টেস্টে বিশ বছরঃ প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি

দুর্জয় দাশ গুপ্ত »

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফিরে যাওয়া যাক বিশ বছর পেছনে। ঠিক বিশ বছর আগের আজকের এই দিনে অর্থাৎ ২০০০ সালের ২৬ জুন ক্রিকেটের আভিজাত্য ফরম্যাট টেস্ট ক্রিকেটের মর্যাদা পায় বাংলাদেশ। লর্ডসে আইসিসির সভায় বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদার প্রস্তাব উত্থাপন করেন সে সময়কার বিসিবি সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। আইসিসির তৎকালীন সভাপতি ম্যালকম গ্রে বাংলাদেশকে টেস্ট ক্রিকেটের পূর্ণ মর্যাদা দিয়েছিলেন। তবে এই পুরো ব্যাপারটা মোটেও সহজ ছিলো না।

২০০০ সালের জুনে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর সেবছরই ১০ নভেম্বর টেস্ট আঙিনায় পা রাখে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হওয়া এই পথচলা ইতিমধ্যে পেরিয়েছে বিশ বছর।

১১৯ টেস্ট খেলে জয় এসেছে মাত্র ১৪ টি ম্যাচে। আর ড্র হয়েছে ১৬ টি। এর বিপরীতে হার ৮৯ ম্যাচে। পরিসংখ্যান বলে ৭৫ শতাংশ ম্যাচেই পরাজয় বরণ করেছে বাংলাদেশ।

অপ্রাপ্তির পাল্লাটাই ভারী সাদা পোষাকে। তবুও আছে কিছু প্রাপ্তি যেগুলো কিছুটা হলেও স্বস্তি দেয়। ঘরের মাটিতে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। একইসাথে জিতে নেয় সিরিজটাও। শুরুটা হয়েছিলো বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। এরপর ২০০৯ সালে বিদেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাদের মাঠে শততম টেস্টে জয়, লাল বলের ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দুই দল ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে হারানো, এসব স্মৃতি নিশ্চয়ই ভবিষ্যতে আরো ভালো করার প্রেরণা যোগাবে মুমিনুল হকের দলকে।

এই বিশ বছরে কি পেয়েছে বাংলাদেশ? শোনা যাক সাবেকদের মুখেই। সাবেক অধিনায়ক মোঃ আশরাফুল, জাভেদ ওমর বেলিম ও এনামুল হক জুনিয়রের কথা শুনেছে নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডট কম।

মোঃ আশরাফুলঃ টেস্ট ক্রিকেটে আমরা দল হিসেবে ভালো করতে পারিনি এটা অস্বীকার করা যাবে না। তবে এই ফরম্যাটে আমরা বেশ কিছু ক্রিকেটার পেয়েছি যেমন সাকিব, মুশফিক, তামিম, মুমিনুল। টেস্ট ক্রিকেটে সাকিব অনেকদিন অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানে ছিলো। মুশফিকের কথা যদি চিন্তা করি বিগত কয়েক বছরে তার এভারেজ দেখেন ৫০ এর উপরে। তামিম খুব ভালো করেছে। মুমিনুল টেস্ট ক্রিকেটে দারুণ করছে। কিন্তু একটা ব্যাপার হলো আমি নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাইনা। দেখা যায় অনেক মাস ৫ মাস কিংবা ৯ মাসেরও লম্বা বিরতি ছিলো। কাজেই আমাদেরকে নতুন করে আবার শুরু করতে হয়েছে। আমরা ১১৯ টেস্ট খেলে জয় পেয়েছি ১৪ টি ম্যাচে। অবশ্যই পরিসংখ্যান ভালো না। এটা ঠিক আমাদের আরো উন্নতি করা উচিত ছিলো। এখন যেভাবে ঘরোয়া ক্রিকেটে স্পোর্টিং উইকেট হচ্ছে, পেসারদের ভালো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে এভাবে এগিয়ে গেলে ভবিষ্যতে অবশ্যই ভালো ফল পাওয়া যাবে।

টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ব্যক্তিগত সেরা ইনিংস সম্পর্কে আশরাফুলের ভাষ্যঃ

নিজের সেরা ইনিংস বলতে আমি বলবো ভারতের বিপক্ষে ১৫৮ রানের সেই ইনিংসটা। তখনকার সময় ভারতীয় বোলিং অ্যাটাকের বিরুদ্ধে এমন একটি ইনিংস অবশ্যই অনেক বড় কিছু ছিলো। এছাড়া অভিষেক টেস্টের সেই সেঞ্চুরি এবং গল টেস্টে ১৯০ রানের ইনিংসটা অবশ্যই সেরা ছিলো। তবে আমি ভারতের বিপক্ষে সেই ইনিংসটাকেই এগিয়ে রাখবো।

জাভেদ ওমর বেলিমঃ প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেবে যাওয়ার আগে একটা সেরা মুহূর্তের কথা বলি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যে সিরিজটা আমরা জয় করেছিলাম অবশ্যই তখনকার অনুভূতি অন্য সবকিছুকে হার মানায়। প্রথম সবকিছুই সুন্দর হয়। এরপর আমাদের উচিত ছিলো আরো অনেক দূরে এগিয়ে যাওয়ার। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারিনি এমন না যে আমাদের উন্নতি হয়নি। তবে সময়ের হিসেবে গেলে খুবই নগণ্য। আমাদের উচিত ছিলো ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নতি করা আরোও, তবেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেটার ফল পাওয়া যেতো। আমাদের অপ্রাপ্তির পাল্লাটা আসলেই ভারী। তবে আমি বলবো এখন থেকে যদি আমরা চিন্তা করি এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে আরো ভালোভাবে নজর দেই তাহলে ভবিষ্যতে আরো ভালো হবে। দেশের বাইরের কন্ডিশনে ভালো করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। কাজেই সেই দিকটা মাথায় রেখে কাজ করে যেতে হবে। স্কুল ক্রিকেটে মনোযোগ দিতে হবে। লম্বা সংস্করণে খেলার অভ্যাস ছোট থেকেই করতে হবে। আমরা যখন শুরু করি তখন ঘরোয়া ক্রিকেটে তিন দিনের ম্যাচ খেলতাম। তাই আমাদের মানিয়ে নিতেও সময় লেগেছিলো। কাজেই এসব দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরী।

নিজের ব্যক্তিগত সেরা ইনিংস সম্পর্কে জাভেদ ওমর বেলিমের ভাষ্যঃ

আমি সেরা ইনিংসের কথা বলবো জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যে টেস্টটা আমরা ড্র করেছিলাম সে ম্যাচে ৪৩ রানের একটি ইনিংস খেলেছিলাম। টেস্ট ক্রিকেটের হিসেবে ৪৩ রান কিছুই না। কিন্তু ঐ ম্যাচটা ড্র করার জন্য আমি তখন লম্বা সময় ব্যাট করেছি। নাফিস ইকবালও খুব ভালো একটি ইনিংস খেলেছে। এরপরেও আমি এরচেয়ে বড় ইনিংস খেলেছি। তবে আমি ৪৩ রানের ইনিংসটাকেই বেছে নিবো।

এনামুল হক জুনিয়রঃ এই বিশ বছরে আমাদের প্রাপ্তি বলতে অল্প কয়েকটা টেস্ট ম্যাচ জয়। অপূর্ণতা অনেক আছে। যেভাবে এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো সেভাবে হয়নি। এর কারণ হলো সেভাবে আমরা তৈরি হতে পারিনি এবং একইসাথে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাইনি। টেস্ট ক্রিকেটের পরিবেশ অন্যান্য দেশে যেভাবে দ্রুত তৈরি হয় বাংলাদেশে কিন্তু সেভাবে হয়নি। প্রাপ্তির চেয়ে অপ্রাপ্তি বেশি। তারপরেও আমরা অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছি।

টেস্ট ক্রিকেটে নিজের সেরা মুহূর্ত সম্পর্কে এনামুল হক জুনিয়রের ভাষ্যঃ

অবশ্যই বলবো জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয়। নিজে পারফর্ম করতে পেরেছি বলে খুব ভালো লেগেছে। প্রথম জয়ের কথা সারাজীবন মনে থাকবে। এর বাইরে বলবো ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওদের মাটিতে সিরিজ হয়। অবশ্যই সহজ ছিলো না ব্যাপারটা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »