fbpx

একজন কেভিন পিটারসেন

কামরুল হাসান রাকিশ »

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কেভিন পিটারসেন তিনি জন্মগতভাবে দক্ষিণ আফ্রিকান, বেড়ে উঠা ইংল্যান্ডে, জাতীয়তাও ইংলিশ। দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী বিশিষ্ট ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর বেশ সুনাম রয়েছে। ইংল্যান্ড দলের অন্যতম সদস্য কেভিন পিটারসন ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মাঝেমাঝে স্পিন বোলিং করে থাকেন। এছাড়াও কাউন্টি ক্রিকেট, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ আইপিএলে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসে এবং ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগে সেন্ট লুসিয়া জুকসের হয়ে খেলছেন। ফিল্ডিংয়ের সময় তিনি মূলতঃ গালি অথবা কভার অঞ্চলে দণ্ডায়মান থাকেন। সর্বোপরি একজন দীর্ঘকায়, নম্র-ভদ্র, ক্রিকেটীয় শৈলীতে ব্যাটিংয়ে অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমীর মন জয় করা জেন্টেলম্যান “কেপি, ক্যাপস, ক্যাপার্স” ডাকনামে পরিচিত কেভিন পিটারসেন।

১৯৮০ সালের আজকের এইদিনে ২৭ই জুন পিটারমারিৎজবার্গ, নাটাল প্রদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণ করেন কেপি। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চির দীর্ঘকায় খেলোয়ার যিনি তাঁর ক্রিকেটীয় শৈলীতে ক্রিকেট ইংল্যান্ডে এক শক্তিশালী জায়গা জুড়ে রয়েছেন। কখনো দলের মূল ব্যাটসম্যান ভরসার প্রতীক হয়ে, কখনো গালি পয়েন্টে মূল ফিল্ডার্সের প্রতীক হয়ে, কখনো বা হাতে তুলে নিয়েছিলেন বল। এভাবেই ক্রিকেট ইংল্যান্ডকে হাজারো স্মৃতিময় মূহুর্ত উপহার দেওয়া মানুষটির নাম কেপি।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ নাটালের পক্ষে ১৯৯৭ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এর পরেই তিনি ইংল্যান্ডে স্থানান্তরিত হন। এরপ্রেক্ষিতে তিনি জাতিগত কোটা পদ্ধতিতে তার অসন্তুষ্টির কথা ব্যক্ত করেন। তার ইংরেজ মা ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলার উপযোগী করে তোলেন। এর যোগ্যতা অর্জনের জন্য তাকে চার বছর কাউন্টি পর্যায়ের খেলায় অংশগ্রহণ করতে হয়েছে। এর পরপরই তিনি দ্রুত জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির জন্য ডাক পান।

২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ে দলের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত একদিনের আন্তর্জাতিকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে পিটারসনের। এর পরের বছর ২০০৫ সালের অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অংশগ্রহণের মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন তিনি।
জুন, ২০০৯ সালে লাফবোরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুশীলনী চলাকালে উদীয়মান রিস টপলির বোলিংয়ে আহত হন। এরপর পিটারসনকে দ্রুত লিচেস্টার রয়্যাল ইনফার্মারিতে প্রেরণ করা হয় এবং তার কানে সেলাই করতে হয়। এ ঘটনার পর টপলি’র আদর্শ পিটারসন তাকে স্বাক্ষর সম্বলিত ব্যাট উপহার দেন।

ইংল্যান্ড দল পিটারসনের ধারাবাহিক সাফল্যে উজ্জ্বীবিত হয়ে ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে তাকে শুধুমাত্র একটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। ১৭ জুন, ২০১০ তারিখে পিটারসন ঘোষণা করেন যে, তিনি হ্যাম্পশায়ার থেকে চলে যেতে ইচ্ছুক। এর পরপরই তিনি সারে দলের হয়ে ধারকৃত খেলোয়াড় হিসেবে বাকী মৌসুম চালিয়ে যান ও ২০১১ সাল থেকে স্থায়ীভাবে ঐ দলে যোগ দেন।

টেস্ট ক্রিকেট ও একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পিটারসন অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ৪ আগস্ট, ২০০৮ থেকে ৭ জানুয়ারি, ২০০৯ তারিখ পর্যন্ত ইংরেজ অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মাত্র তিনটি টেস্ট ও নয়টি ওডিআইযে অংশ নেন। দায়িত্ব থেকে অব্যহতিকালে একইদিনে ইংল্যান্ডের কোচ পিটার মুরেজও অব্যহতি নেন। ইসিবি’র সাথে তার সম্পর্কের তেমন উত্তোরণ ঘটেনি। ২০১২ সালে সময়সূচীর সাথে একাত্মতা পোষণ না করায় ৩১ মে তারিখে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সকল ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে তিনি অবসরের চিন্তা-ভাবনা থেকে দূরে সরে আসেন এবং ইসিবি ও দলীয় খেলোয়াড়দের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে উঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত সিরিজে। তবে, তিনি সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টে দল থেকে বাদ পড়ে যান।

ক্রিকেটীয় জীবনে অনেকবার বিতর্ক কিংবা না অভিযোগে বিতর্কিত হয়েছিলেন তিনি। ২০০৯ সালের শুরুতে ভারত সফরে টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিকে সিরিজ হারলে ইসিবি ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেভিন পিটারসনকে জরুরী সভায় তলব করে ও দলে মুরেজের কোচিংয়ের মান ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরদিন পিটারসন গণমাধ্যমে ঐ সভায় দলের ‘অস্বাস্থ্যকর অবস্থার’ কথা তুলে ধরেন ও শীঘ্রই মুরেজকে কোচের পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে বলে জানান। দলের প্রশিক্ষণ, সম্ভাব্য ও সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনকে সামনের ওয়েস্ট সফরে অধিনায়ক হিসেবে মনোনয়ন ইত্যাদি বিষয়ে মুরেজ ও পিটারসনের মধ্যে দ্বন্দ্ব লেগেই থাকতো। ফলশ্রুতিতে ৭ জানুয়ারি, ২০০৯ তারিখে মুরজে কোচের দায়িত্ব থেকে ইসিবি অব্যহতি দেয় ও পিটারসন অধিনায়ক থেকে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের অব্যবহিত পরই ইংরেজ ক্রিকেটের সাথে জড়িত বেশ কয়েকজন ধারাভাষ্যকার মনে করেন, মুরেজের পদত্যাগের বিষয়ে পিটারসন উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন। কয়েকদিন পর এক স্বাক্ষাৎকারে পিটারসন জানান যে, অধিনায়কের পদ থেকে অব্যহতির ইচ্ছে না থাকলেও ইসিবি কর্মকর্তাগণ তাকে পদচ্যুতির কথা জানিয়েছিলেন। তবে, ইসিবি’র সহ-সভাপতি ডেনিস অ্যামিস পিটারসনের বক্তব্যকে উদ্বৃতি দিয়ে জানান যে, মুরেজের পদত্যাগের বিষয়টি তিনি ফাঁস করেননি। অ্যামিস বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি না যে, কেভিন পিটারসন তথ্য ফাঁস করেছেন। তাঁর আবেগ তাড়নার ফলেই অন্যান্য সুবিধাবাদী গোষ্ঠী কাজে লাগিয়েছে। দলের অধিনায়কের দায়িত্বে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নাম পরবর্তীকালে ঘোষণা করা হয়েছিল।
ক্রিকেটকে ক্রিকেটের মতই ব্যবহার করেছিলেন তিনি, নিজেকে সবসময়ই এক অদম্য খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় দিতেই ভালোবাসতেন তিনি। টেস্ট, টি-টোয়েন্টি, একদিনের ক্রিকেট কিংবা ঘরোয়া লীগ, বহির্বিশ্বে অসংখ্য ক্রিকেট লীগে নাম লিখিয়ে ক্রিকেট জীবনে নিজের সুনাম অর্জন করেছেন তিনি।

আজ এই ইংলিশম্যানের জন্মদিন, জন্মদিনের অনেক ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা রইল।

শুভ জন্মদিন মিস্টার ২৪, কেপি, ক্যাপস, ক্যাপার্স ডাকনামে সর্বত্র পরিচিত, ১.৯৩ মিটার উচ্চতায় ডানহাতি ব্যাটসম্যান, ডানহাতি অফ ব্রেক বোলার, সাবেক অধিনায়ক কেভিন পিটার পিটারসেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »