অভিজ্ঞ ও তারণ্যের প্রতি আস্থা রাখছেন রাজিন সালেহ-

নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডেস্ক »

আসন্ন বঙ্গবন্ধু বিপিএলের অষ্টম আসরের পর্দা উঠবে চলতি মাসের ২১ তারিখে। অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে মোটামুটি মানসম্মত একটি দল গড়েছে খুলনা টাইগার্স। মুশফিক,মাহাদি, সৌম্যের মতো দেশী প্রতিভাবান ক্রিকেটারের পাশাপাশি থিসারা পেরেরা, সিকান্দার রাজা ও রাজাপাকসের মতো বিদেশীরা আছে দলে। দলটির সহকারী কোচ রাজিন সালেহের মতে, অভিজ্ঞ ও তরুণ ক্রিকেটাররা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে, ফাইনালে পৌঁছানোও কঠিন কিছু না।নিজেদের পরিকল্পনা গুলো মাঠে সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে, ভাল কিছুই হবে বলে বিশ্বাস তার।

নিউজক্রিকেট টুয়েন্টিফোরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান খুলনা টাইগার্সের সহকারী কোচ রজিন সালেহ কথা বলেছেন আসন্ন বিপিএলে নিজেদের প্রত্যাশা ও পরিকল্পনা নিয়ে।

নিউজক্রিকেট: আসন্ন বিপিএলে খুলনা দলের সাথে কাজ করছেন কোচ হিসেবে। মোটামুটি মান সম্মত প্লেয়ারদের সমন্বয়ে গুছানো একটি দল খুলনার।মুশফিক, মাহাদি, সোম্য, জাকির, রাব্বিদের মতো দেশীয় প্রতিভাবান ক্রিকেয়ারদের পাশাপাশি থিসারা পেরেরা, সিকান্দার রাজার মতো বিদেশি ক্রিকেটার দলে আছে আপনার। আসন্ন বিপিএল নিয়ে আপনার দলের প্রতি আপনার প্রত্যাশা কেমন?

রাজিন সালেহ: দেখেন প্রত্যেকটা দলই চায় তার দল ফাইনাল খেলুক, চ্যাম্পিয়ন হোক। আমরাও এর ব্যতিক্রম নই। আমরাও চাই আসন্ন বিপিএলে ভাল করতে এবং ফাইনাল খেলতে।ছেলেরা যদি তাদের কাজ গুলো ঠিকঠাক ভাবে করতে পারে, আমরা ইনশাআল্লাহ ভাল করবো।

নিউজক্রিকেট: পেশাদার কোচিংয়ে মাশাআল্লাহ শুরু থেকেই আপনি ভাল সফল। নিজের জন্মস্থান সিলেটকে বহুবছর পর জাতীয় লিগের শিরোপা জিতালেন কিছুদিন আগে। গত বিপিএলে রাজশাহী কিংসকে শিরোপা জিতিয়েছেন। একজন পেশাদার কোচ হিসেবে কেমন উপভোগ করছেন এসব?
সাফল্যের জন্য, নিশ্চয়ই খুলনা টিমও আপনার দিকে চেয়ে থাকবে এবার। আসন্ন বিপিএলে শীর্ষদের জন্য কেমন পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন?

রাজিন সালেহঃ আপনি যে সেক্টরেই কাজ করেন না কেন, সবার প্রথমে আপনাকে ওই কাজটা এঞ্জয় করতে হবে। আপনি যদি আপনার কাজটা এঞ্জয় করেন তাহলে সেখানে বাড়তি একটা আত্মবিশ্বাস পেয়ে যাবেন। আমি ক্রিকেটের মানুষ, সারাজীবন মাঠেই খেলেছি, আর তাই মাঠে থাকটাই বেশি উপভোগ করি। সেই হিসেবে কোচিংটা দারুণ উপভোগ করছি। দীর্ঘ ১৮ বছর পর আমার জন্মস্থান সিলেট জাতীয় লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর আমি সেই দলের কোচ ছিলাম, আসলে এই অনুভূতিটা বলে বুঝানোর মতো না। সবমিলিয়ে আমি এই কোচিং পেশাটা দারুণ উপভোগ করছি, অনেক কিছু শিখছি অনেক কিছু শেখাচ্ছি।

আসন্ন বিপিএলে খুলনা দলের পরিকল্পনার সমন্ধে জানতে চেয়েছিলেন৷ দেখুন আমাদের দলে বিশ্বমানের কোচ আসবেন দক্ষিণ আফ্রিকান লিজেন্ড ল্যান্স ক্লুজনার। তিনি অনেক অভিজ্ঞ একজন কোচ। আমি আশা করি তার থেকে ছেলেরা অনেক কিছুই শিখবে। এছাড়া আমাদের দলে মুশফিক,সৌম্য, মাহাদির মতো জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার রয়েছে যাদের সামর্থ্য আছে ম্যাচের চেহারা বদলে দেওয়ার। এছাড়া থিসারা পেরেরা, সিকান্দার রাজা, রাজাপাকসের মতো ক্রিকেটার দলে আছে, এরাও এই ফরম্যাটে ভাল করে আসছে। দলের বেশিরভাগ দেশী প্লেয়ারদের সাথে আমার এর আগেও কাজ করার সুযোগ হয়েছে। আমি খুব ভালভাবে বুঝি ওদের সামর্থ্য ও শক্তির জায়গা গুলো। আমার সাথে তাদের বুঝাপড়াও দারুণ। একজন কোচ হিসেবে আমি চাইবো, যার যেটায় সামর্থ্য বেশি তার থেকে সেটা বের করে নিয়ে আসা। সবাই যদি নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক ভাবে করতে পারে, তাহলে আমার বিশ্বাস আমরা ভাল করবো।

নিউজক্রিকেট: ক্রিকেটের মানুষ,  অবসরের পরও ক্রিকেটের সাথেই আছেন কোচিং পেশায়। কেমন উপভোগ করেন এই কোচিং?

রাজিন সালেহঃ সত্যি কথা বলতে কি, এই কোচিং জগতটাই এমন যে, এখানে আপনার যেমন শীর্ষদের শেখানোর আছে তেমন নিজের জন্য শেখার মতোও অনেক কিছুই আছে।  দেখুন সিলেট ডিভিশন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এরা আমাকে অনেক কিছুই দিয়েছে আমার এই ক্রিকেট ক্যারিয়ারে। সিলেট ডিভিশন যদি আমাকে সুযোগ না দিতো তাহলে আমি কখনোই নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পেতাম না। সিলেট ডিভিশন আমাকে দেশে হয়ে খেলার একটা প্লাটফর্ম করে দিয়েছিল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আমাকে সুযোগ দিয়েছে দেশের জন্য প্রতিনিধিত্ব করার, অন্যথায় আমি রাজিন সালেহকে বিশ্ব ক্রিকেট কখনোই চিনতো না, জানতো না। সবকিছু মিলিয়ে আমারও দেশকে এবং দেশের ক্রিকেটকে কিছু দেওয়ার আছে। আমি সবসময় চেস্টা করি আমি ক্রিকেট থেকে যতটুক শিখেছি সেটা যেন তরুণ ক্রিকেটারদের সাথে সেয়ার করতে পারি।আমি তরুণদের নিয়ে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করি, কারণ এই জায়গা গুলোতে শেখানো ভাল স্পেস থাকে।সবমিলিয়ে এই কোচিং জগতটা আমি দারুণ উপভোগ করছি।

নিউজক্রিকেটঃ জাতীয় দলের হয়ে ৬৭ টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ক্যারিয়ার কি আরো লম্বা করার সুযোগ ছিল না। বিশেষ করে টেস্ট ফরম্যাটের জন্য আপনি ছিলেন খুব কার্যকর একজন ব্যাটসম্যান। ক্যারিয়ার আরো বেশি লম্বা করতে  না পারায় কোন আক্ষেপ কি কাজ করে?

রাজিন সালেহঃ আসলে যেটা চলে গেছে সেটার জন্য এই মুহুর্তে আক্ষেপ করে কোন লাভ নেই। আমি এখন আসলে এসব নিয়ে একদম ভাবি না। আল্লাহ আমার ভাগ্যে যতটুক রেখেছে আমি ততটুকুই খেলেছি। আমারও ইচ্ছে ছিল দেশের জন্য অনেক গুলো টেস্ট ম্যাচ খেলবো, দেশের জন্য কিছু করবো।  যদিও সেটা ওইভাবে হয়ে উঠেনি। এরপরও আমি আল্লাহর ইচ্ছায় যতটুক খেলেছি আমি তাতেই খুশি।

নিউজক্রিকেটঃ খুলনার বর্তমান দলটির প্রতি আপনার প্রত্যাশা কি? কোন ক্রিকেটারদের পারফর্মের দিকে তাকিয়ে থাকবেন? এই দলটিকে নিয়ে কতদূর যেতে চান?

রাজিন সালেহঃ যেমনটা আগেও বলেছি, প্রত্যেক দলের মতো আমরাও ফাইনাল খেলার লক্ষ্যে মাঠে নামবো। মুশফিক খুবই অভিজ্ঞ একজন ক্রিকেটার, সে বহুবছর ধরে জাতীয় দলকে সার্ভিস দিয়ে আসছে, এছাড়া সৌম্য,মাহাদি এরাও এই ফরম্যাটের জন্য দারুণ ক্রিকেটার। এছাড়া বিদেশী থিসারা পেরেরা, রাজাপাকশে, সিকান্দার রাজাদের মতো অভিজ্ঞ টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটার আছে আমাদের। এদের সামর্থ্য আছে ভাল করার। আমার চেষ্টা থাকবে, সবার থেকে ওদের সেরাটা বের করে নিয়ে আসা। আমি আশা করছি আমাদের এভিলিটি অনুযায়ী আমরা পারফর্ম করতে পারলে আমরা ইনশাআল্লাহ ফাইনাল খেলবো।

নিউজক্রিকেট: কোচিং পেশায় দারুণ সাফল্য পাচ্ছেন।
জাতীয় দলের সাথে কাজ করার সুযোগ পেলে কি করবেন?

রাজিন সালেহঃ আসলে সবারই স্বপ্ন থাকে ভাল কোন জায়গায় কাজ করার। আর সেটা যদি হয় জাতীয় দলের সঙ্গে, তাহলে তো কথাই নেই  আমারও ইচ্ছে আছে জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ হয়ে কাজ করার। আমার বিশ্বাস আমাকে যদি সুযোগ দেওয়া হয়, আমার অভিজ্ঞতা গুলো ছেলেদের সাথে ভাগাভাগি করে নিয়ে ভাল কিছুই উপহার দিতে পারবো। যদি কখনো সুযোগ আসে, আমি অবশ্যই জাতীয় দলের সাথে কাজ করবো।<

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »