“ইংল্যান্ডের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক”

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ক্রিকেটের জন্মভূমি বলা হয় ইংল্যান্ডকে। ক্রিকেট উৎপত্তির দেশ হলেও বিশ্বকাপটা ছিলো তাদের নাগালের বাইরেই। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কিছুতেই যেনো বিশ্বকাপ ছোঁয়ার আনন্দে ভাসতে পারছিলো না ইংরেজরা। তবে ২০১৯ সালে এসে, তাদের অপূর্ণ ইচ্ছাটা যেনো পূরণ হয়। ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে, তাদের প্রথম বিশ্বকাপ জেতার আনন্দে ভাসে ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের মধ্য দিয়ে এবং সেটা অধিনায়ক ইয়ন মরগানের হাত ধরে। ফলে ইংল্যান্ডের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক বনে যান ইয়ন মরগান।

আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন শহরে ১৯৮৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন ‘ইয়ন জোসেফ জেরার্ড মরগান।’ ক্রিকেট শুরু করেছিলেন আয়ারল্যান্ডের হয়েই। আয়ারল্যান্ড জাতীয় দলে থাকাকালীন সময়ে পেয়েছিলেন সেঞ্চুরির দেখাও। টেস্ট খেলার ইচ্ছা থেকে তিনি পাড়ি জমান ইংরেজ রাজ্যে। খেলা শুরু করেন ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের হয়ে। সাফল্যও পেতে থাকেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে চলে যান রেকর্ড বুকে, “ক্রিকেট ইতিহাসে একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে দুই দেশের হয়ে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন।” ব্যাটিং দৃঢ়তা দেখিয়ে ধীরে ধীরে হয়ে উঠেন ইংল্যান্ড দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং অধিনায়ক। অধিনায়ক হওয়ার পরের গল্পটা সবারই জানা। ২০১৫ সালে দলীয় পারফরম্যান্সে ব্যার্থতার এক অধ্যায় পাড় করেন ইংল্যান্ড। আর ২০১৫ সালের পরপরই দলকে ঢেলে সাজান এবং দীর্ঘমেয়াদী এক পরিকল্পনা করেন ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। ফলাফলটাও পেয়ে যান চার বছর পর বিশ্বকাপ জেতার মাধ্যমে। ইংল্যান্ডের ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ জেতার পেছনে, দলের অন্যতম কান্ডারি হিসেবে ছিলেন অধিনায়ক ইয়ন মরগান। তার বুদ্ধিদীপ্ত ও কৌশলী অধিনায়কত্বের ফলেই ইংল্যান্ড তাদের প্রথম বিশ্বকাপ জেতার স্বাদ পান।

মরগানের অভিষেকঃ-

★ টেস্ট অভিষেকটা হয়েছিলো বাংলাদেশের বিপক্ষে। ইংল্যান্ডের ৬৪৯ নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে ২০১০ সালের ২৭ মে থেকে সাদা পোশাকের যাত্রা শুরু করেন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারটা বেশি দীর্ঘ করতে পারেন নি। ১৬ ম্যাচ ৩০.৪৩ গড়ে করেছেন ৭০০ রান। যেখানে ছিলো ২টি শতক ও ৩টি অর্ধশত রানের ইনিংস। সর্বোচ্চ রান করেছেন ১৩০। ২০১২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেছিলেন শেষ টেস্ট ম্যাচ।

★ ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেকটা তার আয়ারল্যান্ডের হয়ে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০৬ সালের ৫ আগস্ট আয়ারল্যান্ডের ২০৮ নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিষেক হয় তার। ২৩৩ ম্যাচ খেলে ৩৯.৫১ গড়ে রান পান ৭৩৪৮। যেখানে আছে ১৩টা শতক এবং ৪৬টা অর্ধশত রান। সর্বোচ্চ রান করেছেন ১৪৮। সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

★ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪৫ নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে ইংল্যান্ড দলে ২০০৯ সালের ৫ জুন অভিষেক হয় মরগানের এবং সেটা নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। এ পর্যন্ত ৮১ ম্যাচ খেলে ২৮.৭৩ গড়ে ১৮১০ রান তুলেন তিনি। যেখানে আছে ১০টি অর্ধশত রানের ইনিংস। সর্বোচ্চ রান করেছেন ৮৫। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ২০১৯ সালের ৫ মে, পাকিস্তানের বিপক্ষে।

নিজ দেশের জাতীয় দল থেকে ইংল্যান্ডে আসার কারণ জানতে চাইলে মরগান সানডে টাইমসকে জানান, “আমার যখন ১৩ বছর বয়স, ঠিক তখন থেকেই আমি ইংল্যান্ডের পক্ষে ক্রিকেট খেলতে চেয়েছি। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ১০টি পূর্ণাঙ্গ সদস্যভূক্ত দেশ হিসেবে ইংল্যান্ড অন্যতম, যেখানে আয়ারল্যান্ড দল তৎকালীন সময়ে সহযোগী সদস্য দেশ হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলো। একমাত্র পূর্ণাঙ্গ সদস্যভূক্ত দেশগুলোই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টেস্ট ম্যাচসহ সকল স্তরের ক্রিকেটেই অংশগ্রহণ করতে পারে। এ সকল দিক বিবেচনা করে আমি ইংল্যান্ড দলে যোগদান করি। আর এটা আমি সবার সামনে বলতে কোনরূপ লজ্জ্বাবোধ করি না, কারণ সত্যিই এটা চেয়েছি। ক্রিকেটের সাথে সংশ্লিষ্ট নিজ দেশের ব্যক্তিরাও এতে একমত পোষণ করেছিলেন। তারা আমাকে বলেছিলেন, ‘সুন্দর খেলা প্রদর্শনে যদি তুমি তা করতে পারো তাহলে তা হবে অবিশ্বাস্য’। তাই আমার এ বিষয়ে কোনো লজ্জা হয়নি এমনকি আমার বাবাও কোনোরকম লজ্জা অনুভব করেননি।

মজার তথ্য হচ্ছে, মরগানের আগেও এক আইরিশ ইংল্যান্ডের হয়ে মাঠে নেমেছেন এবং তার সাথে সাথে সেঞ্চুরিও পেয়েছেন। আয়ারল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলা সেই ক্রিকেটারের নাম ফ্রেডরিক ফেন। ফ্রেডরিক ফেনের সেঞ্চুরি করার শতাধিক বছর পর, ২০১০ সালের জুলাই মাসে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে মরগান তার এই রেকর্ডের সামিল হয়।

ইয়ন মরগান সত্যিকারের একজন খেলোয়াড়। ক্রিকেটের প্রতি অত্যাধিক এই ভালোবাসা থেকেই, নিজ দেশ আয়ারল্যান্ড থেকে ইংল্যান্ড ক্রিকেটে যুক্ত হওয়া। ইংল্যান্ড জাতীয় দলে যুক্ত হয়ে পেয়েছেন, বিভিন্ন ধরনের সম্মান ও সাফল্য। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় সম্মান বা সাফল্য হচ্ছে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারা। এ যেনো “ইংল্যান্ড দলে এলেন, ইংল্যান্ড দলকে দেখলেন আর ইংল্যান্ড দলের হয়ে বিশ্বকাপ জয় করলেন” ঠিক এমন একটা উক্তি হয়ে গেলো!

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »