উইন্ডিজকে লয়েডের খোলা চিঠি –

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

নিজেদের ক্রিকেটের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ছাড়াই দল নিয়ে বাংলাদেশের এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। এ কারণেই এই দলটাকে সাহস যোগাতে দেশে বসে খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন সাবেক উইন্ডিজ অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড। অনভিজ্ঞদের ওপরে বিশ্বাস রেখে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের উদাহরণ দিয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের ঐতিহ্য মনে করিয়ে দিয়ে বর্তমানের আনকোরা দলটিকে উৎসাহ দিয়েছেন প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লয়েড। ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্যে ৭৬ বছর বয়সী এই কিংবদন্তির লেখা খোলা চিঠি হলো:

“প্রিয় ছেলেরা,
আমি ভেবেছি তোমাদেরকে আমার এই বার্তাটা পাঠানো উচিত কারণ আমি জানি, তোমরা এমন একটা সফরে গিয়েছে যেটার জন্য হয়তো তোমরা প্রস্তুত ছিলে না। তোমাদের মনে হতে পারে তোমাদেরকে গভীর সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকেই তোমাদের কাছে খুব ভালো কিছু আশা করা হচ্ছে। তোমাকে এটা বুঝতে হবে যে এই সুযোগের মাধ্যমে তুমি ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করতে পারবে বরং এমন নয় যে অন্যের পরিবর্তে জায়গা পূরণ করবে। তোমার মেধার ভিত্তিতেই তোমাকে নির্বাচন করা হয়েছে। এটাই তোমার গন্তব্য। এই তোমার সুযোগ। তোমার প্রতিভা ও দক্ষতা বিশ্বকে দেখানোর এটাই উপযুক্ত সময় এবং এটাও প্রমাণ করার যে তুমি দ্বিতীয় সারির ক্রিকেটার নও। এই সুযোগে তোমাকে দায়িত্বের প্রমাণ দিতে হবে।

১৯৬৬ সালে আমি মূল টেস্ট দলে জায়গা পেয়েছিলাম না। অকস্মাৎ, সেইমর নার্স চোটে পড়েছিল এবং প্রথম টেস্ট ম্যাচের মাত্র ৪৫ মিনিট আগে আমি জেনেছিলাম যে আমি ম্যাচটি খেলব। তারপরে আমি টানা ৩৫টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলাম কারণ আমি ভালো পারফর্ম করেছিলাম। আমরা সিরিজটি জিতেছিলাম। দেখো, সেখানে আমি সুযোগ পেয়েছিলাম নিজের প্রতিভা ও সামর্থ্য দেখানোর এবং সেটাকে আমি দুহাতে আঁকড়ে ধরেছিলাম। তাছাড়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে খেলা এই এলাকার নাগরিকের জন্য সর্বোচ্চ একটি সম্মানের কাজ। এটা আমি তখনও বিশ্বাস করতাম আর এখনও করি।

তোমরাও ঠিক এই অবস্থায় আছো। এটাই সুযোগ নিজেকে প্রমাণ করে দলের জন্য নির্বাচিত হওয়ার এবং গর্বের সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্লেজার ও কাপ পরার। তুমি বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেট দলের প্রতিনিধিত্ব করছো যাদের রেকর্ড গর্ব করার মতো। মনে রাখবে, আমরা মাত্র ৫ মিলিয়ন মানুষের দেশ।

আমাদের রেকর্ড : আমরা টানা ২৯টি টেস্ট অপরাজিত ছিলাম। টানা ১১টি জয় পেয়েছিলাম। টানা ১৭ বছর আমরা কোনো টেস্ট ম্যাচ হেরেছিলাম না।

এটা কেবলই আমাদের অতীতের কিছু রেকর্ড ও অর্জন। কঠোর পরিশ্রম, প্রতিজ্ঞা ও নিজেকে বুঝতে পারার সক্ষমতা থেকেই এই সফলতা এসেছিল। তাছাড়া আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিবো যে নিজের ফিটনেস আরও ভালো করো এবং ব্যাটসম্যান ও বোলার সবাই নিজেদের কৌশল ও দক্ষতাকে উন্নত করার চেষ্টা করো। আমার দল এটাই করেছিল এবং আমি নিশ্চিত তোমরাও তাই পারবে।

তোমাদের হাতে এখন সুযোগ আমাদের টেস্ট ম্যাচের রেটিং বৃদ্ধি করার এবং গৌরব ফিরিয়ে আনার। শুধু আমারই নয়, এটা পুরো ক্যারিবীয় অঞ্চলের প্রত্যাশা। তোমাদের জয় মানে তাদেরও জয়।

তোমাদের কাছে বাংলাদেশ সফর ভীতিকর মনে হতে পারে কিন্তু সেখানে ভালো করা তো অসম্ভবও না। এটাই উপযুক্ত সুযোগ। ক্রেইগ ব্রাথওয়েটের অধীনে তোমাদের দৃঢ়তা, পেশাদারিত্ব, তারুণ্য ও ত্যাগের বিনিময়েই টেস্ট ক্রিকেটে আমাদের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। আমি কিন্তু তোমাদের মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছি না,নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। আমি অধিনায়ক হওয়ার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ২০টিরও বেশি টেস্ট ম্যাচ হেরেছিল এবং নতুনভাবে শুরু করার একটা স্পষ্ট বার্তা ছিল। আমার দলেও অনেক অনভিজ্ঞ ক্রিকেটার ছিল, যেমন তোমাদের আছে। তবুও আমার দল চ্যালেঞ্জ নিয়ে খুব ভালো করেছিল। আমি নিশ্চিত তোমরাও দলটাকে নতুন করে গড়ে তুলবে। আমরা পেরেছিলাম কারণ আমরা নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। তোমরাও পারবে। নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখা হবে তোমাদের সাফল্যের প্রথম ধাপ।

আমি তোমাদেরকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, ‘উঁচুতে উঠতে হলে তোমার মানসিকতাও উঁচু হতে হবে। ইতিবাচক মনোভাব তোমাকে কঠিন সময়েও সাহায্য করবে এবং আমি নিশ্চিত এই সফরে তোমরা ঘুরে দাঁড়াবে।

পরিশেষে, অভিধানেও কিন্তু সাফল্য শব্দটা পরিশ্রমের আগেই আসে। তোমাদের প্রতি আমার শুভকামনা রইলো। দয়া করে মনে রাখবে, বেশির ভাগ মানুষকে মনে রাখা হয় তারা কতটা বাধা পার করে বড় হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »