্য পাশে নিজের ছায়া হয়ে থাকা ফিঞ্চ পরের ওভারে ৮৯ মিটার ছক্কায় ওড়ান অভিষিক্ত জাহিদ মাহমুদকে। ৩৪ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনারের পরের ওভারে ছক্কায় ওড়ানোর পর চার মারেন হেড। চতুর্দশ ওভারেই দলের রান স্পর্শ করে একশ।

পরের ওভারে ফিঞ্চকে ফিরিয়ে ১১০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন জাহিদ। উইকেটের পেছনে দুইবারের চেষ্টায় ক্যাচ নেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ৩৬ বলে একটি ছক্কায় ২৩ রান করেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক।

হেড চালিয়ে যান তাণ্ডব। ম্যাকডারমটের সঙ্গে গড়ে তোলেন আরেকটি পঞ্চাশোর্ধ জুটি। সেঞ্চুরি তুলে নেন মাত্র ৭০ বলে। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সংস্করণে অস্ট্রেলিয়ার কোনো ব্যাটসম্যানের যা দ্রুততম।

হেডের দুই ওয়ানডে সেঞ্চুরির দুটিই পাকিস্তানে বিপক্ষে, ২০১৭ সালে অ্যাডিলেইডে খেলেছিলেন ১২৮ রানের ইনিংস।

ইফতিখার আহমেদের ওই ওভারেই তিনি বিদায় নেন বেরিয়ে এসে খেলে, লং অফে ধরা পড়েন।

২৫ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ২ উইকেটে ১৭১। সাড়ে তিনশ রান তখন মনে হচ্ছিল নাগালে।

তবে ম্যাকডারমট ৬৩ বলে প্রথম ওয়ানডে ফিফটি করার পর বেশিক্ষণ টেকেননি। তৃতীয় রানের চেষ্টায় রান আউটে বিদায় নেন তিনি ৭০ বলে ৫৫ রান করে। ইনিংস টেনে নিতে পারেননি মার্নাস লাবুশেন (২৫)। কিপার-ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স কেয়ারি বিদায় নেন দ্রুত। অস্ট্রেলিয়ার স্কোর তখন ৫ উইকেটে ২৩০।

মার্কাস স্টয়নিস শুরু থেকে ধুঁকছিলেন ব্যাটে-বলে করতে। তিন দফা বেঁচেও যান তিনি। একবার আম্পায়ার কট বিহাইন্ডের আউট দেওয়ার পর রিভিউ নিয়ে। আরেকবার হাসানের ইয়র্কার তার পায়ে লেগে স্টাম্পে বল লাগলেও বেলস পড়েনি। এরপর ক্যাচ ফেলেন ইমাম। পরে তার ৪২ বলে ২৬ রানের নড়বড়ে ইনিংসটি শেষ হয় হ্যারিস রউফের বলে বোল্ড হয়ে।

এরপর দলের স্কোর তিনশ ছাড়ায় মূলত গ্রিনের ক্যামিওতে। ৩০ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

রান তাড়ায় পাকিস্তান শুরুতেই হারায় ফখর জামানকে। অ্যাবটের বলে মিড অফে হেডের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি ১৮ রান করে।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে পাকিস্তানকে এগিয়ে নেন ইমাম ও বাবর। ১৫ রানে পৌঁছে বাবর এই সংস্করণে দ্বিতীয় দ্রুততম ৪ হাজার রান পূর্ণ করেন ৮২ ইনিংসে। এক ইনিংস কম খেলে আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন হাশিম আমলা।

পাকিস্তান অধিনায়ক ফিফটি করেন ৬৬ বলে। এরপর আর বেশিক্ষণ টেকেননি। সোয়েপসনকে সুইপ করার চেষ্টায় বলের লাইন মিস করে এলবিডব্লিউ হন ৫৭ রানে। ৭২ বলে ৬ চারে গড়া তার ইনিংসটি।

৯৬ রানের এই জুটি ভাঙার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। সৌদ শাকিল, রিজওয়ান, ইফতিখার টিকতে পারেননি।

ইমাম এক প্রান্তে চালিয়ে যান লড়াই। ৫৭ বলে ফিফটির পর তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন তিনি ৯২ বলে। এরপরই এলিসের ইয়র্কারে বোল্ড হন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৬ চার ও ৩ ছক্কায় গড়া তার ইনিংস শেষ হওয়ার পর পাকিস্তান দ্রুতই বাকি ৪ উইকেট হারায়। সঙ্গী হয় এই সংস্করণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের আরেকটি হারের বিষাদ।

একই মাঠে আগামী বৃহস্পতিবার হবে দ্বিতীয় ওয়ানডে।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »