টেস্ট ক্রিকেট ও মাশরাফি

সুফিয়ান আল হাসান »

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

২০০৯ সাল, বাংলাদেশ দলের আর্ম ব্র্যান্ড উঠেছে কেবল মাশরাফির কাধে। নেতৃত্বের মুকুট পাওয়ার পরে মাশরাফির প্রথম এসাইনমেন্ট ক্যারিবিয়ান দ্বীপে, দল নিয়ে ছুটলেন সেই পথেই। বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ টেস্ট ক্যাপটেন এর দায়িত্ব পেলেন মাশরাফি। ৯ জুলাই ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে মাঠে গড়ালো মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচ। ক্যাপটেন হিসেবে টস করতে গিয়ে প্রথম ম্যাচেই জিতে নিলেন টস , অভিষিক্ত ক্যাপটেন মাশরাফির সিদ্ধান্তে ব্যাটিং করবে বাংলাদেশ। এদিন দলীয় সর্বোচ্চ রান টাও আসে অধীনায়কের ব্যাট থেকে, মাশরাফির ৫২ বলে ৩৯ রানে ভর করে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৩৮ রান। এবার বল হাতে লড়াই শুরু বাংলাদেশের, বল হাতে ৬ষ্ঠ ওভারের বোলিংয়ে অধিনায়ক। ৩য় বল করতে গিয়ে পড়ে গেলেন মাশরাফি, আবারো ইনজুরির কবলে ম্যাশ কিন্তু তিনি তো থেমে থাকার পাত্র না, আবারো ব্যাট হতে নেমে গেলেন দলের প্রয়োজনে, অদম্য মাশরাফির অধিনায়কত্বে সেই টেস্ট জিতলো বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাস হারিয়েছিল তার সেরা পেসারকে।

মাশরাফি বরাবরই বলে এসেছেন তার প্রিয় ফরম্যাট টেস্ট, টেস্ট ক্রিকেট কে তিনি আখ্যা দেন আসল ক্রিকেট নামে। কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস টেস্ট ক্রিকেট তাকে পছন্দ করেনি বেশিদিনের জন্য, ইনজুরি তাকে ছিটকে দিয়েছে প্রিয় টেস্ট থেকে। ঐ ম্যাচের পর আর মাশরাফির ফেরা হয়নি প্রিয় টেস্ট ক্রিকেটে। কিছু বিষয় থাকে যার নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতে থাকে না, যার নিয়ন্ত্রণ করেন সৃষ্টিকর্তা নিজ হাতে। মাশরাফি ইনজুরিতে পড়েছেন বারবার, আবার উঠেও দাঁড়িয়েছেন। যখন সবাই ভেবেছে এবার বুঝি শেষ তখনই আবারো মাশরাফি জানান দিয়েছে তিনি হারতে আসেননি, এসেছেন জয় করতে।

৮ নভেম্বর ২০০১, প্রিয় ফরম্যাট টেস্ট দিয়ে মিরপুরে অভিষেক, প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। প্রথম ম্যাচেই মাশরাফি জানান দিয়েছেন নিজের সামর্থ্যের, স্পিন সহায়ক উইকেটে গতির ঝড় তুলে ৪ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারের সূচনা বাংলাদেশ দলের পাগলার। বিশ্বকে সেদিন মাশরাফি জানান দিয়েছিল বাংলাদেশের বোলাররা পারে গতির ঝড় তুলতে। বৃষ্টিতে ম্যাচটি ড্র হলেও বাংলাদেশ পেয়েছিল এক জেনুইন পেসারকে। মাশরাফি বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার যিনি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার আগেই খেলেছেন জাতীয় দলে, বিশ্ব ক্রিকেটে এমন ক্রিকেটার আছে আর দুইজন মাত্র।

২০০১ থেকে ২০০৯ , মাশরাফি টেস্ট খেলেছেন ৩৬ টি,৫১ ইনিংসে বল করে তুলে নিয়েছেন ৭৮ উইকেট, ক্যারিয়ার সেরা ৬০ রানে চার উইকেট। ব্যাট হাতে ৬৭ ইনিংসে ৩ অর্ধশতকে করেছেন ১১৮৬ রান। বারবার ইনজুরি বাধা না দিলে অসম্ভব সুন্দর এর ক্যারিয়ার হতে পারতো মাশরাফির, বিশ্ব ক্রিকেট এবং টেস্ট ক্রিকেট পেতো অদম্য এক অলরাউন্ডারকে। কিন্তু ঐ যে ভাগ্য তার সহায় হলো না, প্রিয় সাদা পোষাকটা যে থাকতে চায় না তার বাহুডোরে, লাল বল টা তার হাত ছুয়ে ভাঙতে চায় না স্ট্যাম্প বারবার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »