টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে সেরা আটে উঠে আসতে হবে আমাদের: খন্দকার সালেক সুফী

মারুফ ইসলাম ইফতি »

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

খন্দকার সালেক সুফী! বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবার প্রিয় প্রবীণ সমর্থকদের মধ্যে খুবই পরিচিত একটি মুখ। অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এই বিশিষ্ট ক্রীড়ানুরাগী ও ক্রিকেট সংগঠক নিউজক্রিকেট টুয়েন্টিফোরকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন দেশের ক্রিকেট নিয়ে।

নিউজক্রিকেট টুয়েন্টিফোরের পাঠকদের জন্য প্রবীণ এই ক্রিকেট বিশ্লেষকের  সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি হুবুহু তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন: দীর্ঘ বিরতির পর আবারো শ্রীলঙ্কা সফর দিয়ে ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। করোনারকালীন এই সময়ে বিদেশের মাটিতে এই সিরিজের ব্যাপারে আপনার ব্যক্তিগত অভিমত জানতে চাই।

খন্দকার সালেক সুফী:  দেখুন করোনারকালীন এই সময়টায় মাঠের ক্রিকেট কিন্তু থেমে নেই। কয়েকমাস বিরতির পর ক্রিকেট আবারো মাঠে ফিরেছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু সিরিজও শেষ হয়ে গেছে, আর কিছু সিরিজ এখনো চলমান। এছাড়া সিপিএলও সবেমাত্র শেষ  হলো।আইপিএলেও শুরু হতে যাচ্ছে আগামী সাপ্তাহ থেকে । করোনার প্রভাব যেমনি হোক, খেলা কিন্তু বন্ধ নেই।  শ্রীলঙ্কা সফর দিয়ে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন পর আবারো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে এটি অবশ্যই ভাল খবর। তবে আমার মনে হয় এই ফেরাটা, এবং এই ফেরার প্রস্তুতি আরো আগে হওয়া উচিৎ ছিল। স্বাস্থবিধী মেনে ক্রিকেটারদের প্রস্তুতির সুযোগটা আরো আগে থেকে করার প্রয়োজন ছিল। দেখুন শ্রীলঙ্কা সিরিজের প্রস্তুতি এখনো পুরোপুরি ভাবে শুরু হয়নি। ক্রিকেটারদের ছন্দে ফিরতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, কারন দীর্ঘ বিরতির পর চাইলেই পুরনো স্কিলে দ্রুত ফেরা সম্ভব নয়। শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য যেমন প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল সেটা হয়তো এই স্বল্প সময়ে সম্ভব নয়। তবুও ভরসা রাখছি ছেলেদের প্রতি। আশা করছি শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলাদেশ ভাল করবে। খুব সম্ভবত নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ হতে সাকিবের ফেরার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। সাকিবের সংযুক্তি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য ভাল হবে।

প্রশ্ন: টাইগারদের তিন ফরম্যাট নিয়ে জানতে চাই আপনার কাছে। ফরম্যাট অনুযায়ী টাইগারদের শক্তিমত্তা ও কোন দুর্বলতা কি আপনার চোখে পড়ে?
একজন ক্রিকেট বিশ্লেষক হিসেবে আপনার চোখে ৩ ফরম্যাটেই টাইগারদের উন্নতির জায়গা গুলো কোথায়?

খন্দকার সালেক সুফী:  সামর্থ্য ও শক্তি বিবেচনায় বর্তমান বাংলাদেশ দলটি তিন ফরম্যাটে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে আমার কাছে। ৩ ফরম্যাটের কথা যদি আলাদা করে বলতে যাই, তাহলে আমরা চোখে ওয়ানডে ফরম্যাটে খানিকটা ভাল অবস্থানে আছি আমরা । এছাড়া টি-টুয়েন্টি ও টেস্ট ফরম্যাটে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি এখনো।মাশরাফি,সাকিব,তামিম,মুশফিক, মাহমুদুল্লাহদের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সাথে তরুনরাও ভাল করছে। ওয়ানডে ফরম্যাটে আমাদের আরো ধারাবাহিক হওয়ার সুযোগ আছে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে  একজন ভাল লেগ স্পিনার ও ফিনিসিয়ারের অভাব বোধ করি প্রতিটি ফরম্যাটে। টেস্ট ফরম্যাটের কথা যদি বলতে যাই, তাহলে বলবো আমাদের শক্তিমত্তার চাইতে দুর্বলতা খানিকটা বেশি। টেস্টে আপনার স্কিলের পাশাপাশি আপনার অভিজ্ঞতাও বড় ভূমিকা পালন করে। তাই এই ফরম্যাটের জন্য অভিজ্ঞদের বিবেচনায় আনা উচিৎ বলে আমি মনে করি। দেখুন ঘরোয়া লিগ গুলোতে আশরাফুল, শাহরিয়ার নাফিসের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা ভাল করলেও জাতীয় দলে দরজা তাদের জন্য খুলছে না। আবার প্রায় প্রতিটি সিরিজে তরুন ক্রিকেটারদের উপর ভরসা করে ডেব্যু করানো হয়। আমার মনে হয়, তরুন ক্রিকেটারদের হুট করে টেস্ট ফরম্যাটে ডেব্যু না করিয়ে অভিজ্ঞদের সুযোগ দেওয়া উচিৎ। কারন টেস্ট এমন একটি ফরম্যাট, যেখানে আপনার অভিজ্ঞতা আপনাকে সাহায্য করবে।
টেস্ট ফরম্যাটে আমার চোখে সবচাইতে বড় দুর্বলতা হলো আমাদের বোলিং ইউনিট। সত্যি কথা বলতে, আমাদের বর্তমান টেস্ট ফরম্যাটের বোলারদের মধ্যে আমি প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট তুলে নেওয়ার সামর্থ্য দেখি না। লক্ষ্য করলে দেখবেন সর্বশেষ সিরিজ গুলো আমরা খুব বাজেভাবে হেরেছি। আর সেই হার গুলোর পিছনে বড় কারন আমাদের  বল হাতে  ব্যর্থতা।  আপনার টেস্ট স্কোয়াডে অবশ্যই ধারাবাহিকভাবে ১৪০+ গতিতে বল করতে পারে এমন বোলার থাকতে হবে, যে দেশ ও দেশের বাইরের উইকেটে নিজের  গতি ও সুইংকে কাজে লাগাতে পারবে। আমাদের এই ধরনের বোলার নেই বললেই চলে।
সাদা পোশাকে আপনার দলের অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে একজন লেগ স্পিনার। একজন লেগ স্পিনার যেকোন উইকেটে এক নিমিষে ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। আফগানিস্তান, নেপালের মতো দুর্বল টিমে রশিদ খান, সন্দিপ লামিচানের মতো আন্তর্জাতিক মানের লেগ স্পিনাররা সারা বিশ্ব ধাপিয়ে বেড়াচ্ছে,  অথচ দেখুন আমাদের কোন পরিক্ষিত লেগ স্পিনার নেই। তাই আমার মতে টেস্ট ফরম্যাটে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি ফাস্ট বোলিং ইউনিটে আরো উন্নতি করার জন্য বিসিবিকে আরো যত্নশীল হওয়া উচিৎ। দেখুন এই মুহুর্তে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ চলছে, মর্যাদার এই লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে আমাদের খুব দ্রুত র‍্যাঙ্কিংয়ে সেরা আটে জায়গা করে নিতে হবে। অন্যথায় পরবর্তীতে আমাদের সহযোগী দেশ গুলোর সাথে কোয়ালিফাই করতে হবে যেটা আমাদের জন্য অনেক বড় লজ্জার কারন হবে। ২০ বছরের টেস্ট অভিজ্ঞতা নিয়েও যদি আপনাকে সহযোগী দেশ গুলোর সাথে কোয়ালিফাই করে জায়গা করে নিতে হয় সেটা আমাদের দুর্বলতা।
টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটেও আমাদের যাচ্ছেতাই অবস্থা বর্তমানে। এই ফরম্যাটের জন্য কার্যকর  আমাদের ওই ধরনের পাওয়ার হিটার ও ফিনিসিয়ার নেই। আর সবচাইতে বড় দুর্বলতা বরাবরের মতো বোলিং ইউনিট। টি-টুয়েন্টিতে আপনার হাতে একজন ভাল লেগ স্পিনার থাকাটা বেশ জরুরি। আশা করি দুর্বলতা গুলো কাটিয়ে উঠা গেলে আরো ভাল করবে বাংলাদেশ।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের সূচনালগ্ন থেকে এখন  অব্দী বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাথে যুক্ত আছেন আপনি। দীর্ঘ এই অভিজ্ঞতায় পূর্বের তূলনায় বর্তমানে কেমন পার্থক্য আপনার চোখে পড়ে? আরো উন্নতির কি সুযোগ ছিল?

খন্দকার সালেক সুফী:  পার্থক্য তো অবশ্যই আছে, তবে সেটা আহামরি নয়। গত ২০-২৫ বছর আগে আমরা যেমন ছিলাম, এখন তার চাইতে অনেক ভাল অবস্থানে আছি ঠিকি। কিন্তু আমার মতে আমাদের আরো অনেক বেশি উন্নতির সুযোগ ছিল। এই জায়গাটিতে আমাদের সবচাইতে বড় কারন ধারাবাহিকতার অভাব।
দেখুন ১৯৯৭ তে আমরা আইসিসি ট্রফি জিতি, এরপর ১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলাম। ২০০০ সালে সাদা পোশাকে আমাদের পথচলা শুরু হয়। দেখুন এই ২০ বছরে আমাদের টেস্ট ফরম্যাটে খুব একটা উন্নতি হয়নি। টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে ১৩ বছর পার করে ফেললেও বলার মতো কোন প্রাপ্তি নেই আমাদের। অথচ গত ২০ বছরে আমাদের আরো উন্নতির সুযোগ ছিল। গত ২০ বছর আগের বাংলাদেশ আর এই মুহুর্তের বাংলাদেশ দলটিকে যদি তুলনা করি তাহলে আমার মতে আমাদের আরো উন্নতির সুযোগ ছিল।

প্রশ্ন: আপনার ক্রিকেটীয় অভিজ্ঞতার আলোকে আপনার কাছে জানতে চাই: আপনার চোখে টাইগারদের সেরা তিনটি ম্যাচ জয়ের কথা। যেগুলো এখন অব্দী আপনার  চোখে সেরা জয়ের অনুভুতি।

খন্দকার সালেক সুফী:  আমার চোখে বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা তিনটি জয় হচ্ছে, ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়ের ম্যাচ, ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়, এবং ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানো।
এই তিনটি ম্যাচের জয় আমাকে অনেক আনন্দ দিয়েছে।

প্রশ্ন: যুব বিশ্বকাপ জয়ী দলটিকে নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা কি? দলটি থেকে আজকের সাকিব-তামিম ও মুশফিকদের মতো সম্ভাবনাময় কাউকে চোখে পড়ে?

খন্দকার সালেক সুফী:  যুব বিশ্বকাপ জয়ী আকবর আলীর দলটি প্রচুর সম্ভাবনাময়। এই দলটিতে বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান ক্রিকেটার আমার চোখে পড়েছে। এই দলটিতে ২-৩ জন পেসার বাড়তি ভাবে আমার নজর কেড়েছে। এদের সঠিকভাবে পরিচর্যা করা গেলে ওরা দেশের ক্রিকেটকে অনেক কিছু দিতে পারে। আর অধিনায়ক আকবর আলী সত্যিই অসাধারণ। এছাড়া এই দলটিতে ইমন,তামিম, মাহমুদুল,তৌহিদের মতো ভাল ব্যাটসম্যান আছে যারা আগামীতে আরো পরিপক্ব হয়ে উঠবে। আশা করি যুব বিশ্বকাপ জয়ী এই দলটিকে বিসিবি যথাযথ পরিচর্যা করবে। আগামীতে এই দলটি থেকে সাকিব-তামিমদের মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটার বের হয়ে আসবে এতে কোন সন্দেহ নেই।

 

প্রশ্ন: বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের বর্তমান দলটি আপনার চোখে কেমন? আপনার চোখে বাঘিনীদের উন্নতির জায়গা গুলো কি? ওদের পারফরমেন্স নিয়ে যদি কিছু বলতেন।

খন্দকার সালেক সুফী:  বর্তমানের বাংলাদেশ প্রমীলা ক্রিকেট দলটি মোটামুটি ভাল একটি জায়গায় রয়েছে।
দলে বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান ক্রিকেটার রয়েছে যারা ধারাবাহিক ভাবে ভাল করে আসছে। প্রমীলা ক্রিকেটে আমরা কতটুক উন্নতি করেছি সেটা এশিয়া কাপ জিতে মেয়েরা প্রমাণ করেছে। তবে আমার কাছে ওদের স্টামিনায় একটু ঘাটতি চোখে পড়েছে। ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে ওদের আরো সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা উচিৎ। লক্ষ্য করলে দেখবেন ছেলেদের তূলনায় মেয়েদের সুযোগ সুবিধা অনেক কম। এই জায়গায় বৈষম্য থেকে বের হয়ে আসতে হবে। দেশের বাইরে মেয়েদের আরো বেশি বেশি সিরিজ খেলার সুযোগ করে দিতে হবে। আশা করছি এই মেয়েরা সামনে আরো ভাল করবে।

প্রশ্ন: অনলাইন ভিত্তিক বহু ক্রিকেট সমর্থক গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে বাংলাদেশে। কিছু ক্রিকেট সমর্থক গোষ্ঠী সাধারন ক্রিকেট প্রেমীদের আবেগ নিয়ে ব্যবসা করে আসছে।
এই ব্যাপারে একজন ক্রীড়ানুরাগী হিসেবে ক্রিকেট ফ্যানদের প্রতি আপনার বার্তা কি? আর সমর্থকদের আবেগ নিয়ে যারা অর্থ উপার্জন করে তাদের কি বলবেন?

খন্দকার সালেক সুফী: টাকা দিয়ে দেশের ক্রিকেটকে সমর্থন? দেশকে ভালবাসতে কিংবা ক্রিকেট ফ্যান হতে টাকা দিতে হবে কেন? এমন সমর্থন গোষ্ঠী গুলোর সঙ্গে যুক্ত না থেকে ব্যক্তিগত উদ্যেগে দেশের ক্রিকেটকে সমর্থন দিন। আমি যতটুক জানি যারা এসব ক্রিকেট সমর্থক গোষ্ঠীদের সদস্য হয় তাদের ম্যাক্সিমাম ছাত্র। এরা ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসা থেকে সমর্থনের জন্য যুক্ত হয় এদের সাথে। অথচ এদের এই ক্রিকেটের প্রতি আবেগকে পুজি করে  ব্যবসা করার ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক । তবে চাইলেই এসব আমি,আপনি বন্ধ করতে পারবো না। ক্রিকেট ফ্যানদের চিনে নিতে হবে এই অসাধু সংগঠন গুলোকে। তাই ক্রিকেট সমর্থকদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা দেশের ক্রিকেটকে সমর্থন দেওয়ার জন্য যদি কোন সমর্থন গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত হউন, তার আগে অবশ্যই খুব ভালভাবে সেই সংগঠন ও দেশের ক্রিকেটকে সমর্থনে ওদের কাজ গুলো ঠিক কেমন! এসব যাচাই বাছাই করে যুক্ত হবেন। যেসকল সমর্থক গোষ্ঠীতে যুক্ত থাকতে কয়েকদিন পরপর আপনাকে টাকা জোগান দিতে হবে এমন ব্যাবসায়ী ক্রিকেট সমর্থক গোষ্ঠী গুলোকে বয়কট করুন। কারন আপনারা দেশের ক্রিকেটকে ভালবাসেন! আর আপনাদের ক্রিকেটীয় আবেগ নিয়ে ব্যবসা করার অধিকার কারো নেই।

নিউজক্রিকেট টুয়েন্টিফোর / মারুফ ইসলাম ইফতি 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »