fbpx

অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণেই ক্যারিয়ার আগায়নি প্রতিভাবান পেসার আশিকুর রহমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক »

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বর্তমান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গেম ডেভলপমেন্ট কোচ আশিকুর রহমান মজুমদার। মাত্র ৩৭ বছর বয়সেই কোচ বনে গিয়েছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক এই পেসার। কোচিং ক্যারিয়ারও অনেকটা বড় এই ক্রিকেটারের। খেলাধুলা নিয়ে অতিরিক্ত পরিশ্রমই আশিকুর রহমানের ক্যারিয়ারে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।

নিয়মিত গাইড লাইন এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে নেট বোলার না থাকার কারণে একসাথে অনেক ওভার বল করতে হতো। ভালোও লাগতো তার। তবে সেই ধকলটা সামলাতে পারেনি তার শরীর। কোমড়ের ইঞ্জুরিটা গাড়ো হয়ে যাওয়ায় ক্যারিয়ার থেমে যায় মাঝ পথেই৷ ক্রিকেট ভিত্তিক জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল “নিউজ ক্রিকেট ২৪” এর সাথে একটি লাইভ আড্ডায় নিজের ক্যারিয়ার থমকে যাওয়ার বর্ননা দিয়েছেন খোদ আশিকুর রহমান। আশিক বলেন, ‘আমি যখন খেলেছি পুরো ক্রিকেট বোর্ডের ফিজিও ছিলো ১ জন। ট্রেনারতো ছিলোইনা। ফিজিও ট্রেনার আবার ফিজিও ফিজিও৷ আমাদের ফিজিও ছিলো মিঠু ভাই। মিঠু ভাই আমাদের দেখাশোনা করতো। বর্তমানে কানাডায় আছেন। আমি কত ওভার বল করবো কিছুই ধারণা ছিলোনা। আমি যখন একাডেমিতে প্রাকটিস করতাম তখন প্রথম ব্যাটসম্যান থেকে শেষ পর্যন্ত। এর জন্য অতিরিক্ত বোলিং হয়ে যেতো আমার শরীর অনুযায়ী। পরবর্তীতে কয়েক দফা ইঞ্জুরিতে পরি। ইঞ্জুরিতে পরার পর ট্রিটমেন্ট নেই। এরপর আবার কামব্যাক করি।কিন্তু বোলিংয়ের সিমা অর্থাৎ প্রতি দিন কত বল করতে হবে বা প্রতি সপ্তাহে কত বল করতে হবে এই ধারণাটা ছিলোনা আমার। বল করে মজা পাইতাম বল করতাম। কিন্তু পরবর্তীতে এটা হিতে বিপরীত হয়। এর কারণেই অনেকবার ইঞ্জুরিতে পরেছি। আমি মাঝেমধ্যে সাইড অন অ্যাকশনে বোলিং করতাম। কিছুটা মিক্সড অ্যাকশন ছিলো। এতে কোমরের যে বায়ো মেকানিক ধারায় সমস্যা ছিলো। কাধ এবং হিপ একই লাইনে থাকতোনা। আমি বেশী বেশী প্রাকটিস করতাম। ভাবতাম বেশী প্রাকটিসই ভালো। আসলে কোয়ালিটি প্র্যাকটিস করতে হয় সেটা জানতামনা। আসলে ঐ সময় শরীরের রক্ত গরম ছিলো৷ একটা উৎসাহ থাকতো। গ্লামার। শচীন টেন্ডুলকারসহ বিভিন্ন খেলোয়াড়দের দেখে উৎসাহিত হতাম। সারাক্ষণ মাঠে পরে থাকতাম। খাওয়া মাঠেই হতো। পানি ঠিকমত খেতাম না। সারাক্ষণ খেলা আর খেলা। এই কারণে হয়তো বেশী পরিশ্রম হয়ে গিয়েছিলো। এজন্য পিঠে ব্যাথা দেখা দিয়েছিলো তাই (অনূর্ধ্ব-১৯) বিশ্বকাপ খেলে আসার পরে ১ বছর খেলতে পারিনি।’

ইঞ্জুরিতে পরলেও কিছুটা স্বস্তি এসেছিলো কোচ ইমরানের জন্য। সেবার ইঞ্জুরি আক্রান্ত খেলোয়াড়দের নিয়ে আলাদা ক্যাম্প করেন তিনি। তখনই আশিকুর রহমান শেখেন কিভাবে বেশী পরিশ্রম নয়। কোয়ালিটি পরিশ্রম করতে হয়। ফিরেও এসেছিলেন ক্রিকেটে বেশ ভালো ভাবেই৷ তবে ক্যারিয়ারে শুরুর দিকের ভুলের মাশুল দিতে হয়েছিলো আশিকুর রহমানকে। ইঞ্জুরির কারণেই খুর বেশী এগোয়নি তার ক্যারিয়ার। আশিকের ভাষায়,’ তখন ইমরান স্যার ইঞ্জুরি প্লেয়ারদের নিয়ে ক্যাম্প করেছিলো বিকেএসপিতে। ওখানে সাঁতার কাটাতো ইমরান স্যার তখন পিঠে ব্যাথাটা চলে যায়। মাশরাফি ছিলো ঐ ক্যাম্পে। তখন তিনি আমাদের গাইডলাইন দিতো। তখন আমার খেয়াল হয়েছে আসলে কত ওভার করা উচিৎ কত ওভার করা উচিৎ না। এর আগে যখন প্রাকটিস করতাম তখন এই জিনিসগুলো আসেনাই। ঘরোয়া ক্রিকেটে তখন এতো নেট বোলার ছিলোনা। আমরাই নেট বোলার হিসেবে কাজ করতাম।শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। ধীরে ধীরে জ্ঞানটা আসে। ২০০৫ সালে ভালো পারফর্ম করি৷ ডাক পাই।’

তবে নিজের ভুল খেকে নিজেকে শুধরালেও লম্বা করতে পারেননি ক্যারিয়ার। তবে বর্তমানে কোচের দ্বায়িত্বে থেকে সকলকেই এখন পরমর্শ দেন কোয়ালিটি প্র্যাকটিসের। নিজের শরীরের থেকে বেশি প্র্যাকটিস না করে শরীরের সাথে তাল মিলিয়ে প্র্যাকটিস করতে বলেন সকলকে। সাবেক এই পেসার বলেন, ‘এখন কোচিংয়ে ছেলেদের এগুলো বলি যে আমাদের ওজন যদি ২০ টন হয় তবে যেন ৯০ টন চাপ না দেই শরীরের উপরে। তাহলে কিন্তু এটা খুব একটা লাভজনক হয়না। ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়। এবং সিস্টেম মত যদি আমরা প্র্যাকটিস করি তাহলে আমরা আগাতে পারবো।’

নিউজক্রিকেট/কেএমএইচ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »