কাপালীর একমাত্র শতকের এক যুগ

সুফিয়ান আল হাসান »

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গল্পটা আজ থেকে ঠিক এক যুগ আগের, তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট ছিলো এক সাদামাটা দল। জেমি সিডন্স এর তত্ত্বাবধানে তরুণদের নিয়ে বাংলাদেশ দলটা সবে গুছানো শুরু হয়েছে। এখনকার মতো এতো তারার মেলা ছিলো না দলটিতে। তামিম-মুশফিকরা তখন দলে নতুন, আশা যাওয়ার মধ্যে আছে। অভিজ্ঞ বলতে সেই দিলে মাশরাফি , রাজ্জাক আর অলক কাপালী। সেসময় বাংলাদেশের ক্রিকেট এর জন্য একটা শতক ছিলো অনেক বড় বিষয়, কালে ভাদ্রে ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে দেখা যেত শতক। আর সেই শতকে যে কি আনন্দ ক্রিকেটার আর দর্শকদের। আর সেই শতক যদি হয় ভারতের মতো দলের বিপক্ষে তাহলে তো কথাই নেই। হ্যাঁ সেই কঠিন কাজ টাই ঠিক একযুগ আগে ভারতের বিপক্ষে করে দেখিয়েছিলেন অলক কাপালী।

২০০৮ সালের ২৭ জুন, আশরাফুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ এশিয়া কাপের সুপার ফোরের লড়াইয়ে মুখোমুখি শক্তিশালী ভারতের। ম্যাচের ভাগ্য বাংলাদেশের পক্ষে কথা না বললেও শুরুর টস ভাগ্য কথা বলেছিল বাংলাদেশ অধিনায়ক আশরাফুলের পক্ষে। টস জিতে ব্যাটিং নিতে ভুল করেনি তিনি। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ৪র্থ ওভারেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। ১৯ রানের মাথায় প্যাভিলিয়নে ফিরেন নাজিমুদ্দিন। ব্যাটিংয়ে আসেন অধিনায়ক আশরাফুল, তামিমের সাথে গড়েন ৪৭ রানের জুটি গড়ে দলীয় ৬৬ রানে তিনিও ফিরে যান। দলের রানের খাতায় আরো ৩৬ রান যোগ হতেই ব্যক্তিগত ৫৫ রানে প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটেন দুর্দান্ত খেলতে থাকা তামিম। তামিম ফেরার ৩ ওভার পরই একই পথ ধরেন রাকিবুল। দলের সংগ্রহ তখন ৪ উইকেট হারিয়ে ১২০। ক্রিজে থাকা মুশফিকের সাথে জুটি গড়তে আসেন অলক কাপালি।

মুশফিক-কাপালির জুটি থেকে আসে ৪৯ রান। ব্যক্তিগত ২৫ রানে ফিরে যেতে হয় মুশফিককে। ২২ গজে থেকে যান কাপালী, আউট হওয়ার আগে নতুন ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহকে সাথে নিয়ে গড়েন ১১০ রানের বিশাল জুটি। এই ম্যাচ দিয়ে অলক কাপালি তুলে নেন তার ক্যারিয়ারের প্রথম এবং একমাত্র শতক। ১১৫ রানের ইনিংসটি খেলার পথে কাপালী হাঁকিয়েছেন ৫ টি বিশাল ছক্কা এবং ১০ টি চার। ১১৫ রান করতে খেলেছেন মাত্র ৯৬ টি বল।ব্যাটিং করেছেন ১১৯ স্টাইল রেট নিয়ে। এটিই তার ক্যারিয়ারের একমাত্র শতক। অলক কাপালীর এই স্মরনীয় ম্যাচের দিন বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিলো ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮৩।

২৮৪ রানের টার্গেট মোকাবেলা করতে নেমে রায়নার ১১৬ এবং গম্ভীরের ৯০ রানে ভর করে ৪০ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেট এর জয় তুলে নেয় ভারত।

ম্যাচটি বাংলাদেশ হারলেও অলক কাপালীর শতকে ম্যাচটি স্মরনীয় হয়ে থাকে বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে। ম্যাচটি স্মরনীয় হয়ে থাকবে অলক কাপালীর ছোট ক্রিকেট ক্যারিয়ারে। আজ এক যুগ পর যেমন ভক্তরা মনে করে অলকের সাহসী ব্যাটিং, তেমনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বরাবরি মনে রাখবে ইনিংসটি। সেই সময়ে এমন সাহসী ইনিংস খেলা কঠিনই ছিলো অলক কাপালীর জন্য।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »