জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে প্রথম ফোনটা মা’কে করেছিলাম : এনামুল হক জুনিয়র

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এনামুল হক জুনিয়র! টাইগার ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম প্রতিভাবান স্লো লেফট আর্ম অর্থোডক্স স্পিনারদের একজন। ২০০৫ সালে তাঁর অসাধারণ বোলিং পারফরমেন্সের উপর ভর করে নিজেদের টেস্ট
ইতিহাসে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ।
২০০৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১৭ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় জুনিয়রের।
২০১৩ সালে সাদা পোশাকে দেশের হয়ে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। নিউজক্রিকেট টুয়েন্টিফোরের নিয়মিত লাইভ আড্ডায় অতিথি হয়ে এসে এনামুল হক জুনিয়র কথা বলেছেন নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে।

জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও দাপটের সাথে নিয়মিত খেলে যাচ্ছেন ঘরোয়া ক্রিকেট। ৩৩ বছর বয়সেও এইভাবে ফিটনেস চাঙা রাখার রহস্য জানতে চাইলে
নিউজক্রিকেটকে জুনিয়র জানান: আমরা প্লেয়াররা যখন একত্রিত হই, তখন আমরা আমাদের ফিটনেস নিয়ে আলোচনা করি। আমি মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ এদের ভিডিও দেখেও মোটিভেট হই। যেহেতু এখনো খেলছি ,তাই সবসময় এটা মাথায় রাখি, যেন কেউ ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে।কেউ যাতে অভিযোগ করতে না পারে, এনাম এখন ফিট না। আমি ফিটনেস নিয়ে সবসময় সিরিয়াস থাকার চেষ্টা করি। আর আমি মনে করি আমার ফিটনেস ন্যাশনাল টিমের ইয়াং প্লেয়ারদের কাছাকাছি।

টাইগারদের ইতিহাসে প্রথম টেস্ট জয়ের নায়ক ছিলেন তিনি। প্রথম টেস্ট জয়ে নিজের দারুন ভূমিকা ও অনুভুতি জানাতে গিয়ে নিউজক্রিকেটকে এনামুল হক জুনিয়র বলেন: আমাদের জন্য ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
তখন আমরা ৫ বছর টেস্ট ক্রিকেটে পার করে ফেললেও কোন জয়ের দেখা পাইনি। কোন ম্যাচ জিততে না পারায় আমাদের টেস্ট স্টেটাস নিয়েও প্রশ্ন উঠছিল। যাক অবশেষে ওই ম্যাচ দিয়ে আমরা জিততে শুরু করলাম। প্রথম ম্যাচের জয়ে আমি ভূমিকা রাখতে পেরেছি, ম্যাচসেরা হয়েছি এটা আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। আগামী ১০০ বছর পরও মানুষ আমাদের এই প্রথম ম্যাচ জয়ের অর্জন গুলো মনে করবে।

১৫-২০ বছর আগে! তখনকার সময়ে প্রেকটিস সুযোগ সুবিধা ও বর্তমান সময়ে সুযোগ সুবিধার মধ্যে পার্থক্য দেখাতে গিয়ে জুনিয়র বলেন: আমাদের সময়ে প্রেকটিস সুযোগ সুবিধা আর এখনকার সুযোগ সুবিধার মধ্যে আকাশপাতাল ব্যবধান রয়েছে। ২০০২-২০০৩ ওই সময়ে আমরা অনুশীলনে এসে নিজে নিজে নেটে বোলিং করতে থাকতাম। আমাদের ওইভাবে গাইড করার মতো, শিখিয়ে দেওয়ার মতো তেমন কেউ ছিল না। এখনকার চিত্র অনুযায়ী ফিটনেস নিয়ে কাজ করার সুযোগ সুবিধাও তখন কম ছিল। আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন, এখন আমাদের প্লেয়ারদের জন্য প্রেকটিস, জিম, ফিটনেস ঠিক রাখার সকল সুযোগ সুবিধা আন্তর্জাতিক মানের। আমাদের সময় চিত্রটা এইরকম ছিল না।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে অভিষেক। বিখ্যাত ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বল হাতে আলো ছড়ানো! মধুর সেই অভিজ্ঞতার গল্প জানাতে গিয়ে এনামুল হক জুনিয়র জানান:

আমার কাছে পুরো সময়টা স্বপ্নের মতো ছিল। আমি কল্পনাও করিনি এত অল্প বয়সে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ হবে। প্রেকটিস ম্যাচে যখন ইংলিশ লিজেন্ডদের বিপক্ষে বল করছিলাম তখনও বিশ্বাস হচ্ছিল না আমি ইংলিশ লিজেন্ডদের বিপক্ষে বল করছি। প্রেকটিস ম্যাচে বল হাতে পরপর ৪ উইকেট নিয়েছিলাম ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের। যখন জানতে পারলাম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজে আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলবো, তখন সবার প্রথমে আম্মাকে ফোন করে খুশির খবরটি দিই। তখন ফোন ছিল না আমার কাছে, ল্যান্ডফোনে আম্মাকে সবার আগে খবর জানাই, আর দোয়া চাই। আমার কাছে সমস্ত ব্যাপারটা স্বপ্নের মতো ছিল তখন। যাদের খেলা দেখে বড় হয়েছি, মাইকেল বন, গ্রাইম থট, মার্ক বুচার, স্টিভ হার্মিসন এর মতো ক্রিকেটারদের বিপক্ষে মাত্র ১৭ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা, এদের বিপক্ষে বল করা, উইকেট নেওয়া! সবকিছুই স্বপ্নের মতো ছিল।

বল ঘুরানোর ও  টার্নের  অসিম ক্ষমতা ছিল এনামের।
৯-১০ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উইকেটের পাল্লাটা আরেকটু ভারি হতে পারতো না?
এই ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নিউজক্রিকেট টুয়েন্টিফোরকে এনামুল হক জুনিয়র বলেন: আমি মোটামুটি বল ঘুরাতে পারি। আপনারা নিশ্চই জানেন টেস্ট ক্রিকেটে উইকেটের আচরন পরিবর্তন হতে ২-৩ দিন লেগেই যায়। ৫ম দিনের উইকেটে বল করার সুযোগ আমি খুব কম পেয়েছি, যে উইকেটে আমার বোলিং আরো কার্যকর হতে পারতো। আসলে আমরা খুব কম ম্যাচে প্রতিপক্ষকে দুইবার ব্যাট করতে দেখতাম। বেশিরভাগ ম্যাচে এক ইনিংসই বোলিংয়ের সুযোগ হতো আমাদের।তাই ওইভাবে বল ঘুরিয়ে উইকেট থেকে টার্ন সুবিধা নেওয়ার সুযোগও খুব কম হয়েছে। যদি উভয় ইনিংসে প্রতিপক্ষকে ব্যাটিং করানো যেতো, আর ম্যাচ ৫ম দিন পর্যন্ত মাঠে গড়াতো,তাহলে হয়তো উইকেট সংখ্যাটা আরো বাড়াতো।

তরুন ক্রিকেটারদের প্রতিভা বিকাশ করতে আরো বেশি ঘরোয়া ম্যাচ আয়োজন করা উচিৎ বলে মনে করেন এই ক্রিকেটার। এই ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জুনিয়র বলেন:  ইয়াং প্লেয়ারদের নিজেদের প্রমাণ করার জন্য আরো বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়া উচিৎ।তামিম-মুশফিকদের মতো আন্তর্জাতিক মানের ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বোলিং করার সুযোগ করে দিতে হবে নতুনদের। তবেই তাঁরা নিজেদের উন্নতি জায়গা গুলো বুঝতে শিখবে।ঘরোয়া লিগেও ম্যাচের সংখ্যা বাড়িয়ে আরো বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ হলে দেশের ক্রিকেটের জন্যই মঙ্গল।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে সর্বশেষ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন এনামুল হক জুনিয়র। দেশের হয়ে এখন অব্দী ১৫ টেস্টে ৪৪ উইকেট এবং ১০ ওয়ানডেতে ১৪ উইকেট নিজের ঝুলিতে নিয়েছেন এই স্পিনার।

নিউজক্রিকেট টুয়েন্টিফোর / মারুফ ইসলাম ইফতি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »