‘ক্রিকেট জুয়া’ নামক মোহে, ব্যাংকে জমাকৃত টাকার অবসান!

সানিউজ্জামান সরল »

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ক্রিকেট হল বাংলাদেশের মানুষের কাছে চরম এক ভালোলাগার জায়গা। এ নামটা জুড়ে রয়েছে হাজারো মানুষের আবেগ ও ভালোবাসা। আর এই পবিত্র ভালোবাসা ও আবেগ যেন সব কিছুর উর্ধ্বে। যেন সবকিছুকে ছাড়িয়ে ক্রিকেট নিয়ে মাতামাতিতেই ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করেন এ দেশের মানুষ। তবে ক্রিকেটের প্রতি অত্যাধিক এই ভালোবাসাটাই কখনো কখনো কাল হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি রাজশাহীতে ঘটে গেল এক আকস্মিক ঘটনা। যা সবাইকে চোখ কপালে উঠাতে বাধ্য করেছে।

‘ক্রিকেটে জুয়া’ এই নামটা সম্পর্কে মোটামুটি সকল পেশার মানুষই পরিচিত। সকল পেশার না হলেও, অন্তত ক্রিকেটপ্রেমী মানুষরা বেশ ভালোভাবেই এ বিষয়ে অবগত। হামেশাই নিউজের হেডহাইনগুলোতে দেখা/জানা যায়, ক্রিকেটের জুয়ার বিষয়টি। রাস্তার পাশে, টং দোকানগুলোতেও রয়েছে ক্রিকেট জুয়ার কদর। এখানে যেন ক্রিকেট জুয়া একেবারে হয়ে যায় জমে ক্ষীর। রাজধানী ঢাকাতেই এর প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে এবার সবকিছুকে ছাড়িয়ে বিস্ময়কর এক ঘটনার সাক্ষী হল, রাজশাহী বাসী।

 

প্রিমিয়ার ব্যাংকের রাজশাহী শাখার ব্যাংক অফিসার শামসুল ইসলাম ফয়সাল। অনলাইনের মাধ্যমে ক্রিকেট জুয়া শুরু করেন ফয়সাল। দিন যাওয়ার সাথে সাথে জুয়া খেলার প্রবণতাও ভেড়ে যাচ্ছিলো তার। সময় গড়ানোর সাথে সাথে ব্যাংকের ক্যাশ থেকে টাকাও খসাতে থাকেন তিনি। ক্রিকেট জুয়ার নেশায় যেব গ্রাস করে নিয়েছিলো তাকে। ব্যাংকের ক্যাশ থেকে দিনে দিনে তিন কোটি টাকা উধাও করে ফেলেছেন ফয়সাল। সপ্তাহ ভিত্তিক এক হিসাবে ক্যাশ থেকে তিন কোটি টাকা উধায়ের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ফয়সালের কাছ থেকে উধাও হওয়া এই টাকা উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়।

 

ফয়সালের কাছে থেকে টাকা তুলতে ব্যর্থ হওয়া ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে স্থানীয় বোয়ালিয়ে মডেল থানায় মামলা করে। পরবর্তীতে বোয়ালিয়া মডেল থানার পুলিশ ফয়সালকে নিজেদের কব্জায় করে নেয়। আর এরপরই টাকা আত্মসাতের বিষয়টি সম্পর্কে জানা যায়। ধরা পড়ার পর নিজের টাকা দিয়ে আত্মসাতের এই অর্থ পূরণ করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয় ফয়সাল। কেননা তিন কোটি পরিমাণ টাকা তার কাছে তখন ছিল না। ক্যাশ অফিসার ফয়সাল সম্পর্কে এমন তথ্যই জানিয়েছেন, সেখানকার পুলিশরা।

রিমান্ডে থাকা ফয়সালের বয়ান ও ব্যাংকের হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৮ সালের শুরু থেকেই ব্যাংকের ক্যাশের মাধ্যমে অনলাইনের মাধ্যমে ক্রিকেট জুয়া খেলতেন। এই জুয়া খেলা শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে ১ কোটি শেষ করে ফেলেন ফয়সাল। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে আরো ২ কোটি টাকা হারিয়ে বসেন তিনি। এভাবেই অনলাইনে জুয়া খেকার মাধ্যমেই ধাপে ধাপে ৩ কোটি টাকা খসিয়ে ফেলেন ফয়সাল।

 

ফয়সাল সম্পর্কে আরো তথ্য পেতে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ‘গ্রেফতারের পর ক্যাশ অফিসার ফয়সালকে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, ৩ কোটি টাকার মধ্যে ২ কোটি টাকা তার দুই বন্দুকে হস্তান্তর ও ১ কোটি টাকা নিজের ব্যাংক একাউন্টে জমা রেখেছেন। তবে ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে, টাকা হস্তান্তরের কোন প্রমাণ পায়নি পুলিশ।’

প্রসঙ্গত, ক্রিকেট জুয়ার নেশাটা অনেক আগে থেকে ফয়সালের ভেতরে বিদ্যমান ছিল। অনলাইনে জুয়া খেলার মাধ্যমে নিজেরও অনেক টাকা শেষ করেছেন তিনি। নিজের ঝুলি ফাঁকা করার পর, তিনি ব্যাংকের ক্যাশ থেকে টাকা সরানো শুরু করেন এবং সেগুলোকে ডলার বানিয়ে অনলাইনে জুয়া খেলার মত জঘন্য এক নেশায় আসক্ত হন। যার ফলেই কিনা দিনে দিনে ৩ কোটি টাকা খসিয়ে ফেলেন তিনি। ফয়সালের এমন জঘন্য কাজে উপযুক্ত শাস্তির দাবী জানিয়ে মামলা করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পুলিশরা এরইমধ্যে, ফয়সালের যথাযথ ব্যবস্থাও শুরু করে দিয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »