অনার্স বোর্ডে নামের চেয়ে হ্যাট্রিকের মূল্য বেশিঃ শাহাদাত

সাকিব শাওন »

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই গতি আর বাউন্স দিয়ে সবার নজরে আসেন পেসার শাহাদাত হোসেন। দিনের পর দিন ভালো পারফরম্যান্স দিয়ে দলে জায়গা করে নেন পাকাপোক্তভাবে। বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে প্রথম হ্যাট্রিক করেন শাহাদাত। ক্রিকেটের মক্কা যাকে বলা হয় সেই লর্ডসের অনার্স বোর্ডেও লিখিয়েছেন নিজের নাম। ক্যারিয়ারে নানা সময় বিতর্কে জড়ালেও চড়াই-উতরাই করে ফিরে এসেছেন আবার আগের রূপে। বর্তমানেও রয়েছেন মাঠের বাইরে আশা করছেন খুব তাড়াতাড়ি আবার মাঠে ফিরবেন। তিনি এটাও বিশ্বাস করেন বাংলাদেশ দলে তার এখনো অনেক কিছু দেওয়ার বাকি রয়েছে।

বর্তমানে করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর কারণে মাঠের ক্রিকেটার থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফ সবাই ঘরবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। আর এই অবসর সময়টাতে নিউজ ক্রিকেট ২৪ ডটকমের প্রতিবেদক সাকিব শাওনের সাথে মুঠোফোনে নিজের বর্তমান ক্যারিয়ারের কথা এবং ক্রিকেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন পেসার শাহাদাত হোসেন।

নিউজ ক্রিকেটঃ কোয়ারেন্টাইনের সময় কিভাবে অতিবাহিত করছেন?

শাহাদাত হোসেনঃ বাসাতেই আছি, পরিবারকে সময় দিচ্ছি। আর ফিটনেসের কথা চিন্তা করে কিছু কাজ করছি। বাসার নিচে বড় জায়গা রয়েছে সেখানে দৌড়াদৌড়ি করি।

নিউজ ক্রিকেটঃ নিজের নাম এখনো যখন অনার্স বোর্ডে দেখেন তখন কেমন অনুভূতি হয়?

শাহাদাত হোসেনঃ এটা অনেক আনন্দ দেয় আমাকে। প্রথম যখন অনার্স বোর্ড দেখলাম সেখানে বিশ্বের অনেক বড় বড় খেলোয়াড়ের নাম রয়েছে। তারপর সেই বোর্ডে আমার নাম যুক্ত করতে পেরে আমি গর্ববোধ করি। আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা এক প্রাপ্তি এটা।

নিউজ ক্রিকেটঃ ২০১২ এশিয়া কাপ ফাইনাল ম্যাচের স্মৃতি কি এখনো নাড়া দেয় আপনাকে?

শাহাদাত হোসেনঃ হ্যাঁ অবশ্যই, এশিয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচের স্মৃতি ভুলে যাওয়ার নয় কখনো, সবসময় মনে থাকবে। শেষ বলে আমি স্ট্রাইকে ছিলাম চেষ্টা করেছিলাম ম্যাচটি জেতানোর জন্য কিন্তু পারিনি। আর ওই শেষ বলটা অনেক ভালো বল ছিলো।

নিউজ ক্রিকেটঃ দেশের মধ্যে প্রিয় ক্রিকেটার সে?

শাহাদাত হোসেনঃ মুশফিকুর রহিম। সে অনেক পরিশ্রমী একজন ক্রিকেটার।

নিউজ ক্রিকেটঃ বর্তমানে সতীর্থদের যখন জাতীয় দলে খেলতে দেখেন তখন কোন খারাপ লাগা কাজ করে কি না?

শাহাদাত হোসেনঃ হ্যাঁ, খারাপ লাগা তো কাজ করেই। কারণ এখন যারা সতীর্থ রয়েছে জাতীয় দলে তাদের সাথেই ক্রিকেটের শুরু আমার। তারপর একসাথে বড় হয়েছি, অনেক দেশে ট্যুর করেছি একটু খারাপ লাগা তো আছেই।

নিউজ ক্রিকেটঃ আপনার ক্যারিয়ারের সেরা উইকেট কোনটি বলে আপনি মনে করেন?

শাহাদাত হোসেনঃ অনেক উইকেট রয়েছে পছন্দের তবে আমি বলবো রাহুল দ্রাবিড়ের উইকেটের কথা। তাকে বোল্ড করে প্যাভিলিয়নে পাঠিয়েছিলাম সেটাই আমার প্রিয় উইকেট।

নিউজ ক্রিকেটঃ আরো কত বছর ক্রিকেট চালিয়ে যেতে চান?

শাহাদাত হোসেনঃ ফিটনেস যতদিন ঠিক থাকবে ততদিন ক্রিকেট খেলা যাবো। তবে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত খেলার ইচ্ছা রয়েছে। সেই হিসাব করলে এখনো ৫/৬ বছর মাঠের ক্রিকেট চালিয়ে যেতে চাই।

নিউজ ক্রিকেটঃ ক্যারিয়ার শেষে নিজের নামের পাশে কত উইকেট দেখতে চান?

শাহাদাত হোসেনঃ চেষ্টা করবো যতটুকু সম্ভব বেশি উইকেট নেওয়ার। তবে টেস্ট ক্রিকেটে আমার নামের পাশে ১০০ উইকেট থাকলে বেশি খুশি হবো।

নিউজ ক্রিকেটঃ ওয়ানডে হ্যাট্রিক নাকি লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম কোনটিকে আপনি এগিয়ে রাখবেন?

শাহাদাত হোসেনঃ দুইটা দুই রকমের তবে দেশের হয়ে প্রথম ওয়ানডে হ্যাট্রিক টা বেশি আনন্দের। পাঁচ উইকেট তো অনেকবারই পেয়েছি। আর হ্যাট্রিক একবারই করেছি সেজন্য আমি হ্যাট্রিককে এগিয়ে রাখবো।

নিউজ ক্রিকেটঃ আপনার বোলিং আইডল কে?

শাহাদাত হোসেনঃ শোয়েব আক্তার। তাকে খুবই ভালো লাগতো এজন্য সে আমার আইডল।

নিউজ ক্রিকেটঃ ভুৃল শুধরানোর যদি কোন অপশন থাকতো তাহলে কোনটি আগে শুধরে নিতেন?

শাহাদাত হোসেনঃ অনেক রাগ তো আমার। সেজন্য চাইতাম নিজের রাগকে শুধরে নেওয়ার জন্য।

নিউজ ক্রিকেটঃ কোন নায়িকার সাথে ডিনারের যাওয়ার জন্য অফার পেলে কোন নায়িকাকে সঙ্গে নিবেন?

শাহাদাত হোসেনঃ আমার আগে প্রীতি জিন্তাকে ভালো লাগতো। তবে বর্তমান সময়ে আলিয়া বাটকে ভালো লাগে সেজন্য চাইবো তাকে ডিনারে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

নিউজ ক্রিকেটঃ মাঠে কোন ব্যাটসম্যানকে দেখলেই স্লেজিং করতে ইচ্ছা করে?

শাহাদাত হোসেনঃ ভারতের সব ব্যাটসম্যানকেই স্লেজ করতে ভালো লাগে। আলাদা করে বলতে গেলে বিরাট কোহলিকে দেখলেই স্লেজিং করতে ইচ্ছা করে। তবে মাঠে সবথেকে বেশি স্লেজিং করেছি মাহেলা জয়াবর্ধনেকে। তার সাথে সবসময় আমার একটা রেষারেষি চলতো।

নিউজ ক্রিকেটঃ নিষেধাজ্ঞা শেষে যখন দলে ফিরবেন তখন কতটা চ্যালেঞ্জ থাকবে নিজেকে আগের রূপে ফিরে পাওয়ার জন্য?

শাহাদাত হোসেনঃ সবসময়ই চ্যালেঞ্জ থাকে মাঠে ভালো করার জন্য। আর আমি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পছন্দ করি। চেষ্টা করছি নিজেকে সম্পূর্ণরূপে ফিট রাখতে। ইনশাআল্লাহ তাড়াতাড়ি মাঠে ফিরবো।

নিউজ ক্রিকেটঃ নিউজ ক্রিকেটকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা।

শাহাদাত হোসেনঃ আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ এবং একই সাথে নিউজ ক্রিকেটের সকল পাঠকদের জানাই শুভেচ্ছা।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »