জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করলো রংপুর!

মমিনুল ইসলাম »

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ৩৯ তম ম্যাচে ও নিজেদের শেষ ম্যাচে ঢাকা প্লাটুনকে ১১ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করলো রংপুর রেঞ্জার্স ।

১৫০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে ঢাকা প্লাটুন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আল-আমিন জুনিয়রের দুর্দান্ত এক থ্রো তে ব্যক্তিগত ৫ রানে রানআউটে কাটা পড়ে আনামুল হক বিজয়। মুস্তাফিজ, জুনায়েদ, তাসকিন, গ্রেগরিদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাওয়ার প্লে তে ঢাকার স্কোরবোর্ডে সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৩৯ রান। বিজয়ের বিদায়ের মেহেদী ও তামিম জুটি গড়লেও তা কেবল দীর্ঘস্থায়ী হয় ৪৬ রানে।

পাওয়ার প্লের এক ওভার পরেই বিদায় নেন মেহেদী হাসান। ৩ চারের সাহায্যে ২৪ বলে ২০ রান করে আউট হন মেহেদী। মেহেদীর বিদায়ের পর বিদায় নেন তামিম ইকবাল ও। আরাফাত সানির বলে ৩৪ রান করে ফিরে যান তিনি। ৩৪ রানের মাঝে ছিলো ২ টি চার ও ১ টি ছয়। তামিমের বিদায়ের পর দীর্ঘস্থায়ী হয়নি মুমিনুল হকেরও ইনিংস। ভালোর শুরুর পরও ১৪ বলে ১৮ রান করে সাজঘরে ফিরেন।

শাদাব খান ও থিসারা পেরেরা জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও তা হয়নি। দলীয় ১০২ রানে ও ব্যক্তিগত ৮ রানে লুইস গ্রেগরির বলে লং অফে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন। আর তাতে চাপে পড়ে যায় মাশরাফির ঢাকা প্লাটুন। দুর্দান্ত ফর্মে আসিফ আলিও এদিন ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে পারেননি। তাসকিন আহমেদের বলে গ্রেগরির হাতে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফিরেন।

আসিফের বিদায়ের পরের বলেই শর্ট মিড অনে তাসকিনের বলে শাদাব খানের ক্যাচ মিস করেন শেন ওয়াটসন । এর পরের ওভারেই অবশ্য বিদায় নেন আরিফুল হক। এদিন ব্যর্থতার পরিচয় দেন ফাহিম আশরাফও। শেষদিকে মাশরাফির ১৩ বলে ১২ রান কেবল হারের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। রংপুরের পক্ষে দুটি করে উইকেট নেন জুনায়েদ খান, আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদ।

এর আগে টসে হেরে হেরে ব্যাট করতে করতে নামে রংপুর রেঞ্জার্স । টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে আবারও ব্যর্থতার পরিচয় দেন শেন ওয়াটসন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই মাশরাফির বলে বিজয়কে ক্যাচ দিয়ে ৮ বলে ১০ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। এদিক ক্যামেরন ডেলপোর্ট ও দাঁড়াতে পারেননি। মেহেদী হাসানের বলে ফিরে যান ৮ বলে ৬ রান করে। সাবধানী শুরুর পরও নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি নাইম শেখ। ১ ছয় ও ১ চারের সাহায্যে ২১ বলে ১৭ রান করে ফিরে যান শাদাব খানের বলে।

নাইম শেখের বিদায়ের পর দলের প্রতিরোধ গড়তে শুরু করেন লুইস গ্রেগরি ও আল-আমিন জুনিয়র। ৫ চার ও ২ ছক্কার সাহায্যে ৩২ বলে ৪৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে পেরেরার বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান। লুইস আউট হলে ভাঙ্গে আল-আমিনের সাথে ৪৯ রানের জুটি। লুইস গ্রেগরি বিদায় নিলে জহুরুল ইসলাম ও আল-আমিন মিলে তান্ডব শুরু করেন ঢাকার বোলারদের উপর। তবে তা বেশিক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হতে দেননি ঢাকার বোলাররা। আল-আমিন জুনিয়র ২৪ বলে ৩৫ ও জহুরুল ২৪ বলে ২৮ রান করে আউট হওয়ার পর আর কেউ দাঁড়াতে পারেননি। ইনিংসের শেষ তিন বলে চার উইকেট হারায় রংপুর রেঞ্জার্স ।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রান তোলে রংপুর রেঞ্জার্স। ঢাকার পক্ষে তিনটি উইকেট নেন থিসারা পেরেরা, ২ উইকেট নেন শাদাব খান আর একটি করে উইকেট নেন মাশরাফি ও মেহেদী হাসান।

স্কোরকার্ড :

ঢাকা প্লাটুন : ১১৩৮/৯ ( ওভার ২০) তামিম ৩৪, মেহেদী ২০, জুনায়েদ ২/২২, তাসকিন ২/২৫

রংপুর রেঞ্জার্স : ১৪৯/৯ ( ওভার ২০) গ্রেগরি ৪৬, আল-আমিন ৩৫, জহুরুল ২৮, পেরেরা ৩/২৩, শাদাব ২/২৫, মাশরাফি ১/১৭

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »