টেস্ট ক্রিকেটে আমাদের আরো উন্নতির দরকার: খন্দকার জামিল

মারুফ ইসলাম ইফতি »

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

খন্দকার জামিল! বাংলাদেশ ক্রীড়া জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র গুলোর একজন। সফল এই ক্রীড়া সংগঠক দেশের ক্রিকেট ও ফুটবল উভয়ে খাতে ভুমিকা রেখে আসছেন বহু বছর ধরে। বিশিষ্ট এই ক্রীড়ানুরাগী ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক এই পরিচালক এসেছিলেন নিউজক্রিকেট টুয়েন্টিফোরের নিয়মিত লাইভ আড্ডায় অতিথি হয়ে। নিউজক্রিকেট টুয়েন্টিফোর আয়োজিত লাইভ আড্ডায় এই ক্রীড়া সংগঠক কথা বলেছেন দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। লাইভ আড্ডায় খন্দকার জামিলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য নিউজক্রিকেট টুয়েন্টিফোরের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

শৈশব ও কৈশোরে খন্দকার জামিলের খেলাধুলা সমন্ধে জানতে চাইলে, খেলাধুলার প্রতি ছোটবেলা থেকে মাত্রাতিরিক্ত দুর্বলতা এবং কৈশোর জীবনে ক্রিকেট-ফুটবল একসাথে ধাপিয়ে বেড়িয়ে খেলা! এসবের স্মৃতিচারন করে খন্দকার জামিল জানান:
ছোটবেলা থেকে খেলাধুলার প্রতি আমার প্রচুর দুর্বলতা ছিল। আমি ক্রিকেট ফুটবল দুইটাতে সমান পারদর্শী ছিলাম, আর একসাথে দুটোই খুব ভালভাবে ম্যান্টেইন করেছিলাম। আপনাদের জানিয়ে রাখা ভাল, আমি ক্রিকেট ফুটবল দুটোতে’ই সেকেন্ড ডিভিশন খেলেছি আমার পাড়ার ক্লাবের হয়ে। আমার শৈশব,কৈশোর এসব মোটামুটি খেলাধুলার ভিতর দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে।

একজন ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে আত্মপ্রকাশের শুরুর গল্পটা জানতে চাইলে খন্দকার জামিল জানান: আমি আমার পাড়ার যে ক্লাব থেকে শৈশব ও কৈশোরে খেলে এসছি “দীপালি ক্রীড়া যুব সংঘ” সেখানে পরবর্তীতে আমি একটি কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করি। ক্রীড়া সংগঠক হয়ে উঠার গল্পটা সেখান থেকে শুরু হয়েছিল। এরপর সেখান থেকে স্কাটুন সবুজ সংঘে যুক্ত হই, যেটি তখনকার সময়ে খুবই নামকরা ক্রীড়া সংগঠন। আমার ক্রীড়া সংগঠক হয়ে উঠার পিছনে স্কাটুন সবুজ সংঘের ভূমিকা অনেক। আর সবচাইতে বড় ভূমিকা যে ব্যক্তির তিনি হলেন আমার শ্রদ্মেয় প্রয়াত মানু ভাই। মানু ভাই আমাকে স্কাটুনে নিয়ে এসেছিলেন এবং আমাকে সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার দারুণ একটি প্লাটফর্ম করে দিয়েছিলেন। উনার অবদান কখনো ভুলার মতো না। আজ উনি আমাদের মাঝে নেই! আমি তার বিদেয়ী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। এরপর যখন সংগঠক হিসেবে সফলতা এবং অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকলো, তখন মহামেডানের মতো ঐতিহাসিক ক্লাবে ডিরেক্টর হয়ে কাজ করার সুযোগ হয় ১৯৯৫-৯৬ সালের দিকে,যেটা এখনো চলমান। এরপর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক হিসেবেও কাজ করার সুযোগ হয়। মুলত ধাপে ধাপে এইভাবে একজন ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে আত্মপ্রকাশ।

ক্রিকেট ও ফুটবলে আরো উন্নতির জন্য ইন্টার স্কুল ক্রিকেট-ফুটবল টুর্নামেন্ট গুলোর গুরুত্ব জানিয়ে খন্দকার জামিল বলেন: দেখুন বয়সভিত্তিক ইন্টার স্কুল টুর্নামেন্ট গুলোর ভুমিকা অনেক একটি দেশের ক্রীড়ায় উন্নতি করার জন্য। এসব টুর্নামেন্ট গুলোর মাধ্যমে অনেক প্রতিভা অন্বেষণ হয়। আগে একটা সময় ক্রিকেট-ফুটবল উভয় জায়গায় ইন্টার স্কুল টুর্নামেন্ট হতো, কিন্তু এখন আগের মতো সেটা আর চোখে পড়েনা। ক্রিকেটে ইন্টার স্কুল কিছু টুর্নামেন্ট মাঝেমধ্যে অনুষ্ঠিত হলেও ফুটবলে এটি হারিয়ে গেছে। তাই আমার ব্যক্তিগত অভিমত, এই জায়গা গুলো নিয়ে ভাবা উচিৎ দায়িত্বরতদের।

মহামেডানের দায়িত্বে থাকার সুবাদে নিউজক্রিকেট টুয়েন্টিফোর থেকে তার কাছে জানতে চাওয়া হয় একসময়ের ঐতিহাসিক ও সুনামধন্য ক্লাবটি এখন বর্তমান সময়ে রঙ হারানোর কারন?
এই ব্যাপারে নিজের বক্তব্যে খন্দকার জামিল জানান: হ্যাঁ আমরা বর্তমান সময়ে অনেক পিছিয়ে গেছি।
আর এর প্রধান কারন হচ্ছে অর্থ। আমাদের ক্লাব এই মুহুর্তে গুটি কয়েক ক্রীড়া সংগঠকের ডোনেশনের উপর ভিত্তি করে চলে। যেখানে অতিতে আমাদের ফান্ড সবসময় পরিপূর্ণ ছিল। অতিতে অনেক ক্রীড়া সংগঠক ও প্রতিষ্ঠান আর্থিক সহায়তা করলেও বর্তমানে আর সেই আগের অবস্থা নেই। মুলত আর্থিক ঘাটতির কারনে আমরা উন্নতির জায়গা গুলো নিয়ে কাজ করতে পারছি না। আমাদের কমিটিতে কোন সমস্যা নেই। আমাদের মুল সমস্যা হচ্ছে আমাদের ফান্ড না থাকা। আর এইজন্যই আমরা অনেকটা পিছিয়ে পড়েছি।

লাইভ আড্ডায় হঠাৎ খন্দকার জামিলকে সম্মান জানিয়ে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ!
বিদ্যুৎ এর মন্তব্যে খুশি হয়ে বিদ্যুৎকে ধন্যবাদ দেওয়ার পাশাপাশি লাইভ আড্ডায় প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তাকে। শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ ভুয়াসী প্রশংসা করে
তিনি আরো বলেন: বিদ্যুৎ আমার চোখে বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ওপেনারদের একজন।
সে আমাদের তামিমের লেভেলের প্লেয়ার ছিল। আমার খুব আক্ষেপ হয় তামিম-বিদ্যুৎ দুজনকে একসাথে ইনিংস উদ্বোধন করতে না দেখায়। দেখুন তামিমের যোগ্য পার্টনার আজ অব্দী পাওয়া যায়নি, কিন্তু আমার চোখে একমাত্র বিদ্যুৎ, যে কিনা তামিমের সাথে পাল্লা দিয়ে খেলার মতো যোগ্য একজন।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতির জায়গা গুলো নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন: আমাদের টেস্ট ফরম্যাটে উন্নতি করতে হবে। টেস্ট ফরম্যাটে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। ক্রিকেটে আপনার উন্নতির জায়গাটা মানুষ মুল্যয়ন করবে টেস্ট ফরম্যাটে আপনি কতটুক উন্নতি করেছেন তার উপর। তাই আমাদের টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি বাড়তি নজর দিতে হবে। যদিও বিসিবি যথাযথ ভাবে করছে দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য। প্লেয়ারদের জন্য সুযোগ সুবিধাও বাড়িয়েছে। ঘরোয়া লিগেও আগের তুলনায় উন্নতি দেখা যাচ্ছে। তবে আরো উন্নতির সুযোগ আছে ঘরোয়া ক্রিকেটে। আশা করি ঘরোয়া ক্রিকেটের টুর্নামেন্ট গুলোতে আরেকটু নজর দিলে টেস্টেও আমাদের দ্রুত উন্নতি হবে। আমার চোখে এই মুহুর্তে টেস্ট ফরম্যাটে উন্নতিটা খুব বেশি প্রয়োজন।

নিউজক্রিকেট / ইফতি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »